রামকৃষ্ণ বর্মন, জামালদহ : দূর থেকে চোখে পড়ে বাহারি আলোর রোশনাই। কানে আসে ঢাকের আওয়াজ। কিন্তু মণ্ডপের কাছে যাওয়ার উপায় নেই। কারণ অসুররূপী কাঁটাতারের বেড়া। এই বেড়াই তাঁদের প্রাণ খুলে শারদোত্সবের আনন্দে মেতে উঠতে দেয় না। পুজোর কটা দিন তাই মন ভারই থাকে লোথামারির বাসিন্দাদের।

কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের জামালদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের লোথামারি গ্রাম। এই গ্রামে মেরেকেটে ৯০টি পরিবারের বসবাস। বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা এই গ্রামটি সম্পূর্ণ কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা। ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ করতে হয় কাঁটাতারের বেড়ার গেট দিয়ে এই গেট নিয়ন্ত্রণ করেন বিএসএফের জওয়ানরা। সকাল ছটায় গেট খোলা হয় আর সন্ধে ছটার মধ্যে তা বন্ধ হয়ে য়ায়। ওই সময়সীমার মধ্যেই যাবতীয় কাজ সারতে হয় লোথামারির বাসিন্দাদের। রাতে গ্রামের বাইরে থাকার কোনো সুযোগ বা অনুমতি নেই তাঁদের। তাছাড়া লোথামারি গ্রামে কোনো দুর্গোত্সব হয় না। তাই ঠাকুর দেখতে হলে তাঁদের কাঁটাতারের গেট পেরিয়ে এপারে আসতে হয়। কিন্তু পুজোর মরশুমেও বাড়তি সময় গেট খোলা থাকে না। ফলে রাতেরবেলা পুজোর আনন্দ উপভোগ করতে পারেন না লোথামারিবাসী। লোথামারি গ্রামের বাসিন্দা সুকুর বর্মন, রবীন্দ্র বর্মন, প্রফুল্ল বর্মনরা জানান, কাঁটাতারের ফাঁক গলে আলোর রোশনাই চোখে পড়ে। ঢাকের বাদ্যিও কানে ভেসে আসে। কিন্তু মণ্ডপের কাছে যেতে পারি না। দূর থেকেই বাহারি আলো দেখে ও ঢাকের বাজনা শুনেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। প্রতিবছরের মতো এবছরও দুর্গোৎসবের মরশুমে তাঁদের কাছে সাক্ষাৎ অসুর যেন এই কাঁটাতারের বেড়া।