সংরক্ষণের খসড়া তালিকা প্রকাশ, প্রার্থী হতে পারছেন না মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি-বিরোধী দলনেতা

648

শিলিগুড়ি: ভোট আপাতত হচ্ছে না, কিন্তু শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের ভোটের জন্য নিয়ম মেনেই প্রস্তুতি শুরু করে দিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে মহকুমা পরিষদের বিভিন্ন আসন সংরক্ষণের খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের আসন সংরক্ষণের খসড়া তালিকা অনুযায়ী, বাম পরিচালিত বর্তমান বোর্ডের সভাধিপতি তাপস সরকার, বিরোধী দলনেতা তৃণমূলের কাজল ঘোষ সহ মোট ৭ জন নির্বাচিত সদস্য নিজের এলাকা থেকে ভোটে দাঁড়াতে পারছেন না। সভাধিপতি তাপস সরকার বলেন, ‘এটা খসড়া তালিকা। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়।‘ বিরোধী দলনেতা কাজল ঘোষ বলেন, ‘খসড়া তালিকা নিয়ে আমরা আলোচনা করব। কিছু বিষয় নিয়ে নিশ্চয়ই অভিযোগ জানানো হবে।‘

খসড়া তালিকা অনুযায়ী, শুধুমাত্র মহকুমা পরিষদের বর্তমান সদস্যদের মধ্যে সহকারি সভাধিপতি এবং সিপিএমের খড়িবাড়ির এক সদস্য এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ফাঁসিদেওয়া ব্লকের (আসন নম্বর-৮) একটি আসনে জয়ী প্রার্থী পুনরায় দাঁড়াতে পারবেন। তবে, রাজনৈতিক দলগুলির বক্তব্য, এটা সংরক্ষণের খসড়া তালিকা। এখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যক্তির বক্তব্য শুনবে কমিশন। তার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে। অর্থাৎ এই তালিকায় সংরক্ষণের হিসেব ওলোটপালট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিনই মহকুমা পরিষদের বাকি দুটি স্তর অর্থাৎ পঞ্চায়েত সমিতি এবং গ্রাম পঞ্চায়েতরও আসন সংরক্ষণের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অভাব, অভিযোগ জানাতে হবে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে।

- Advertisement -

সংরক্ষণের খসড়া তালিকা অনুযায়ী, আগামী ১৫ নভেম্বর মহকুমা পরিষদের বর্তমান বোর্ডের মেয়ার শেষ হচ্ছে। সেই মতো নিয়ম মেনেই তিন মাস আগে সংরক্ষণের খসড়া তালিকা প্রকাশ করল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। খসড়া তালিকা মোতাবেক, সভাধিপতি সিপিএমের তাপস সরকারের আসন অর্থাৎ মাটিগাড়া ১, ২ এবং আঠারোখাই গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে তৈরি (এসএমপি-৪) আসনটি এবার মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। অন্যদিকে, বিধাননগর-১, ২ গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে তৈরি মহকুমা পরিষদের ৯ নম্বর আসনটি তপশিলি উপজাতির মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হয়েছে। এর ফলে এই আসনের বর্তমান সদস্য তণমূলের কাজল ঘোষ প্রার্থী হতে পারছেন না। তবে, সহকারি সভাধিপতি ফরওয়ার্ড ব্লকের তাপসি রায় মণ্ডলের আসনটি সাধারণের জন্য রয়েছে। যার ফলে তাপসীদেবী এবারও প্রার্থী হতে পারবেন।

তবে, এই খসড়া তালিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্নও উঠেছে। তণমূলের একাংশের দাবি, ২০১৪ সালের ভোটার লিস্ট অনুযায়ী এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু ২০১৯ সালে লোকসভার যে নির্বাচন হয়েছে, সেখানে ভোটার, বুথের সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। কাজেই এই তালিকা সঠিকভাবে হয়নি।