বেতন নেই, ক্ষোভ বাড়ছে গ্রামীণ সম্পদ কর্মীদের

412

কালচিনি: প্রায় চার মাস ধরে বেতন বন্ধ রয়েছে কালচিনি ব্লকের গ্ৰামীণ সম্পদ কর্মীদের। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও যাঁরা নিজেদের কর্তব্যে অবিচল থেকেছেন, তাঁরাই বেতন না পেয়ে চরম আর্থিক সংকটে ভুগছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ বাড়ছে ব্লকের গ্ৰামীণ সম্পদ কর্মী মহলে।

ব্লকের বেশ কয়েকজন গ্ৰামীণ সম্পদ কর্মী সংসার চালাতে তাঁদের বেতনের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। তাঁদের দু’বেলা খাবার জোটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেকেই বেতন সমস্যার সমাধান না হলে আন্দোলনের চিন্তা ভাবনা শুরু করেছেন। যদিও তাঁরা সুষ্ঠু নাগরিক পরিসেবা দেওয়ার পরও কেন বেতন পাচ্ছেন না তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে খবর নেই কোনও খবর নেই। এই বিষয়ে আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের সভাধিপতি শীলা দাস সরকার জানান, তাঁর কাছে এই বিষয়ে কোনও অভিযোগ নেই। তবে গ্ৰামীণ সম্পদ কর্মীরা কেন বেতন পাচ্ছেন না সেটা খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

- Advertisement -

গ্ৰামীণ সম্পদ কর্মী সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, কালচিনি ব্লকে ১১০ জন কর্মী নিযুক্ত থাকলেও অনেকেই সময়ে বেতন না পাওয়া, স্বল্প বেতন পাওয়ার সমস্যা থাকায় কাজ ছেড়ে দিয়েছেন। ব্লকে বর্তমানে প্রায় ৭০ জন কর্মী রয়েছেন। দিনে ১৭৫ টাকা হিসাবে মাসে ২০ দিন কাজ পান ওই কর্মীরা। ওই কর্মীদের একাংশ গ্ৰামে গ্ৰামে ঘুরে সোশ্যাল অডিটের কাজ করেন। বাকিরা গ্ৰামে ঘুরে পতঙ্গবাহী রোগ সম্পর্কে তথ্য সংগ্ৰহের পাশাপাশি ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার মতো পতঙ্গবাহী রোগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করেন। করোনা সংক্রমণের মধ্যেও ওই কর্মীরা কাজ করছেন। ফলে বেতন না পেয়ে অনেকের মধ্যেই ক্ষোভ জমছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মী জানান, এত অল্প বেতনে ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা কাজ করছেন। বেতন দ্রূত না পেলে তাঁরা আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। গ্ৰামীণ সম্পদ কর্মী সংগঠনের জেলা সভাপতি বিনয় সরকার বলেন, ‘জেলার অন্য ব্লকে বেতন সমস্যা দূর হলেও কালচিনি ব্লকে সমস্যা রয়েছে। আমরা জেলা পরিষদে বিষয়টি জানিয়েছি।’

জানা গিয়েছে, কর্মীদের মধ্যে যাঁরা তথ্য সংগ্ৰহের কাজ করছেন তাঁদের বেতন বন্ধ রয়েছে। সোশ্যাল অডিট বিভাগের জেলা কো-অর্ডিনেটর রাজদীপ মিত্র বলেন, ‘যাঁরা পতঙ্গবাহী রোগ নিয়ন্ত্রণে নিযুক্ত রয়েছে তাঁদের বেতন বকেয়া নেই।’ এই বিষয়ে কালচিনির বিডিও ভূষণ শেরপা জানান, এমন কোনও খবর তাঁর জানা নেই। তবে যাঁরা বেতন পাচ্ছেন না তাঁরা লিখিত অভিযোগ জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।