অর্থনীতিতে আপাতমন্দা জানাল রিজার্ভ ব্যাংক, অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে দাবি নির্মলা সীতারামনের

344

নয়াদিল্লি: স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে প্রথমবার ভারতের অর্থনীতি আপাতত মন্দার কবলে। রিজার্ভ ব্যাংকের নাউকাস্ট নামের একটি সমীক্ষা রিপোর্টে এই কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের দাবি, বিভিন্ন সূচক দেখে এটা স্পষ্ট যে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। চলতি অর্থবর্ষের তৃতীয় কোয়ার্টারের পরিসংখ্যান সামনে এলে তা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

রিজার্ভ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মাইকেল পাত্রের নেতৃত্বাধীন কমিটির করা সমীক্ষার রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২০-২১ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় কোয়ার্টারে দেশের জিডিপি ৮.৬ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করবে ২৭ নভেম্বর। প্রথম কোয়ার্টারে দেশের জিডিপি সংকোচন হয়েছিল ২৩.৯ শতাংশ। পরপর দুটি কোয়ার্টারে জিডিপি সংকুচিত হলে অর্থনীতি মন্দার কবলে বলে ধরা হয়। আর যদি সেই মন্দা সাময়িক হয় অর্থাৎ তার রেশ কাটিয়ে অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে তবে তাকে টেকনিক্যাল রিসিশন বা আপাতমন্দা বলা হয়। চলতি অর্থবর্ষের তৃতীয় কোয়ার্টার থেকে অর্থনীতি বৃদ্ধির মুখ দেখতে পারে। আরবিআইয়ের সমীক্ষা রিপোর্টেই একে আপাতমন্দা হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সেটাই বলেছেন।

- Advertisement -

রিপোর্টে বলা হয়েছে, করোনা মহামারির কারণে সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে কঠিন সময় এসেছে। তার প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতে। লকডাউন পর্বের পর দেশের ব্যাংকগুলিতে জমার পরিমাণ বেড়েছে। আর্থিক কর্মকাণ্ড সচল হয়েছে। তৃতীয় অর্থাৎ অক্টোবর-ডিসেম্বর কোয়ার্টারে ফের বৃদ্ধির সরণিতে ফিরবে দেশ। অনেক অর্থনীতিবিদও এর সপক্ষে বক্তব্য রেখেছেন। তাঁরা বলছেন, মন্দার পরিস্থিতি খুব শীঘ্রই কেটে যাবে। দেশে গাড়ি বিক্রি বাড়ছে। ভোগ্যপণ্যের বাজার চাঙ্গা হয়েছে। উত্সবের মরশুমে কেনাকাটা বেড়েছে। আজ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন আত্মনির্ভর ভারত অভিযান ৩.০ প্রকল্প ঘোষণা করতে গিয়ে বলেন, মে মাসে আত্মনির্ভর ভারত অভিযান ১.০ এবং অক্টোবরে ২.০ প্রকল্প, দুই আর্থিক প্যাকেজের জেরেই অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। বৃহস্পতিবার নামী মূল্যায়ন সংস্থা মুডিজ জানিয়েছে, চলতি অর্থবর্ষে দেশের জিডিপি ৮.৯ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। এর আগে তাদের পূর্বাভাস ছিল, জিডিপি ৯.৬ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। এই পূর্বাভাস ছাঁটাইয়ের তথ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর দাবি, সরকারের পরিকল্পনামাফিক সিদ্ধান্তও পদক্ষেপেই অর্থনীতির হাল ফিরেছে।

যদিও নির্মলার এই দাবি মানতে নারাজ অনেক বিশেষজ্ঞই। তাঁরা বলছেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে রিজার্ভ ব্যাংকের ওপরই নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী সেভাবে কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ করতে পারেননি। কেন্দ্র যে প্যাকেজ দিচ্ছে তা মূলত ঋণনির্ভর। তার সুফল সাধারণ মানুষের হাতে সেভাবে পৌঁছোচ্ছে না। চাহিদা বাড়াতে হলে সাধারণ মানুষের হাতে খরচ করার মতো টাকা দিতে হবে। সরকারকেও খরচ বাড়াতে হবে। তবেই অর্থনীতি ছন্দে ফিরবে।

সরকারিভাবে রিজার্ভ ব্যাংকের রিপোর্টটি প্রকাশ না করা হলেও একে হাতিয়ার করে সরব হয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধি। তাঁর দাবি, ইতিহাসে প্রথমবার মন্দা শুরু হল দেশের অর্থনীতিতে। প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন পদক্ষেপই ভারতের শক্তিকে দুর্বলতায় পরিণত করেছে। সরব হয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল আম আদমি পার্টিও। এই কৃতিত্ব অর্জনের জন্য কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তাঁরা।