পদ্মশ্রী প্রাপক গুরুমা কমলি সোরেনের অপেক্ষায় গাজোলবাসী

114

গাজোল: সমাজসেবামূলক কাজের জন্য ‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কার প্রাপক হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছিল গাজোলের গুরুমা কমলি সোরেনের। মঙ্গলবার নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ গুরুমার হাতে তুলে দেন পদ্মশ্রী পুরস্কার। পুরস্কার পাওয়ার পর এদিনই বিমানে দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরছেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাতে গাজোলের উদ্দেশে রওনা তিনি। শুক্রবার গাজোলে পৌঁছোতেই আদিবাসী প্রথায় তাঁকে সংবর্ধনা জানানো হবে। এরপর গাজোল শহর থেকে শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হবে তাঁর আশ্রম কোটাল হাটি গ্রামে।

পুরাতন মালদা থানা এলাকার যাত্রা ডাঙ্গা বাগমারা গ্রামের এক সাধারণ আদিবাসী পরিবারের মেয়ে কমলি সোরেন। গাজোলের গোডাং এলাকার তালতলা গ্রামের বাসিন্দা শাওনা হেমব্রমের সঙ্গে তাঁর প্রথম বিয়ে হয়। স্বামী মারা যাওয়ার পর জড়িয়ে পড়েন সমাজসেবার কাজে। একটি আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নেমে পড়েন সমাজ সেবার কাজে। দীক্ষা নেন রাজেন সাধুর কাছে। দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন আশ্রমিক ভগন কিস্কুকে। গাজোলের প্রত্যন্ত এলাকা কোটালহাটি গ্রামের আশ্রমকে কেন্দ্র করে এরপর আরও বেশি করে জড়িয়ে পড়েন সমাজ সেবামূলক কাজে। মূলত আদিবাসী থেকে যারা খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হতেন তাঁদের আবার আদিবাসী সমাজে ফিরিয়ে আনার কাজে ব্রতী হয়েছিলেন তিনি। মালদা জেলা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়ে যাওয়া আদিবাসীদের আবার মূলস্রোতে ফিরিয়ে এনেছেন তিনি। কাজের সুবাদে গোটা রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছে তাঁর শিষ্য। মূলত এধরনের সমাজসেবামূলক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি পদ্মশ্রী প্রাপক হিসেবে গুরুমা কমলি সোরেনের নাম ঘোষণা করা হয়।

- Advertisement -

পদ্মশ্রী পুরস্কার পাচ্ছেন গুরুমা কমলি সরেন এই খবর চাউর হতেই পরের দিন সকাল থেকেই বহু মানুষের ভিড় জমে যায় তাঁর আশ্রমে। সম্বর্ধনা জানান গাজোল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বিন্দু পুঝর মাল, উপ-প্রধান কাজল কুন্ডু, তৎকালীন বিজেপির জেলা পরিষদ সদস্য সাগরিকা সরকার, উত্তর মালদা লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ খগেন মুর্মু সহ অনেকেই। মাস কয়েক আগে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র চেয়ে রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে চিঠি পাঠানো হয়। সেই অনুযায়ী তাঁর এবং একজন সহযোগীর প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়া হয়। পরবর্তীতে এদিন তাঁর হাতে পদ্মশ্রী পুরস্কার তুলে দেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।

৯২ বছর বয়সি কমলিদেবীর গুরুদেব রাজেন সাধু জানিয়েছেন, তাঁর শিষ্যা কমলি সোরেন এই পুরস্কার পাওয়ায় তিনি খুবই খুশি। দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবার কাজে যুক্ত রয়েছেন কমলি। অনেক ভালো ভালো কাজ করেছেন। তাঁর মাধ্যমেই আশ্রমের নাম ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশজুড়ে।