শহরে থেকেও নৌকায় চেপে ভোট দ্বীপচরবাসীর

139

প্রণব সূত্রধর, আলিপুরদুয়ার : নৌকা অথবা ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথ ধরে ভোট দিতে যাবেন  পুরসভার দ্বীপচর এবং চাপরেরপার-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের শোভাগঞ্জ ও চেংপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ। স্বাধীনতার দীর্ঘ বছর পরও কালজানি নদীর ওপর সেতুর দাবি পূরণ হয়নি। ফলে এলাকা শহর থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হয়ে রয়ে গিয়েছে। এলাকায় কারও বয়স ৬০, কারও বয়স ৭০ বছর, এমনকি ৮০ বছরের ওপরে  বয়স্করাও রয়েছেন। ভোটে নাম ওঠার পর থেকেই শহরে ভোট দিচ্ছেন তাঁরা। তবে পরিবর্তন বলতে শুধু বয়সের হয়েছে। ভোট দিতে যাওয়ার রাস্তার পরিবর্তন হয়নি। সেই পরিচিত নদীপথে নৌকা অথবা রেলব্রিজ ভরসা। পুরুষরা সাইকেলে ঝুঁকি নিয়ে রেলব্রিজ ব্যবহার করলেও মহিলারা নৌকা করে শহরে ভোট দিতে যান। আলিপুরদুয়ার পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের দ্বীপচরের একাংশ শহর থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। দ্বীপচরের বাসিন্দারা প্রযোজনে কোচবিহারের রাস্তা ব্যবহার করতে পারলেও চাপরেরপার-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের  শোভাগঞ্জ ও চেংপাড়ার বাসিন্দাদের একাংশের সেই সৌভাগ্য নেই।

আগে ৭ কিলোমিটার ঘুরপথে শহরে প্রবেশ করতে হত। চ্যাংদোলা করে রোগী নিয়ে যেতে হয়। কারণ সেখানে অ্যাম্বুল্যান্স ঢুকতে পারে না। কয়েক বছর আগে রেলসেতুর সঙ্গে ফুটব্রিজ তৈরি করা হয়েছে। ফলে হেঁটে পার হওয়া যায়। এছাড়া একটি সাইকেল অথবা মোটর সাইকেল যেতে পারে। তবে অ্যাম্বুল্যান্স ও দমকলের গাড়ি যাওয়ার মতো কোনও রাস্তা আজও নেই।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা গীতা সরকার বলেন, শহরে থেকেও ৩০ বছর ধরে নৌকা করে ভোট দিতে যেতে হয়। কালজানি নদীতে সেতু না থাকায় ছেলেমেয়েছের পড়াশোনা করাতে সমস্যা হয়েছে। সেতু হওয়ার আসায় ভোট দিয়ে যাই আমরা। শোভাগঞ্জ এলাকার  শচীন্দ্রনাথ দাস নামে ৭১ বছরের একজন বাসিন্দা বলেন,  আগে সাত কিলোমিটার ঘুরে শহরে ভোট দিতে যেতাম। এমনকি  রেলপথ দিয়ে যেতে হত। রেলব্রিজে কত লোকের প্রাণ গিয়েছে। এখন ফুটব্রিজ হয়েছে। তবে এলাকায় অ্যাম্বুল্যান্স ও দমকলের গাড়ি আসার কোনও ব্যবস্থা নেই।

কালজানি নদীর ওপারে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের চাপরেরপার-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের শোভাগঞ্জ ও চেংপাড়া এলাকার এই তিনটি বুথের কয়েশো ভোটার নৌকায় চড়ে ভোট দিতে শহরে আসেন। তবে শুধু ভোট নয়, সারা বছরের জীবন ও জীবিকা একইরকমভাবে চলে। পাড়ায় ভোটের প্রচারে  গিয়ে জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ইস্যু  একই। সেতু তৈরি করে শহরের মূলস্রোতের সঙ্গে যুক্ত করা। তবে কবে হবে কেউ জানেন না। তবু ভোট দেন পরিবর্তনের আশায়। পাড়ায় আলোচনা চলে কে কোন দলে। কে জিতবে, কে হারবে। অথবা কোন দল ক্ষমতা দখল করবে। যে দলই জিতুক বাসিন্দাদের একটাই প্রশ্ন শহর থেকেও কেন শহরের পরিবেশ থেকে  বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে হবে। শহরে যেতে ভরসা আজও নৌকা।