বিকল্প সড়ক চাইছেন জয়গাঁর বাসিন্দারা

638

সমীর দাস, জয়গাঁ: নিত্যদিনের যানজট সমস্যা এড়াতে জয়গাঁবাসী দীর্ঘদিন ধরে শহরে প্রবেশের বিকল্প সড়ক তৈরির দাবি তুলছেন। জয়গাঁ যাওয়ার প্রধান সড়কটি বর্তমানে এশিয়ান হাইওয়ের অন্তর্ভুক্ত। এই রাস্তায় প্রায়দিনই যানজট লেগে থাকে। ফলে নিত্যযাত্রী, স্কুল পড়ুয়ারা সমস্যায় পড়ে। সে কারণে তোর্ষা চা বাগানের পাশ দিয়ে বড় ও ছোট মেচিয়াবস্তি হয়ে যে কাঁচা রাস্তাটি গিয়েছে, সেটি পাকা করার দাবি উঠেছে। এই রাস্তাটি তৈরি হলে ভুটানগামী এশিয়ান হাইওয়ে ওপর চাপ কমবে। জয়গাঁর প্রাণকেন্দ্রে যানজট সমস্যাও অনেকটা কমবে। বৃহত্তর জয়গাঁ শহর গড়ে তুলতে বিকল্প রাস্তা তৈরির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন।

রাস্তাটি তৈরি হলে শুধু যানজট সমস্যার সমাধানই হবে না, সেই সঙ্গে জয়গাঁ-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন বড় ও ছোট মেচিয়া বস্তির অনেকটাই উন্নয়ন হবে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন। জয়গাঁ শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে তোর্ষা চা বাগান এলাকা থেকে একটি কাঁচা রাস্তা বড় মেচিয়াবস্তির দিকে চলে গিয়েছে। মাঝে হাসিমারা ঝোরা রয়েছে। ফলে বছরের অন্য সময়ে যাতায়াতে সমস্যা না হলেও বর্ষায় হাসিমারা ঝোরা ও অন্য একটি ঝোরার জল ওই রাস্তায় উপচে পড়ে। সে সময় ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। সেজন্য ওই ঝোরার উপর কালভার্ট তৈরি করে রাস্তাটি পাকা করার দাবি উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, রাস্তাটি জয়গাঁর মহাত্মা গান্ধি রোডের সঙ্গে যুক্ত করা দরকার। এর ফলে বড় মেচিয়াবস্তির সঙ্গে জয়গাঁর সরাসরি যোগাযোগ গড়ে উঠবে। পণ্য পরিবহণেও গতি আসবে।

- Advertisement -

ওই এলাকায় জয়গাঁ দমকলকেন্দ্রের নির্মাণকাজ চলছে। রাস্তাটি তৈরি হলে মূল শহরে পৌঁছোতে দমকলকর্মীদের অনেকটাই কম সময় লাগবে। এর ফলে জয়গাঁয় কোথাও আগুন লাগলে তা নেভাতে দমকলকর্মীদের অনেকটাই  সুবিধা হবে। সেজন্য বিকল্প সড়কের দাবি উঠেছে।

জয়গাঁ উন্নয়ন পর্ষদের অ্যাসিস্ট্যান্ট এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার পার্থসারথি দাস বলেন, ২০০৫ সালে ওই রাস্তাটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। বিল না পেয়ে কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি সংস্থা। এরপর রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তারা মামলা করে। সম্প্রতি মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। রাস্তার কাজ দ্রুত শুরু হতে পারে।

জয়গাঁ উন্নয়ন পর্ষদের অ্যাসিস্ট্যান্ট এগজিকিউটিভ অফিসার পি ডি ভুটিয়া বলেন, রাস্তাটি জয়গাঁ উন্নয়ন পর্ষদের অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে নির্মাণকাজ দ্রুত শুরুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে জানাব। আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ পাসাং ডিকি ভুটিয়া বলেন, ওই এলাকার একটি কালভার্ট তৈরির জন্য জেলা পরিষদ টাকা অনুমোদন করেছে। শীঘ্রই টেন্ডার ডাকা হবে।