স্বেচ্ছাশ্রমে সাঁকো বানালেন লছমনডাবরির বাসিন্দারা

ফালাকাটা : প্রায় ১০ বছর আগে ফালাকাটা ব্লকের ময়রাডাঙ্গা পঞ্চায়েতের লছমনডাবরিতে ভুতকুড়া নদীর বাঁশের সাঁকো ভেঙে যায়। তারপর প্রশাসনকে বারবার জানিয়ে সাঁকো তৈরি হয়নি। বাধ্য হয়ে বাসিন্দারা দুদিনের চেষ্টায় সোমবার স্বেচ্ছাশ্রমে ওই সাঁকো তৈরি করলেন। এভাবে সাঁকো তৈরি হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও ময়রাডাঙ্গা পঞ্চায়েতের প্রধান ভবানী বর্মন বলেন, এবার বর্ষা আগেই শুরু হয়েছে। লকডাউনের জেরে পঞ্চায়েতের ফান্ডও ফাঁকা। আবার কিছু ক্ষেত্রে নিয়ম বদলেছে। অ্যাকশন প্ল্যানে ধরা না থাকলে বাঁশের সাঁকো তৈরি করা যায় না। এসব বিষয়ে ২৭ জুলাই পঞ্চায়েতে একটি জেনারেল মিটিং ডাকা হয়েছে। মিটিংয়ে আলোচনা করে কোথায় কোথায় বাঁশের সাঁকো করা হবে তা ঠিক হবে। জল কমে গেলে কাজ করতেও সুবিধে হবে। স্বেচ্ছাশ্রমে সাঁকো তৈরি নিয়ে প্রধান বলেন, অনেক সময় গ্রামের মানুষ এভাবে সাঁকো তৈরি করেন। পরে পঞ্চায়েতের মাধ্যমে শ্রমিকদের মজুরি দেওয়া হয়।

ময়রাডাঙ্গা পঞ্চায়েতের লছমনডাবরির ১৩/১২১-২২ নম্বর বুথের পাশ দিয়ে ভুতকুড়া নদী বয়ে গিয়েছে। বছরের অন্য সময় এই নদীতে তেমন জল থাকে না। নদীর উপর দিয়ে মানুষজন যাতায়াত করেন। কিন্তু বর্ষাকালে ওই নদী ফুলেফেঁপে ওঠে। তখন নদীর ওপারে থাকা ৫০০ বাসিন্দা প্রায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। বাধ্য হয়ে তাঁদের ফালাকাটা, ময়রাডাঙ্গা পঞ্চায়েত অফিস বা অন্যত্র প্রায় ৩ কিমি ঘুরপথে কুঞ্জনগর হয়ে যেতে হয়। এই ভোগান্তি নতুন নয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রায় ১০ বছর আগে বাঁশের সাঁকো ভেঙে যায়। তাঁরা বহুবার পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের কাছে পাকা সেতুর দাবি তুলেছেন। কিন্তু পাকা সেতু তো দূরের কথা, এখনও সাঁকোই তৈরি করা হয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ। এই ঘটনায় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। চলতি বর্ষাতেও নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় আদিবাসী অধু্য়ষিত ওই এলাকার বাসিন্দারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।

- Advertisement -

তাই প্রশাসনের অপেক্ষায় না থেকে এবার তাঁরা নিজেরাই সাঁকো তৈরিতে উদ্যোগী হন। দুদিনের চেষ্টায় এদিন ওই সাঁকো তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা বিমল মুর্মু বলেন, পঞ্চায়েত প্রশাসনকে অনেকবার জানিয়ে কাজ হয়নি। তাই নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রমে সাঁকো তৈরি করেছি। একই কথা জানিয়েছেন বাসিন্দা বিশ্বনাথ টুডু। শুধু যাতায়াতে অসুবিধে নয়, কৃষকরাও সমস্যায় পড়েছেন। কারণ,অনেকেরই কৃষিজমি নদীর অপর পারে। স্থানীয় কৃষক হেমেন্দ্র বর্মন বলেন, বর্ষায় জমিতে কাজ করতে যেতে মারাত্মক সমস্যা হয়। সাঁকো বা সেতু না থাকায় জমির উত্পাদিত শস্য ঘরে তুলতেও অসুবিধা হয়। এজন্যই আমরা নিজেদের উদ্যোগে সাঁকো তৈরি করেছি। তাঁর কথায় সায় জানিয়েছেন অপর কৃষক কমল বর্মন, সুজন বর্মন, সন্তোষ বর্মন, নিখিল বর্মন প্রমুখ।