বিভিন্ন সমস্যা মেটানোর দাবিতে প্রশাসনের দারস্থ হাঁড়িকামাত গ্রামের বাসিন্দারা

245

গৌতম সরকার, চ্যাংরাবান্ধা: এমনিতেই কাঁটাতারের বেড়াবন্দি হয়ে রয়েছে তাঁদের গ্রাম। তার উপর করোনা পরিস্থিতির জেরে নিয়মের কড়াকড়ি হয়েছে অনেকটাই, যা অব্যাহত রয়েছে এখনও। বিভিন্ন সমস্যা মেটানোর দাবিতে মঙ্গলবার প্রশাসনের দারস্থ হলেন মেখলিগঞ্জ ব্লকের চ্যাংরাবান্ধা গ্রাম পঞ্চায়েতের বাংলাদেশ সীমান্তঘেরা ১৪১ কামাত চ্যাংরাবান্ধার হাঁড়িকামাত ভাঙ্গিটারি গ্রামের কাঁটাতারের বেড়াবন্দি মানুষেরা।

হাঁড়িকামাত এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, তাঁদের অধিকাংশ মানুষেরই বসতভিটা এবং চাষের জমি বেড়ার বাইরে রয়েছে। তাই এপারের বাজারঘাট থেকে তাদের চাষের কাজের জন্য রাসায়নিক সার সহ বিভিন্ন কৃষি সামগ্রী নিয়ে যেতে হচ্ছে। কিন্তু নিয়মের কড়াকড়ির কথা বলে সারের সঙ্গে মাটি মিশিয়ে নিতে বলা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাংক থেকে নিজস্ব টাকা তুলে নিয়ে যাওয়ার সময়ও সেই টাকার নথিপত্র চাওয়া হচ্ছে প্রহরারত বিএসফ কর্মীদের তরফে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদেরও এইসব কারণে যাতায়াত করতে সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ। বেড়ার গেট খোলার নিয়মের সরলীকরণও চাইছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য ইতিপূর্বে প্রশাসনের তরফে সীমান্তবাসীদের নিয়ে বৈঠক করে আলোচনা করার পরও সমস্যা মিটছে না।

- Advertisement -

রাসেল ইসলাম, মহাসিন আলি প্রমূখ বাসিন্দারা বলেন, সীমান্তের নিয়মকানুনের নামে তাঁদের হয়রানির স্বীকার হতে হচ্ছে। যাতায়াত সহ চাষাবাদের কাজেও নিয়মকানুনের যাতাকলে পড়ে তাঁদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। এইসব একাধিক সমস্যা ও অভিযোগের কথা লিখিতভাবে মেখলিগঞ্জের মহকুমা শাসককে জানানো হয়েছে।

যদিও বিএসএফের দাবি, যেহেতু এই গ্রাম ঘেঁষেই বাংলাদেশ সীমান্ত তাই নিরাপত্তার কোনওরকম খামতি রাখতে চাইছেন না তাঁরা। কিছু অসাধু মানুষ তাঁদের বিরুদ্ধে অসত্য অভিযোগ এনে বদনাম করার চেষ্টা মাঝেমধ্যেই করে থাকেন। হাঁড়িকামাত এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত এইনিয়ে এলাকার মানুষ, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় ব্লক ও মহকুমা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সীমান্তরক্ষীবাহিনীর কর্তাদের উপস্থিতিতে বৈঠক ডেকে সমস্যা মেটানো হোক। সকলের সামনে বেড়াবন্দি মানুষ তাঁদের সমস্যার কথা জানাতে চান। তবে প্রশাসনকে লিখিতদাবিপত্র দেওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরও এইবিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে মেখলিগঞ্জের মহকুমা শাসক রাম কুমার তামাং কোনও মন্তব্য না করলেও ওই এলাকার মানুষের তরফে একটি স্মারকলিপি জমা পড়েছে। এইবিষয়ে বিএসএফসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বলে মহকুমা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সবিতা বিশ্বাস জানিয়েছেন, বেড়াবন্দি হাঁড়িকামাত এলাকার মানুষের তরফে বিভিন্ন সমস্যা এবং দাবির বিষয়ে তাঁকেও অবগত করা হয়েছে। বিষয়গুলি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। যদিও বিএসএফের জলপাইগুড়ি সেক্টরের কর্তারা জানিয়েছেন, ওই এলাকায় বিএসএফ নিয়ম মেনে সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সীমান্তবাসীদের তরফে তোলা হয়রানির অভিযোগ ঠিক নয় বলেও তাঁরা দাবি করেন। এছাড়াও চোরাচালান বন্ধ করতেও তাঁরা সক্রিয় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।