বাংলাদেশে ফিরে যেতে চায় সাবেক ছিটের পরিবার

1052

হলদিবাড়ি: প্রতিশ্রুতি পালন না হওয়ায় বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার আবেদন নিয়ে মহকুমাশাসকের দ্বারস্থ হয়েছে সাবেক ছিটের একটি পরিবার। একই আবেদন নিয়ে কলকাতায় বাংলাদেশের হাইকমিশনারের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। প্রশাসনের ত্রুটির জন্য তাঁদের দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে দিদিকে বলো ফোন নম্বরে ফোন করে সাহায্যের প্রার্থনাও করা হয়েছে।

বর্তমান হলদিবাড়ি কৃষি ফার্মের অস্থায়ী শিবিরের সাবেক ছিটের বাসিন্দা কমলেশ সরকার জানান, তিনি সাবেক ছিট ২ নম্বর কোট ভাজনীর বাসিন্দা ছিলেন। ২০১১ সালের জনগণনার সময় তাঁর বংশধরদের তিনটি পরিবার হিসেবে দেখানো হয়। এরপর ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত ভারতে আসার জন্য নাম নথিভুক্ত করা হয়। সেসময় তাঁদের চারটি পরিবার ভারতে আসার জন্য নাম নথিভুক্ত করেন। কিন্তু পরে একটি পরিবার ভারতের মূল ভূখণ্ডে না আসার সিদ্ধান্ত নেন। সেই অনুযায়ী শেষদিন ২০ জুলাই চার সদস্যযুক্ত সেই পরিবারের নাম কেটে দেওয়া হয়। অন্য তিনটি পরিবারের নাম নথিভুক্ত থাকে।

- Advertisement -

২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর ডাঙ্গাপাড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতের মূল ভখণ্ডে প্রবেশ করেন তাঁরা। কমলেশবাবুর অভিযোগ, মূল ভূখণ্ডে ফেরার পর তিনি জানতে পারেন তাঁর বংশধরদের একত্রে একটি পরিবার দেখানো হয়েছে। য়েকোনো সরকারি পরিসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের একটি পরিবার হিসেবে গণ্য করা হবে। এদিকে, আদতে তাঁর বংশধররা মোট চারটি পরিবারে বিভক্ত। এই সমস্যার জন্য তাঁর এক ভাই নিত্যানন্দ সরকারের পরিবার মূল ভূখণ্ডে না এসে সীমান্ত থেকে সাবেক ছিটেই ফিরে যান।

কমলেশবাবুর স্ত্রী অনীতারানি সরকার বলেন, আমি জন্মসূত্রে বাংলাদেশি। বাড়ি পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ থানার বলরামপুর গ্রামে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সরকারি নার্স হিসেবে চাকরি করতাম। সুখশান্তির আশায় সরকারি চাকরি ছেড়ে স্বামীর সঙ্গে ভারতে চলে আসি। অনীতাদেবীর দাবি, মূল ভূখণ্ডে ফিরে তাঁকে সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু এখানে আসার চার বছর অতিক্রান্ত হলেও চাকরি তো দূর অস্ত মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে স্থায়ী পুনর্বাসনের ফ্ল্যাটই মিলছে না। এতেই স্কুল পড়ুয়া দুই মেয়েকে নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা।

আলাদা পরিবার হিসেবে নির্ধারিত সময়ের পরে নাম নথিভুক্ত করেও কী করে একই পরিবারের সদস্য হিসেবে দেখানো হল প্রশ্ন তোলেন কমলেশবাবু। বর্তমানে তাঁদের তিনটি পরিবারের মোট ১৩ জন সদস্য। অস্থাযী শিবিরের মতো স্থাযী শিবিরেও তাঁদের জন্য মাত্র দুটি ফ্ল্যাট বণ্টন করা হয়েছে। অস্থায়ী শিবিরে তাঁদের একটি পরিবার বাধ্য হয়ে গোয়ালঘরে থাকছেন। স্থাযী শিবিরে কীভাবে থাকবেন সেই চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়েছে তাঁদের।

স্থায়ী শিবিরের তাঁর বংশধরের জন্য তিনটি ফ্ল্যাট ও স্ত্রীর কর্মসংস্থানের দাবিতে তিনি মেখলিগঞ্জের মহকুমাশাসকের দ্বারস্থ হন। এর আগে কোচবিহারের জেলাশাসক ও হলদিবাড়ির বিডিওর কাছে লিখিত দাবিপত্র দেন। দিদিকে বলো ফোন নম্বরেও ফোন করে অভিযোগ জানান তিনি। তাতে কাজ না হওয়ায় বাংলাদেশ ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কমলেশবাবুর পরিবার। এই বিষয়ে আগামী শুক্রবার বাংলাদেশের হাইকমিশনারের দ্বারস্থ হবেন বলে তিনি জানান। মেখলিগঞ্জের এসডিও রামকুমার তামাং বলেন, বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে। তবে অতিরিক্ত সদস্যবিশিষ্ট পরিবারগুলির জন্য অতিরিক্ত ফ্ল্যাটবাড়ি প্রদানের বিষয়টি সহানুভতির সঙ্গে দেখা হচ্ছে।