লোকালয়ের চেয়ে নদীখাত উঁচু, হড়পায় ভাসার শঙ্কায় জয়ন্তীর বাসিন্দারা

296

আলিপুরদুয়ার : দিন দিন যেভাবে জয়ন্তী নদীর গভীরতা কমছে, তাতে হড়পায় ভেসে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন জয়ন্তীর বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ড্রেজিং না হওয়ায় বালি-পাথর জমে নদীখাতের উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। একদিকে জয়ন্তীর জনপদ, অন্যদিকে ভুটিয়া বস্তি, দুই এলাকার চেয়ে নদীবক্ষ এখন উঁচু হয়ে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, নদীগর্ভের উচ্চতা বাড়তে থাকায় হড়পা এলে লোকালয় ভেসে যাবে। পাশাপাশি বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জীববৈচিত্র‌্যের উপরেও প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা।

১৮৭৫ সালে জিওলজিস্ট এফ আর ম্যলেট ডলোমাইটের সম্ভারের খোঁজ পেয়েছিলেন। বক্সার লেপচাকো থেকে শুরু হয়ে জয়ন্তী নদীর উত্তর বরাবর সাচাফু পাহাড়মালা ধরে রায়ডাক নদী পর্যন্ত এই ডলোমাইটের বিস্তার। জয়ন্তীর কাছে শিলাস্তরে প্রচুর পরিমাণে তামা ও লোহার আকরিক খুঁজে পান তিনি। এরপর জয়ন্তীতে ১৯৩২ সালে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে ডলোমাইট উত্তোলন শুরু করে বেঙ্গল লাইম অ্যান্ড স্টোন কোম্পানি। এরপরেই বাড়তে থাকে জয়ন্তীর গুরুত্ব। সেই সময় থেকে কোচবিহার-আলিপুরদুয়ার এবং কুমারগ্রাম-অসম সহ উত্তর-পূর্ব ভারতে যাওয়ার প্রধান রাস্তা ছিল এই জয়ন্তী। ভরা বর্ষায় নদী পারাপারের জন্য রোপওয়ে বানানো হয়েছিল। নদীর উপর ১৯১৫ সালে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে ব্রিটিশ সরকার। ১৯৯৩ সালে জয়ন্তীর বন্যায় জয়ন্তী সেতু ভেঙে যায়, শুধুমাত্র স্তম্ভ দাঁড়িয়ে থাকে। এখনও জয়ন্তীতে গেলে দেখা যায়, সেই সেতুর পিলার ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ২০১৮ সালের বন্যাতেও জয়ন্তী জনপদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়। জয়ন্তীতে পূর্ত দপ্তরের বাংলো, পিএইচইর বাংলো, হাইস্কুল, এসএসবির বিপিও, বন দপ্তরের রেঞ্জ ও বিট অফিস, বাংলো, ৬০টি লজ, অসংখ্য হোটেল ও হোমস্টে রয়েছে। বক্সা, ২৮  মাইল বস্তি, ৩০ মাইল বস্তি, সন্তলাবাড়ি মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা রয়েছেন। জয়ন্তীর বাসিন্দা শেখর ভট্টাচার্য বলেন,  দীর্ঘদিন নদীতে ড্রেজিং না হওয়ার ফলে আজ নদীর পাড়ের তুলনায় নদীবক্ষ অনেক উঁচু হয়ে গিয়েছে। নদীর বালি-পাথরে চাপা পড়তে পড়তে জয়ন্তী সেতুও ধ্বংসের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসন এখনই যদি এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে, তাহলে আর দুচার বছরেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে জয়ন্তী। আলিপুরদুয়ার নেচার ক্লাবের সভাপতি অমল দত্ত বলেন, যেভাবে জয়ন্তী নদীর রিভারবেড উঁচু হয়ে গিয়েছে, তাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই জয়ন্তীর জনপদ আর উলটো দিকে ভুটিয়া বস্তি নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে। অবিলম্বে এই দুই জনপদের বাসিন্দাদের অন্য জায়গায় পুনর্বাসন দেওয়া দরকার। আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি মনোরঞ্জন দে বলেন, পরিবেশ আদালতে জয়ন্তী নিয়ে মামলা থাকায় নদীর ড্রেজিং করা যাচ্ছে না। ফলে আজ নদীর দুপাশের তুলনায় নদীবক্ষ অনেকটাই উঁচু হয়ে গিয়েছে। তবে জয়ন্তীর জনপদকে বাঁচাতে বোল্ডারের বাঁধ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভুটিয়া বস্তি এলাকাতেও বাঁধ তৈরি হচ্ছে। কীভাবে জয়ন্তীকে বাঁচানো যায়, তার জন্য আমরা প্ল্যানিং করে রাজ্য সরকারের কাছে কিছু প্রস্তাব দিচ্ছি।

- Advertisement -