উপেক্ষিত কলেজ গড়ার দাবি, হতাশ বারবিশা

195

গৌতম সরকার, বারবিশা : কুমারগ্রাম ব্লকের বারবিশায় কলেজ স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের। দাবি পূরণ না হওয়ায় হতাশ বাসিন্দারা। অসম ও ভুটান সীমান্তের কুমারগ্রাম ব্লকের বারবিশায় কলেজ স্থাপনের দাবি ১৯৯৬ সালে কামাখ্যাগুড়ি কলেজ স্থাপনের সময় প্রথম ওঠে। কলেজ স্থাপনের জন্য কমিটি গঠিত হয়। ওই কমিটি কুমারগ্রাম রোডে রাস্তার পাশে প্রায় ১৬ বিঘা একটি জমিও কিনে রেখেছে। প্রচুর টাকাও কমিটি জোগাড় করেছে। উচ্চশিক্ষা দপ্তর সহ প্রশাসনিক মহলে কলেজ স্থাপনের দাবি জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু কলেজ তৈরি করা হয়নি।  উচ্চমাধ্যমিকে গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় চার শতাংশ পড়ুয়া বেশি পাশ করেছে। স্বাভাবিকভাবেই এরা ভর্তি হতে সমস্যায় পড়বে। ভুটান ও অসম সীমান্তে পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষার জন্য একমাত্র ভরসা কুমারগ্রাম ব্লকের কামাখ্যাগুড়ির শহিদ ক্ষুদিরাম কলেজ। এই কলেজে ছাত্রছাত্রীর চাপ অত্যন্ত বেশি। ছয় হাজারের বেশি পড়ুয়া এই কলেজে পড়েন। পরিকাঠামোর খামতি থাকায় এত বেশি সংখ্যক পড়ুয়া নিয়ে প্রতিবারই সমস্যার মুখে পড়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এই অবস্থায় কুমারগ্রাম ব্লকে আরও একটি কলেজের প্রয়োজন। বারবিশায় কলেজ স্থাপন হলে ভর্তি সমস্যা মিটবে। ছাত্রছাত্রীরাও উচ্চশিক্ষা নিতে পারবেন।

ব্লকের প্রত্যন্ত এলাকা কুমারগ্রাম চা বাগান, সংকোশ ও নিউল্যান্ডস চা বাগান, ধনতলি জয়দেবপুর টাপু, বিত্তিবাড়ির মতো এলাকাগুলির থেকে কামাখ্যাগুড়ির দূরত্ব ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার। ওইসব এলাকার ছাত্রছাত্রীদের কামাখ্যাগুড়ি কলেজে পড়তে আসতে অসুবিধায় পড়তে হয়। তাই বারবিশায় একটি কলেজ স্থাপন হলে এই সমস্যা অনেকটাই মিটবে বলে এলাকার শিক্ষানুরাগী মানুষের দাবি। কুমারগ্রাম ব্লক ছাড়াও আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকের পারোকাটা, ভাটিবাড়ি এবং কোচবিহার জেলার জোড়াই, রামপুর সহ বেশ কিছু এলাকার ছাত্রছাত্রী কামাখ্যাগুড়ি কলেজের ওপর নির্ভরশীল। তাই এই অবস্থায় কুমারগ্রাম ব্লকে আরও একটি কলেজ স্থাপন হলে ছাত্রছাত্রীরা উপকৃত হবেন।

- Advertisement -

বারবিশা প্রস্তাবিত কলেজ আহ্বায়ক কমিটির কার‌্যকরী সদস্য প্রভাসরঞ্জন দাস জানান, কামাখ্যাগুড়ি কলেজ স্থাপনের সময় থেকেই বারবিশায় কলেজ স্থাপনের দাবি ওঠে। কমিটি গড়ে কলেজের জন্য প্রায় ১৬ বিঘা জমি কেনা হয়েছে। উচ্চশিক্ষা দপ্তর থেকে প্রাশাসনিক মহলে দাবিও জানানো হয়েছে। কলেজ স্থাপন না হওয়ায় হতাশ এলাকার বাসিন্দারা। কুমারগ্রাম ব্লকের বাসিন্দা সুকুমাররঞ্জন সরকার জানান, বারবিশায় কলেজ স্থাপিত হলে উপকৃত হবেন এই এলাকার পড়ুয়ারা। সেইসঙ্গে কামাখ্যাগুড়ি কলেজের উপর চাপও কিছুটা কমবে। কামাখ্যাগুড়ি শহিদ ক্ষুদিরাম কলেজের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অজয় দত্ত জানান, প্রতিবছর প্রচুর সংখ্যক ছাত্রছাত্রী এই কলেজে ভর্তি হতে আসেন। পড়ুয়ার চাপ বেশি। নতুন কলেজ হলে তাঁদেরও সুবিধা হয়।