শিলিগুড়ি : বাম আমলে নেতাদের থেকে ৪০-৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে মহানন্দা নদীর ধারে এক ফালি জমি কেনার পর কেটে গিয়েছে প্রায় আড়াই দশক। কেউ ওই জমিতেই পাকা ছাদের বাড়িতে পরিবার নিয়ে কাটিয়ে দিয়েছেন বেশ কয়েক বছর। কেউ আবার টিনের চালের ঘরেই শৈশব কাটিয়ে যৌবনে পা রেখেছেন। জমির মালিকানা স্বাভাবিকভাবেই কারও নেই। তবে ভোটার কার্ড থাকায় সকলে ভোট দিচ্ছেন প্রতিটি নির্বাচনেই। বিদ্যুৎ সংযোগও পেয়ে গিয়েছেন সকলে। এতদিন কোনো সমস্যা না হলেও সম্প্রতি রাজ্যের সেচ দপ্তর মহানন্দা নদীতে বাঁধের কাজ শুরু করাতেই বিপত্তি দেখা দিয়েছে। শুধু বাঁধই নয়, বাঁধ সংলগ্ন এলাকায় চওড়া রাস্তাও হবে। স্বাভাবিকভাবেই এবার এত বছরের দখলদারি হারানোর ভয়ে আতঙ্কিত শিলিগুড়ি পুরনিগমের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মহানন্দা নদীর ধারে বসবাসকারী প্রায় ২০০০ পরিবার। আতঙ্ক আরও বাড়ে যখন, মঙ্গলবার ওয়ার্ডের সিপিএমের কাউন্সিলার এলাকায় গিয়ে বাঁধ নির্মাণের ফলে বেশ কিছু বাড়িঘর ভাঙা পড়ার কথা জানিয়ে দেন। বামেদের থেকে কড়া বার্তা পেয়ে বিষয়টি নিয়ে এবার তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের সমাধানের রাস্তা বের করার আর্জি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও তাঁদের আর্জি, যেভাবেই হোক এত বছরের ঘরবাড়ি যেন ভাঙা না পড়ে।

নদীর ধারেই বাস সজল চৌধুরির। তাঁর বক্তব্য, বাঁধ হোক, রাস্তা হোক, কিন্তু আমাদের ঘরবাড়ি য়েযেন ভাঙা না পড়ে। গরিব মানুষ যেন গৃহহীন না হয়। রাস্তা ও বাঁধের জন্য অনেক জায়গা রয়েছে। সেখানে সেই কাজ করা হোক। আমরা আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আর্জি জানাচ্ছি, আমাদের যেন বাঁচানো হয়। আমাদের এখানকার কাউন্সিলার স্নিগ্ধা হাজরা মঙ্গলবার এখানে এসে বলে গিয়েছেন, তোমাদের কে বসতে বলেছে এখানে? এই ঘরবাড়ি ভাঙা পড়বে। উনি নাকি কোনো দায়িত্ব নেবেন না। অথচ সিপিএমের গুপ্তাজিরা পয়সা নিয়ে মানুষকে বসিয়েছেন নদীর ধারে। এখন তাঁরা কোনো দায় নেবেন না বলছেন। মিনতি কর্মকার নামে এক বাসিন্দা বলেন, কাউন্সিলার এসে বলে গিয়েছেন রাস্তা হবে। তাই আমাদের ঘর নাকি ভাঙা পড়বে। তাই যদি হয় তবে আমরা কোথায় যাব? কল্পনা বেগম নামে আরেক মহিলার বক্তব্য, আমরা চাই, আমাদের জায়গা ছেড়ে যা খুশি করুক।

এদিন স্থানীয় বাসিন্দারা খবর দেন শিলিগুড়ি পুরনিগমের বিরোধী দলনেতা রঞ্জন সরকারকে। তিনি সেখানে গেলে গোটা বিষয়টি তাঁকে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে রঞ্জনবাবু বলেন, এখানকার মানুষের যাতে কোনো অসুবিধা না হয়ে তা অবশ্যই দেখা হবে। পুরো বিষয়টি আমি পর্যটনমন্ত্রীকে জানাব। তাঁকে এখানে আসার কথাও বলব। কাউন্সিলারের এসব কথা বলা ঠিক হয়নি। এখানকার মানুষকে খেপিয়ে তোলার তো কোনো মানে হয় না। আমরা বিষয়টি নিয়ে সেচ দপ্তরের সঙ্গে কথা বলব। এখানে যিনি কাউন্সিলার আছেন, তাঁর সঙ্গেও আমি কথা বলব। কাউন্সিলার স্নিগ্ধা হাজরা বলেন, উচ্ছেদের প্রশ্নই নেই। গরিব মানুষকে ভয় দেখিয়ে রাজনীতি আমরা করি না। কে বা কারা এই কথা বলেছে আমি জানিই না কিছু। অন্য রাজনৈতিক দল কিছু না জেনে কেনই বা এদিন সেখানে ছুটল সেটাই বুঝতে পারছি না।