বেহাল রাস্তা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন বাসিন্দারা

জটেশ্বর : বহুবার দাবি জানানোর পরেও প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার জটেশ্বর বাজার থেকে পাঁচ মাইল পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার রাস্তাটি সংস্কার করা হয়নি। এলাকার একমাত্র যোগাযোগকারী ব্যস্ত রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় ছোট ছোট গর্তগুলি এখন ডোবার আকার নিয়েছে। যার ফলে বাসিন্দাদের পাশাপাশি এলাকার কয়েক হাজার কৃষক যাতায়াতের সমস্যায় পড়েছেন। দ্রুত ওই রাস্তাটি সংস্কার করা না হলে স্থানীয় বাসিন্দারা আন্দোনের হুমকি দিয়েছেন।

প্রতিদিন সকালে জটেশ্বরে কাঁচা সবজির পাইকারি বাজার বসে। সেই বাজারে জটেশ্বর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতের বহু কৃষক তাঁদের কৃষিজাত পণ্য আনা-নেওয়া করেন। সম্প্রতি রাস্তার গর্তে বৃষ্টির জল জমে থাকায় কৃষক সহ স্থানীয় পথচারীদের বিপদ আরও বেড়েছে। যার ফলে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই রাস্তাটি যাতে দ্রুত সংস্কার করা হয় সেই দাবিই জানালেন কৃষকদের একাংশ। স্থানীয় পথচারী অসীম রায় বলেন, দীর্ঘদিন আগে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ রাস্তাটি সংস্কার করে আর খোঁজখবর নেয়নি। বর্তমানে রাস্তায় বড় মাপের গর্ত তৈরি হয়েছে। যার ফলে এলাকার কয়েকশো কৃষক উৎপাদিত ফসল সহজে বাজারে নিতে পারছেন না। ভাঙা রাস্তা দিয়ে চলাচল করলেও সময় ব্যয় হচ্ছে। ফলে কাঁচামালের দাম পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় দিলীপ বর্মন বলেন, জটেশ্বর বাজার থেকে পাঁচ মাইল পর্যন্ত রাস্তাটি দেওগাঁও, ময়রাডাঙ্গা, রাঙ্গালিবাজনা, ও খয়েবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েক হাজার কৃষক সবজি আনা-নেওয়ার জন্য ব্যবহার করেন। সম্প্রতি রাস্তাটি একেবারে বেহাল হওয়ায় ঘুরপথে যাতায়াত করছেন কৃষকরা। এতে দুর্ঘটনার পাশপাশি ক্ষতির শিকারও হচ্ছেন তাঁরা।

- Advertisement -

জটেশ্বর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫৯ নম্বর অংশের পঞ্চায়েত সদস্যা রেখা মণ্ডল বলেন, পূর্ব হেদায়েনগর এলাকায় ৯০ শতাংশ মানুষ কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। সারাবছর উৎপাদিত কৃষি ফসল এই সড়ক দিয়ে জটেশ্বর কিংবা পাঁচ মাইল বাজারে নিয়ে যান। রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় কৃষকরা সমস্যায় পড়েছেন। সারা ভারত কৃষকসভার জেলা কমিটির সদস্য ক্ষীতিশচন্দ্র রায় বলেন, গ্রামীণ এলাকা হলেও জটেশ্বর-পাঁচ মাইল সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। বহু কৃষক তাঁদের পণ্য জটেশ্বরে নিয়ে আসেন কিন্তু বেহাল সড়কের জন্য তাঁদের খরচ ও ভোগান্তি বেড়েছে। তাই কৃষকদের স্বার্থে রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। আলিপুরদুয়ার জেলার কৃষি কর্মাধ্যক্ষ সন্তোষ বর্মন বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে। ফালাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুরেশ লালা বলেন, স্থানীয়দের দাবি থাকলে অবশ্যই তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হবে।