বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ভুতনির বাসিন্দাদের

252

মানিকচক: গঙ্গার ভাঙনে তলিয়ে গেল ভুতনির হীরানন্দপুর অঞ্চলের কেশবপুর কলোনির বাঁধের বিস্তীর্ণ অংশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকেই হু হু করে সংরক্ষিত এলাকার দিকে জল ঢুকছে। যদিও দ্বিতীয় বাঁধে জল আপাতত আটকে আছে। দ্বিতীয় বাঁধও খুব দুর্বল বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। গত কয়েকদিন ধরে চূড়ান্ত বিপদসীমার ওপর দিয়ে গঙ্গা প্রবাহিত হচ্ছে। অসংরক্ষিত এলাকায় লাল সংকেত আগেই জারি হয়েছে। জলস্তর বাড়লে দ্বিতীয় বাঁধ ভেঙে ভুতনি চরের তিন অঞ্চলের বহু গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ঘটনার খবর পেয়ে গতকাল রাতেই এলাকায় যান মালদা সেচ দপ্তরের নির্বাহি বাস্তুকার প্রণব কুমার সামন্ত।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, আগে থেকেই এই বাঁধ বিপন্ন হয়েছিল। বোল্ডার দিয়ে ওই এলাকার বাঁধ দেওয়ার জন্য দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেচ দপ্তর গুরুত্ব দেয়নি। আগে থেকে বোল্ডার দিয়ে ভাঙন রোধ করা হলে আজকে এই প্রবল বিপদের মুখে ভুতনিবাসীকে পড়তে হত না। এজন্য সেচ দপ্তর দায়ী।

- Advertisement -

বাঁধ ভেঙে সংরক্ষিত এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন প্রাক্তন বিধায়ক মোত্তাকিন আলম। এই পরিস্থিতির ব্যাপারে তিনি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ওই স্থানে ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা দিয়ে বস্তার কাজ হয়েছিল। তা সত্বেও কেন বাঁধ তলিয়ে গেল তা দেখা দরকার। সিপিএমের জেলা নেতা দেবজ্যোতি সিনহার অভিযোগ, ভাঙন রোধের নামে কোটি কোটি টাকা লুট হচ্ছে। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

মালদা সেচ দপ্তরের নির্বাহি বাস্তুকার প্রণবকুমার সামন্ত জানান, কেশরপুর কলোনি এলাকায় পুরোনো বেশকিছু অংশ ভাঙনে তলিয়ে গিয়েছে। ওই অংশে ২০১২ সালে ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ কাজ করেছিল। আমরা সেখানে কাজ করিনি। হঠাৎ করেই ওই অঞ্চল ভাঙনে তলিয়ে যায়। এখন জল ৫০ মিটার দূরে দ্বিতীয় বাঁধের গায়ে লেগে আছে। সেই বাঁধ শক্তপোক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এই কাজ দিনরাত এক করে করে যাচ্ছেন সেচকর্মীরা।  আমরা কোনওভাবেই ভুতনিকে প্লাবিত হতে দেব না।

মানিকচকের বিডিও জয় আমেদ জানান, সেচ দপ্তরের কর্মীরা দ্বিতীয় বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করেছে। সেচ প্রতিমন্ত্রীর সাবিনা ইয়াসমিন জানান, ভুতনিতে কিশোরপুর কলোনি এলাকায় পুরোনো বাঁধ রাতে কেটে গিয়েছে।  প্রকৃতির কাছে আমরা সকলে অসহায়। তবু দ্বিতীয় বাঁধের জল আটকে আছে। সেই বাঁধ শক্তপোক্ত করা হচ্ছে।