লকডাউনে মাথায় হাত রেশম চাষিদের

450

করণদিঘি, ১০ জুনঃ লকডাউনের জেরে উৎপাদিত রেশম বাজারজাত করতে না পেরে, উত্তর দিনাজপুর জেলার করণদিঘি ব্লকের রেশম চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাঁদের অনেকের ঘরেই উৎপাদিত রেশম গুঁটি পড়ে রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে একাংশ চাষি ফড়েদের কাছে রেশম গুঁটি বিক্রি করছেন। কিন্তু, তাতে ভালো দাম মিলছে না। সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে চাষিদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। একদিকে, ভালো বাজার মিলছে না। অন্যদিকে, বাধ্য হয়ে অর্ধেক দামে গুঁটি বিক্রি করা দেওয়ায় রেশম শিল্পে বড় ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। করণদিঘি ব্লকের দোমোহনা ও আলতাপুর এলাকায় জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি রেশম উৎপাদন হয়। কিন্তু, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বাজারে ভালো দাম না পেয়ে, চাষিরা সমস্যায় পড়েছেন। তাই কম দামে বিক্রিতে বাধ্য হচ্ছেন।

সেরিকালচার দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় একসময় প্রচুর চাষি রেশম চাষ করতেন। কিন্ত, নানা কারণে জেলার চোপড়া, গোয়ালপোখর-২, হেমতাবাদ সহ জেলার রেশম চাষিরা রেশম চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে করণদিঘি ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম মিলিয়ে প্রায় হাজার খানেক রেশম চাষি রয়েছেন। তারা ডিম ফুটিয়ে পলু পোকা থেকে গুঁটি তৈরি করেন। সেগুলি চড়া দরে বিক্রি হয়। মালদা ও নদীয়া জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে গুঁটি কিনে নিয়ে যান। তবে লকডাউনের কারণে এবছর রেশম চাষিরা উৎপাদিত গুঁটি বিক্রি করতে পারেননি। তাই ঘরে ঘরে রেশম গুঁটি পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। এতে চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রতি কেজি রেশম গুঁটির মূল্য প্রায় ২০০০ টাকা। সেই গুঁটি বাজারজাত করতে না পারায় অনেকে ফড়েদের কাছে অর্ধেক দামে বিক্রি করছেন। তাই রেশম চাষিরা উৎপাদিত রেশম থেকে লাভের আশা এবারে ছেড়ে দিয়েছেন।

- Advertisement -

এবিষয়ে রেশম চাষিরা বলেন, চড়া দামে ডিম কিনে তা থেকে গুঁটি তৈরি অনেক পরিশ্রম ও খরচ সাপেক্ষ। গুঁটি তৈরি হলেও, বাজারজাত করা যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে বাড়িতেই গুঁটি ফেলে রাখতে হয়েছে। কিছু ফড়ে গ্রামে ঘুরে ঘুরে অর্ধেক দামে রেশম কিনছেন। তাতে চাষিদের কোনও লাভ থাকছে না। দোমোহনার এক রেশম চাষি জলিল আহমেদ বলেন, এবার রেশমের বাজার মোটেও ভালো নয়। লকডাউনে বাইরে থেকে কোনও গ্রাহক বা ব্যবসায়ী আসতে পারেননি। চাষিরা বাজার ধরতে পারেননি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিক্রির চেষ্টা করবেন। তবে অনেকেই অর্ধেক দামে রেশম ফড়েদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। সংরক্ষণ করার জায়গা না থাকায়, বাধ্য হয়ে তাঁরা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সেরিকালচার অফিসে জানানো হয়েছে।

করণদিঘি ব্লকের বিডিও বিজয় মোক্তান জানিয়েছেন, ‘বিষয়টি তাঁর জানা নেই। সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে কথা বলে প্রয়োজনে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। জেলার সেরিকালচার বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিক জানিয়েছেন, লকডাউনের কারণে রেশম চাষিরা গুঁটি বিক্রি করতে পারেননি। এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই। চাষিরা কালিয়াচকের বাজারের উপর নির্ভরশীল। জেলার ফড়েরা ওই বাজারে রেশম বিক্রি করেন। লকডাউনের জন্য এবারে সেখানেও ব্যবসায়ীরা আসেননি। তাই দাম পেতে সমস্যা হচ্ছে।