টোটো চালিয়ে অভাব ঢাকার চেষ্টা রেশমার

ক্রান্তি : বাড়িতে অভাব। বাবার একার উপার্জনে পরিবার চলে না। তাই বাবার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উপার্জনের গুরুদায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছেন বছর উনিশের রেশমা খাতুন। বাবার কেনা টোটো তিনিই চালান। পরিবারের দিকে তাকিয়ে টোটোচালকের পেশাকেই বেছে নিয়েছেন রেশমা। তবে পুরোনো টোটো মাঝেমাঝেই বিগড়ে গিয়ে সমস্যায় ফেলছে তাঁকে।

ডুয়ার্সের যোগেশচন্দ্র চা বাগানের ক্লাব লাইনে রেশমাদের বাড়ি। পরিবারের ছজনের খরচ জোগাতে নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। পরিবারের কর্তা তাইচুন শেখের উপার্জন যৎসামান্যই। দৈনিক তিনি যা রোজগার করেন তা দিয়ে কোনোভাবেই সংসারের হাল ধরে রাখতে পারছিলেন না। এই পরিস্থিতিতে বাবার পাশে দাঁড়ান রেশমা। রেশমা বলেন, টাকাপয়সার অভাবে আমার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বাড়িতে বেকার বসে না থেকে কিছু উপার্জন করার চেষ্টা শুরু করি। বাগানে কাঁচা চা পাতা তোলার কাজ করেছি। আবার একশো দিনের প্রকল্পের কাজ যখন পেয়েছি, তখন করেছি। অস্থায়ী কাজ পেলেও সারা বছর ধরে উপার্জন করার পথ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। এদিকে অসচ্ছলতার জন্য পরিবারের সমস্যা বেড়েই চলছিল।

- Advertisement -

এরপর রেশমার বাবা তাঁকে একটি টোটো কিনে দেন। সেই টোটো চালানো শিখে উপার্জন শুরু করেন রেশমা। রেশমার কোনো দাদা বা ভাই নেই। রয়েছে বিশেষভাবে সক্ষম এক ছোটো বোন। এখন সংসারের হাল ধরেছেন রেশমাই। রেশমার বাবা তাইচুন শেখ বলেন, একসময় দোকান চালাতাম। কিন্তু ব্যবসা জমছে না দেখে দুবছর আগে ঋণ নিয়ে সেকেন্ড হ্যান্ড একটি টোটো কিনি। ওই টোটোটিই এখন আমার মেয়ে চালাচ্ছে। তিনি জানান, সেকেন্ড হ্যান্ড টোটোটি এখন আর ঠিকমতো চলছে না। মাঝেমধ্যেই বিগড়ে যাচ্ছে। সারাইয়ে অভাবে টোটোটিকে প্রায়শই বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। রাস্তার অবস্থা ভালো হলে আমার টোটোটি আরও অনেকদিন সার্ভিস দিত।