শুভঙ্কর চক্রবর্তী, আলিপুরদুয়ার : পুরসভা ভোটের আগে কালজানি নদীর উপর দ্বিতীয় সেতুর দাবি জোরালো হচ্ছে আলিপুরদুয়ার শহরে। যানজট সমস্যা এড়াতে বড়বাজার রেলগেটে উড়ালপুল তৈরির দাবিও উঠেছে বিভিন্ন মহলে। দুই দাবিকেই ভোটের প্রচারে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে বিরোধী দলগুলি। বিভিন্ন অরাজনৈতিক সংগঠনও দাবির সমর্থনে প্রচার শুরু করেছে।

আলিপুরদুয়ার শহরে ঢোকা ও বের হওয়ার প্রধান ভরসা কালজানি সেতু। কোনো কারণে সেই সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে কার্যত বিচ্ছিন্ন হযে পড়বে আলিপুরদুয়ার। তাই শহরে ঢোকা ও বের হওয়ার বিকল্প রাস্তা তৈরির জন্য কালজানি নদীর উপর দ্বিতীয় সেতুর দাবি বহু বছরের। ওই দাবিতে এর আগে একাধিক নাগরিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি কিছুই। শহরের বকরিবাড়ি বা মনোজিৎ নাগ বাস টার্মিনাসের পাশ দিয়ে দ্বিতীয় সেতু তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন বিভিন্ন মহলের মানুষজন। দেবপ্রসাদ রায় বিধায়ক থাকাকালীন ওই এলাকায় সেতু তৈরির জন্য একটি সংস্থাকে এনে সমীক্ষা করিয়েছিলেন। আলিপুরদুয়ার শহরের পাশে থাকা খোলটা-মরিচবাড়ি এলাকা দিয়ে যাবে ৩১ ডি জাতীয় সড়ক। ইতিমধ্যেই যার কাজ শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় সেতু তৈরি হলে খুব সহজেই জাতীয় সড়কের সঙ্গে শহরের সংযোগ তৈরি হবে। একইসঙ্গে কোচবিহার বা পার্শ্ববর্তী এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা কমে যাবে। আলিপুরদুয়ার চেম্বার অব কমার্সের সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ দে বলেন, দ্বিতীয় কালজানি সেতু তৈরি হলে স্বাভাবিকভাবেই সম্প্রসারিত হবে শহর। ঢোকা ও বের হওয়ার দুটি রাস্তা হলে শহরে যানজট অনেকটাই কমে যাবে। ব্যবসার পরিধি বাড়বে।

শহরের বড়বাজার এলাকা দিয়ে গিয়েছে আলিপুরদুয়ার জংশন-নিউ কোচবিহার রেলপথ। বাজারের পাশে আলিপুরদুয়ার রেলস্টেশন। শহরে ঢোকার মুখে থাকা ওই রেললাইন যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হযে উঠেছে। সেই কারণেই ওই এলাকায় একটি উড়ালপুল তৈরির দাবিও উঠেছে। যদিও উচ্ছেদের ভয়ে ব্যবসায়ীদের একটা অংশ উড়ালপুলের দাবিকে সমর্থন করছেন না। তার বদলে তাঁরা কালজানি সেতু থেকে চৌপথি পর্যন্ত রাস্তা সম্প্রসারণের দাবি তুলেছেন। আলিপুরদুয়ার পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং সিপিএম নেতা অনিন্দ্য ভৌমিক বলেন, দ্বিতীয় কালজানি সেতু এবং উড়ালপুলের দাবি অত্যন্ত ন্যায্য। আমরা একাধিকবার রাজ্য সরকারের কাছে দাবিগুলি তুলে ধরেছি। ওই দুই দাবির সমর্থনে  অরাজনৈতিকভাবেও প্রচার শুরু হয়েছে। দাবির সমর্থনে এর আগে একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে সমস্ত রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠনকে নিয়ে আলিপুরদুয়ারে নাগরিক সভা হয়েছিল। সেই সংগঠনের সম্পাদক রাতুল বিশ্বাস বলেন, আলিপুরদুয়ার শহরের সার্বিক উন্নয়নের জন্য দ্বিতীয় কালজানি সেতু এবং বড়বাজারে উড়ালপুল হওয়া অত্যন্ত জরুরি। সব রাজনৈতিক দল এ বিষযে উদ্যোগী হোক।

বিজেপির আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, বামফ্রন্ট ও তৃণমূল দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকলেও তাঁরা শহরবাসীর এই দুটি পুরোনো দাবি পূরণ করতে পারেনি। কেন দাবি পূরণ হয়নি তার জবাব বাম, তৃণমূল দুই দলকেই দিতে হবে। তৃণমূল নেতা তথা আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, দাবি উঠেছে। তবে ব্যবসাযীরা উড়ালপুল চাইছেন না। বকরিবাড়ি দিয়ে দ্বিতীয় কালজানি সেতুর দাবির কথা আমি পূর্ত ও সেচ দপ্তরের মন্ত্রীকে জানিয়েছি। চৌপথি থেকে কালজানি সেতুর মধ্যে অনেকটা জায়গা রেলের নিয়ন্ত্রণাধীন। রেল আমাদের জায়গা ছেড়ে না দেওয়ায় ওই রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ সম্পূর্ণ করা যাচ্ছে না।