মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, বীরপাড়া : চাঁদা তুলে ভুটান পাহাড়ের ঝরনার জল পাইপ লাগিয়ে আনার ব্যবস্থা করেছেন এলাকাবাসী। কমবেশি চার কিলোমিটার পথ হেঁটে ওই জল সংগ্রহ করতে হয় তাঁদের। আবার প্রতি বর্ষায় পাড় ভাঙে বাংড়ি নদী। বৃষ্টি হলে পাহাড় থেকে হুড়মুড়িয়ে নেমে আসা জলরাশি ভেঙে তছনছ করে দেয় রাস্তাঘাট, জনপদ। আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লকের ভুটান সীমান্তবর্তী অচল লঙ্কাপাড়া চা বাগানের রমেশ থাপা, মিতা লামা সহ অন্য বাসিন্দাদের দাবি, বর্ষার আগেই  এলাকার ভাঙন রোধে পাকাপোক্ত ব্যবস্থা নেওযা হোক। তবে, তারও আগে এলাকায়  পানীয় জল সরবরাহ করার ব্যবস্থা চাইছেন তাঁরা। ওই এলাকায় তৃণমূল যুব কংগ্রেসের তরফে  দিদিকে বলো কর্মসূচি চলাকালীন স্থানীয় বাসিন্দা অর্জুন ছেত্রী, গোবিন্দ পরজা সহ অনেকেই এলাকার ভাঙন রোধ ও পানীয় জলের সমস্যা সমাধানে তাঁদের দাবি  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে কাছে পৌঁছে দেওয়ার আবেদন জানান। লঙ্কাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়ে সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় বারো হাজার বাসিন্দা পানীয় জলের সমস্যায় ভুগছেন।

গত ২৩ নভেম্বর তৃণমূল যুব কংগ্রেসের তরফে লঙ্কাপাড়ায় দিদিকে বলো কর্মসূচি শেষ হয়েছে। কর্মসূচি চলাকালীন স্থানীয় বাসিন্দারা লঙ্কাপাড়া এলাকার নদীভাঙন দেখান তৃণমূল যুব কর্মীদের। এলাকায় শুখা মরশুমে পানীয় জলের সমস্যার কথাও তাঁরা জানান। তৃণমূল যুবর মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লক কমিটির সভাপতি সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, ওই এলাকায় পানীয় জল ও ভাঙনের সমস্যা রয়েছে। এলাকায় জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের তরফে পানীয় জলপ্রকল্পের কাজ চলছে। তবে, আরও একটি প্রকল্প তৈরি করা দরকার। ভাঙন রোধেও শক্তপোক্ত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আগামী বর্ষায় বেশ কিছু বাড়ির অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।

লঙ্কাপাড়া চা বাগানে পানীয় জলের সমস্যা বরাবরের। বিশেষ করে ২০১৫ সালে ডানকানসের ওই চা বাগানটি অচল হয়ে যাওয়ার পর থেকে চা বাগান কর্তৃপক্ষের তরফে পানীয় জল সরবরাহ করা বন্ধ হয়ে যায়। গত এপ্রিল মাসে এলাকার বাসিন্দারা নিজেরাই চাঁদা দিয়ে পাইপ কিনে আনেন। এলাকার কুড়ি-পঁচিশজন যুবক কিছুদিন আগে স্বেচ্ছাশ্রমে সেই পাইপগুলি পাহাড়ের ঢাল বরাবর বসিয়ে দূরের ঝরনা থেকে জল আনার ব্যবস্থা করেছেন। তবে, বৃষ্টি হতেই জলের তোড়ে পাইপলাইনগুলির ক্ষতি হতে শুরু করে। বর্ষাকালে পাহাড়ের জলের তোড়ে বেশ কয়েবার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় পাইপলাইন। লঙ্কাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিনেশ রাই বলেন, ওই চা বাগানের হাজারদশেক মানুষ পানীয় জলের সমস্যায় ভুগছেন। চাঁদা তুলে কয়েকদিন পরপর পাইপলাইন মেরামত করতে হচ্ছে। ডাকবাংলো এলাকায় পানীয় জলপ্রকল্পের কাজ শেষ হলে ফ্যাক্টরি লাইন, সুকান্তি লাইন, এল বি লাইন, পাগলি খাস এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা মিটে যাবে। কিন্তু ২০ নম্বর ও ৫ নম্বর সেকশন এবং বাজার এলাকাগুলি এই প্রকল্পের আওতায় আসবে না।

ভাঙনের জেরে রাস্তাঘাট তছনছ হয়ে যাওযা ও বাড়িঘরের অস্তিত্বসংকটের বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন লঙ্কাপাড়া চা বাগানের বাসিন্দারা। ভুটান পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত হওযায় জায়গাটির ভূমির ঢাল বেশি। ফলে, বৃষ্টির জল বয়ে যাওযার সময় ব্যাপক স্রোতের সৃষ্টি হয়। স্বাভাবিকভাবেই জলস্রোতের তীব্রতায় রাস্তাঘাট সহ উঁচু-নীচু জমিতে ভাঙন দেখা দেয়। লঙ্কাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতি বর্ষায় এলাকার  রাস্তাঘাটগুলি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক জায়গাতেই বাংড়ি নদীর পাড় ভাঙতে ভাঙতে চা বাগানের শ্রমিক মহল্লার বাড়িগুলির একেবারে কাছে চলে এসেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে দাবি গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের। তৃণমূল যুবর মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লক কমিটির সভাপতি সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, লঙ্কাপাড়া চা বাগানের সমস্যাগুলি নথিভুক্ত করা হয়েছে। সংগঠনের তরফে বিষয়গুলি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।