লকডাউনে র‌্যাশন আনতে হাঁটতে হয় ছয় কিলোমিটার

251

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, আলিপুরদুয়ার : ভৌগোলিক কারণে বিচ্ছিন্ন কোচবিহার জেলার খোল্টা-মরিচবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি অংশ আলিপুরদুয়ার পুরসভার মধ্যে ঢুকে গিয়েছে। আলিপুরদুয়ারের ১২ এবং ১৮ নম্বর ওয়ার্ড দিয়ে কোচবিহারের ভূখণ্ড খোল্টা ঘাটপার ঘেরা রয়েছে। খোল্টা-মরিচবাড়ি ৩/৬৬ নম্বর বুথের প্রায় পুরোটাই আলিপুরদুয়ারের মধ্যে। লকডাউনের ফলে ওই এলাকার বাসিন্দারা বিপাকে পড়েছেন।

র‌্যাশন আনতে তাঁদের ৬ কিলোমিটার দূরে খোল্টা হাটে যেতে হয়। তার জন্য আলিপুরদুয়ার শহরের মাঝখান দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। প্রশাসনিক কাজে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে পুণ্ডিবাড়িতে যেতে হয়। অভিযোগ, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলার সীমানায় থাকা নাকা চেকিংয়ে পুলিশ তাদের আটকে দিচ্ছে। যেতে দেওয়া হচ্ছে না তাদের। অটো, টোটো বা বাস চলছে না। ফলে যাঁদের ডিজিটাল র‌্যাশন কার্ড নেই, তাঁরা নতুন করে আবেদনের জন্য ব্লক অফিসে যেতে পারছেন না। প্রচেষ্টা প্রকল্পের ফর্ম ফিলআপ সহ অন্য সরকারি সুবিধা থেকেও তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন। পরিষেবা পাওয়ার জন্য তাঁরা প্রশাসনের কাছে বিশেষ ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

- Advertisement -

এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য নমিতা মণ্ডল রায় বলেন, আলিপুরদুয়ার পুরসভা ঘেরা অংশে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ বসবাস করেন। প্রতিটি প্রশাসনিক কাজে তাঁদের পুণ্ডিবাড়ি অথবা খোল্টায় যেতে হয়। যাতায়াতের জন্য আলিপুরদুয়ার শহরের রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। এলাকার বাসিন্দা সীতারাম শর্মা বলেন, ডিজিটাল র‌্যাশন কার্ডের জন্য অনেক আগেই আবেদন করেছিলাম। কিন্তু পাইনি। ফলে র‌্যাশন পাচ্ছি না। এখন নতুন করে আবেদন করতে হবে। তার জন্য বিডিও অফিসে যাওয়া জরুরি। কিন্তু গাড়ি চলছে না। আর বাইক নিয়ে গেলেই পুলিশ আটকে দিচ্ছে। আমাদের কথা ভেবে বিশেষ ব্যবস্থা করা হোক-যাতে গ্রামে থেকেই আমরা প্রশাসনিক সুবিধা পেতে পারি। এলাকার আরেক বাসিন্দা পূর্ণিমা সেনগুপ্ত বলেন, আমরা বন্দি হয়ে আছি। র‌্যাশন খুবই জরুরি। কিন্তু টোটো নিয়ে গেলেই পুলিশ আটকে দিচ্ছে। বাধ্য হয়ে র‌্যাশনের জন্য ১২ কিলোমিটার রাস্তা হেঁটেই যাতায়াত করতে হচ্ছে। অনেক জায়গাতেই শুনেছি, বাড়িতে র‌্যাশন পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের এখানে তেমন হলে ভালো হয়। অনেক আগেই কোচবিহার জেলার ওই অংশকে আলিপুরদুয়ার জেলার সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার দাবি তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা। সেই দাবির সমর্থনে বিভিন্ন জায়গায় চিঠিও পাঠিয়েছিলেন তাঁরা। যদিও ওই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পদক্ষেপ করা হয়নি বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

এলাকার প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য রতনলাল রায় বলেন, আমাদের অবস্থা ছিটমহলের মতো। লকডাউন তা আরও জটিল করে তুলেছে। খোল্টা-মরিচবাড়ি পঞ্চায়েতের প্রধান শক্তি দাস বলেন, চারদিকে আলিপুরদুয়ার পুরসভা দিয়ে ঘেরা থাকায় ওই এলাকায় নানা ধরনের সমস্যা আছে। আমরা যতটা পারছি গ্রামেই সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। ডিজিটাল র‌্যাশন কার্ড সহ অন্য বিষয় নিয়ে ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কোচবিহার সদর মহকুমা শাসক সঞ্জয় পাল বলেন, প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা করে পদক্ষেপ করা হবে।