অন্দরান-ফুলবাড়ির বাসিন্দারা পরিস্রুত পানীয় জল পাচ্ছেন না

243

গৌতম দাস, তুফানগঞ্জ : তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের অন্দরান-ফুলবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ছয়টি বুথের অন্তত ৮ হাজার বাসিন্দা পরিস্রুত পানীয় জল পাচ্ছেন না। একপ্রকার বাধ্য হয়ে গভীর নলকূপের আয়রনযুক্ত জল খাচ্ছেন। আগামী বিধানসভার ভোটের আগে পানীয় জল পরিষেবা চালু না হলে ভোট বয়কটের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলেও এলাকাবাসী হুমকি দিয়েছেন।

তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের অন্দরান-ফুলবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুয়াযী লোকসংখ্যা ১৬ হাজার ৬৪২ জন। বর্তমানে এই সংখ্যা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। এই গ্রাম পঞ্চায়েতের ছালাপাক, বিলসি, ঘোগারকুটি দ্বিতীয় খণ্ড ও ছাট ফুলবাড়ির বাসিন্দারা পরিস্রুত পানীয় জল পরিষেবা পেয়ে থাকেন। কিন্তু দত্তপাড়ার ৮/৪৯ নম্বর বুথ, উত্তর অন্দরান-ফুলবাড়ির ৮/৪৮, ৫৫ নম্বর বুথ, অন্দরান-ফুলবাড়ির ৮/৫৩ নম্বর বুথ, ছাট ফুলবাড়ির ৮/৫৭, গঙ্গাবাড়ি ৮/৫৪ নম্বর বুথের বাসিন্দারা পরিস্রুত পানীয় জল পরিষেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই বহু দূর থেকে পানীয় জল সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন। কিন্তু বেশিরভাগ পরিবারই গভীর নলকূপের আয়রনযুক্ত জল খেতে বাধ্য হচ্ছেন। তাতে পেটের সমস্যা থেকে শুরু করে নানা সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে তাঁদের। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা নানা সমস্যায় ভুগছেন। কবে এই সমস্যার সুরাহা হবে জানা নেই তাঁদের।

- Advertisement -

দত্তপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা বাপ্পাদিত্য চক্রবর্তী বলেন, মানুষের পরিস্রুত পানীয় জলের পরিষেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু ভোটের আগে পানীয় জলের প্রতিশ্রুতি মিললেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বছরের পর বছর এভাবেই গ্রামীণ এলাকার মানুষকে বোকা বানিয়ে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট আদায় করছে। এভাবে আর চলবে না। এলাকায় দ্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে আগামীদিনে বৃহত্তর আন্দোলনে নামব আমরা উত্তর অন্দরান-ফুলবাড়ির বাসিন্দা তথা স্কুল শিক্ষক সামিদুল মিয়াঁ বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল পরিস্রুত পানীয় জল। কিন্তু আজও সেই দাবি পূরণ হয়নি। এলাকার গৃহবধূ অর্চনা সূত্রধর বলেন, এলাকায় পানীয় জলের ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে গভীর নলকূপের আয়রনযুক্ত জল খেতে হয়। এতে পেটের সমস্যা লেগেই আছে। এলাকায় পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হলে ভালো হয়।

অন্দরান-ফুলবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মণীন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬টি বুথের বাসিন্দারা পরিস্রুত পানীয় জল পরিষেবা থেকে বঞ্চিত। পানীয় জলের পরিষেবার ব্যাপারে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। পানীয় জলের পরিষেবার ব্যাপারে আবারও মন্ত্রী ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের সঙ্গে কথা বলা হবে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের তুফানগঞ্জ শাখার সহকারী বাস্তুকার প্রসেনজিৎ রায় বলেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যেই প্রতিটি এলাকায় প্রতিটি বাড়িতে পানীয় জলের পরিষেবা পৌঁছে যাবে বলে আশা করা যায়।