পাকা সেতুর দাবি পূরণ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ বালাসনের বাসিন্দারা

300

হেলাপাকড়ি: ভোট এর সময় নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েও ধরলা নদীতে পাকাসেতু হয় না। যে কারণে বিধান সভা ভোটের আগে ক্ষোভে ফুসছেন ময়নাগুড়ি ব্লকের পদমতি-১ নম্বর গ্রামপঞ্চায়েতের বালাসন, দইয়ারপাড়া, দাসপাড়া, পাঠানডাঙ্গা, হারমতী প্রভৃতি গ্রামের বাসিন্দারা। এলাকার কয়েক হাজার মানুষকে ধরলা নদী পেরিয়ে হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ সহ বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করতে হয়। পাকাসেতু না থাকায় গ্রামে কোনও গাড়িও প্রবেশ করতে পারেনা। হঠাৎ কারও অসুখ হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতেও ভীষণ সমস্যায় পড়তে হয়। তাই কয়েক দশক ধরে স্থানীয় মোশারফের ঘাটে ধরলা নদীর ওপর পাকা সেতুর দাবি জানিয়ে আসছেন বাসিন্দারা। কিন্তু বিষয়টিকে গুরুত্বই দেওয়া হচ্ছে না বলে বাসিন্দাদের অভিযোগ।

এলাকার বাসিন্দা জগদীশ রায় বলেন, ‘ধরলানদী পারাপার এলাকার মস্ত বড় সমস্যা। নদী পারাপারের ভরসা বলতে একমাত্র বাঁশের সাঁকো। বছরের বেশির ভাগ সময় সাঁকোটি দুর্বল হয়ে থাকে। কাজেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুর্বল সাঁকো পেরিয়েই যাতায়াত করতে হয়। বর্ষায় জলের তোরে সাঁকোও উধাও হয়ে যায়। তখন ভরসা বলতে কলার ভেলা কিংবা নৌকা। কাজেই তখন ভোগান্তির শেষ থাকে না। প্রতি ভোটের আগে বিভিন্ন নেতারা এসে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়না। সামনে বিধানসভার ভোট। তাই এবার ভোট নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হবে। এনিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনাও শুরু হয়েছে।’

- Advertisement -

এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা কাল্টু মোহাম্মদ আক্ষেপ করে বলেন, ‘জন্মলগ্ন থেকেই এখানে পাকাসেতু তৈরির কথা শুনে আসছি। বাম আমলে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। পরে সরকার পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমান সরকারও প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। ইতিপূর্বে নদী পার হতে গিয়ে সাঁকো থেকে পরে প্রাণহানিও ঘটেছে। অথচ এখানকার সমস্যার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না কেউ।’ রত্না রায়, শ্রীকান্ত রায় প্রমুখ বাসিন্দা বলেন, ‘এলাকায় একটি প্রথমিক বিদ্যালয় ও একটি শিশুশিক্ষা কেন্দ্রও রয়েছে।

সেই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের কর্মীদরাও যাতায়াতে সমস্যায় পড়েন। শুধু তাই নয়, এলাকার প্রচুর ছাত্র-ছাত্রীকে স্কুল-কলেজে যাতায়াতে সমস্যায় পড়তে হয়। পাকাসেতু না থাকায় বড় কোন যানবাহন এলাকায় ঢুকে না। ফলে কৃষিপ্রধান এই এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিয়ে যেতেও সমস্যায় পড়তে হয়। সমস্যার কথা জানেন নেতা সহ প্রশাসনের কর্তারাও। অথচ কেউ কোনও উদ্যোগ নিচ্ছেন না। প্রতিবার ভোটের আগে গ্রামে নেতাদের পা পড়ে। পাকাসেতুর কথাও মনে পড়ে। কিন্তু ভোট পেরোলেই আর তাদের মনে থাকে না।’

পদমতি-১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মৌমিতা রায় বলেন, ‘ধরলা নদীতে পাকাসেতুর দাবি রয়েছে ওই এলাকার বাসিন্দাদের। পাকা সেতু না থাকায় নদী পারাপারে তাদের ভীষণ সমস্যায় পড়তে হয়। দায়িত্বে আসার পর থেকে আমিও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। স্থানীয়দের সমস্যার বিষয়টি গ্রামপঞ্চায়েতের তরফে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। মাস তিনেক আগে এসডিও ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সহ আমি নিজেও সেখানে পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। পাকাসেতু তৈরির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশ্বাস পাওয়া গিয়েছে।’