চালু হয়নি জলাধার, সমস্যায় রোগী ও বহু মানুষ

404

তুফানগঞ্জ: কমিউনিটি জলাধারের কাজ প্রায় দেড় বছর আগেই শেষ হলেও প্রশাসনের গাফিলতিতে এখনও হস্তান্তর না হওয়ায় পানীয় জল থেকে বঞ্চিত প্রায় ৬ হাজার বাসিন্দা। এই সংক্রান্ত খবর গত ৫ ফেব্রুয়ারি ও ১০ মে উত্তরবঙ্গ সংবাদে প্রকাশিত হয়েছিল। তখন ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস মিললেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। দ্রুত পরিষেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা গিয়েছে, করোনা পরিস্থিতির জন্য হস্তান্তরে বিলম্ব হচ্ছে। তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের অন্দরান ফুলবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের উল্লারঘাট এলাকায় নয়নেশ্বরী পূর্ব উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রায় আড়াই বছর আগে এমএসডিপি প্রকল্পের টাকায় একটি কমিউনিটি জলাধার তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। প্রায় দেড় বছর আগে কাজ শেষ হলেও হস্তান্তরের অপেক্ষায় দিন গুনছেন স্বাস্থ্যকর্মী সহ উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসা গর্ভবতী মা, শিশুদের টিকাকরণ করাতে আসা মায়েরা, কুষ্ঠ, যক্ষ্মারোগী ও নানা সমস্যা নিয়ে আসা সাধারণ রোগীরা।

- Advertisement -

উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, এই উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপর নির্ভরশীল ৫ হাজার ৯৫১ জন মানুষ। দুজন এএনএম সহ পাঁচজন আশাকর্মী রয়েছেন উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিষেবা ভালো হলেও নানা সমস্যায় জর্জরিত উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। করোনা পরিস্থিতিতে মাসে একদিনের জায়গায় দুদিন শিশুদের টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু শিশুদের টিকাকরণের আগে ও পরে উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি স্যানিটাইজ করা দরকার ছিল বলে উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসা রোগীরা দাবি তুলেছেন। কিন্তু করোনা মহামারিতে একবারও স্যানিটাইজ করা হয়নি।

এছাড়াও মাঝেমধ্যেই পাকা দেওয়ালের চাঙড় ভেঙে পড়ছে। মেঝেতে ফাটল ধরেছে, পিঁপড়ে মেঝের চারপাশে মাটির পাহাড় তৈরি করছে। উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঢোকার দরজা ভগ্নদশায় পরিণত হয়েছে। উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নলকূপের জলে আয়রন থাকায় ব্যবহারয়োগ্য নয়। এককথায় বলতে গেলে উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্বাস্থ্যকর্মীরা যথেষ্ট সুনামের সঙ্গে পরিষেবা দিলেও প্রশাসনের উদাসীনতায় আজ বেহাল হয়েছে উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংলগ্ন রয়েছে নয়নেশ্বরী বিশেষ পর্যায় প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই কমিউনিটি জলাধারটি চালু হলে উপকৃত হবে শিক্ষক সহ ছাত্রছাত্রীরাও। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নলকূপের জলে আয়রন থাকায় বাড়ি থেকে জল নিয়ে এসে শিশুরা মিড-ডে মিল খায়। স্থানীয়রা নলকূপের অপরিস্রুত জল পান করায় পেটের রোগে ভুগছেন। এই কমিউনিটি জলাধারটি চালু হলে স্থানীয় বাসিন্দারাও উপকৃত হবেন।

উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসা অনিমা সাহা বলেন, উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মী যথেষ্ট সুনামের সঙ্গে পরিষেবা দিয়ে থাকেন। কিন্তু বেশ কয়েক বছর থেকে উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেহাল দশা লক্ষ করা যাচ্ছে। দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। চাঙড় ভেঙে পড়ছে। পানীয় কমিউনিটি জলাধারটি চালু না হওয়ায় আয়রনযুক্ত জলই ব্যবহার করতে হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে একবারও স্যানিটাইজ করা হয়নি। প্রশাসনের এই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার ও জলাধারটি চালু করা দরকার। নয়নেশ্বরী বিশেষ পর্যায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বলচন্দ্র সরকার বলেন, এলাকায় প্রায় সমস্ত নলকূপ থেকেই আয়রনযুক্ত জল বের হয়। তাই কমিউনিটি জলাধারটি চালু হলে ভালো হত।

উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দ্বিতীয় এএনএম পূর্ণিমা বর্মন বলেন, উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কিছু কিছু সমস্যা রয়েছে। পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। কমিউনিটি জলাধারটি দ্রুত চালু করা হলে ভালো হত। কারণ এখানকার নলকূপের জলে আয়রন থাকায় ব্যবহারযোগ্য নয়। সমস্যার কথা মৌখিকভাবে গ্রাম পঞ্চায়েতের মিটিংয়ে জানানো হয়েছিল। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ধরণীকান্ত বর্মন বলেন, বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে টাকা পাচ্ছি না। টাকা এলে উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সংস্কার করা হবে। তুফানগঞ্জ ১ ব্লকের জয়েন্ট বিডিও অরুণকুমার বর্মন বলেন, জলাধারটি হস্তান্তর না হওয়ায় পানীয় জল পরিষেবা চালু হয়নি। পরিষেবা চালুর চেষ্টা হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে জলাধারটি উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করা হবে।