লকডাউনে ল্যাব বন্ধ, গবেষক-পড়ুয়ারা সমস্যায়

সানি সরকার, শিলিগুড়ি : অনলাইনে উচ্চশিক্ষার দরজা খুললেও, সংকটে গবেষণা। লকডাউনের জেরে চরম সমস্যায় পড়েছেন বিজ্ঞান-প্রযুক্তির গবেষক-পড়ুয়ারা। বিজ্ঞান-প্রযুক্তি গবেষণা ল্যাব নির্ভর। বিশ্ববিদ্যালয়গুলির দরজা ১০ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকায় হাতে-কলমে শিক্ষা নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন গবেষক-পড়ুয়ারা। এর প্রভাব যে সুদূরপ্রসারী হতে চলেছে, তা স্বীকার করে নিয়েছে শিক্ষক মহল।

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধক ডঃ দিলীপ সরকার বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণাকেন্দ্রিক পঠনপাঠন বন্ধ থাকায় রিসার্চ পেপার নির্দিষ্ট সময়ে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের সমস্যায় পড়তে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ল্যাবগুলিকে সচল রাখাটাই গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজের ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। প্রসঙ্গত, শুধুমাত্র উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্যেক বছর বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে ১,২৫০ জন গবেষণা করার অনুমতি পেয়ে থাকেন।

- Advertisement -

করোনার প্রভাবে থমকে গিয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিজ্ঞাননির্ভর গবেষণা। যার বাইরে নেই উত্তরবঙ্গের গবেষক-পড়ুয়ারাও। ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় এখানকার কয়েক হাজার গবেষকপড়ুয়া। লকডাউনের জেরে দিনের পর দিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ল্যাবরেটরিগুলি বন্ধ থাকায় কীভাবে গবেষণার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবেন, বুঝে উঠতে পারছেন না কেউই। মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রক ১০ জুন পর্যন্ত সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি এবং যেহেতু বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা অনলাইন নির্ভর হয়ে পড়েছে অনেকটাই, তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সময়সীমা আরও বাড়তে পারে বলে অনেকের ধারণা। ফলে গবেষণার কাজে সমস্যা রয়ে যাবে। অধ্যাপকদের বক্তব্য, বিজ্ঞানবিষয়ক গবেষণায় ল্যাবে হাতে-কলমে শিক্ষা যেমন প্রয়োজন, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদানপ্রদান। স্যাটেলাইট ইনফরমেশন পাওয়া গেলেও, তা প্রেরণ বা তার থেকে নতুন তথ্য প্রকাশ করা অসম্ভব বর্তমান পরিস্থিতিতে। অর্থাৎ এক্সচেঞ্জ অফ এক্সপিরিয়েন্স সম্ভব নয়। ল্যাব ব্যবহার না হওয়ায় উদ্ভাবনী শক্তি বা এই সংক্রান্ত জ্ঞানের প্রকাশ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।

সবমিলিয়ে বেসিক রিসার্চ বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় অ্যাপ্লাইড রিসার্চ থমকে যাবে বলে মনে করছেন সিংহভাগ অধ্যাপক, বিজ্ঞানী। টি বোর্ডের পরামর্শদাতা তথা মাইক্রোবায়োলজিস্ট কৃষিবিজ্ঞানী ডঃ সুকুমার দেবনাথ বলেন, দিনের পর দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা বন্ধ থাকায় যে গবেষণার ক্ষেত্রে চরম সমস্যা হচ্ছে, তা অস্বীকার করা যাচ্ছে না। বেসিক আর অ্যাপ্লাইড রিসার্চের গতি নিঃসন্দেহে শ্লথ হবে। আর তার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। ধানের সংকরায়ণ নিয়ে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধীনে গবেষণা করছেন পঙ্কজ শীল। তিনি বলেন, গত ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের ধান সংগ্রহ করেছি। কিন্তু বৈশিষ্ট্য বা গুণাগুণ যাচাই করতে পারছি না ল্যাব বন্ধ থাকায়। এক গবেষক-পড়ুয়া জয়িতা সরকার বলেন, বিভিন্ন স্যাম্পেল সংগ্রহ করেছি। কিন্তু তা টেস্ট করতে পারছি না ল্যাব বন্ধ থাকায়।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশ অনুসারে গবেষকরা পাঁচ বছর সময় পেয়ে থাকেন গবেষণা এবং রিসার্চ পেপার জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে। ফলে এই সময়সীমা থেকে প্রায় তিনমাস বাদ গেলে, কী ক্ষতি হতে পারে? এই প্রশ্নের জবাবে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানি বিভাগের প্রধান ডঃ সুভাষচন্দ্র রায় বলেন, গবেষণার ক্ষেত্রে তিনদিনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধরে নেওয়া যাক একজন ব্যাকটিরিয়ার ডিজাইন সেটআপ করে রেখেছেন এবং তিনি আশা করছেন ৭০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট পাওয়ার। কিন্তু মাঝের একটা দিন নষ্ট হলে তাঁকে নতুন করে ডিজাইন সেটআপ করতে হবে। তবে কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা স্পষ্ট হবে আগামী ছয়মাস পর।