লুকসানের শ্রমিক মহল্লায় ঝোরার জলই ভরসা

288

শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা : বেঁচে থাকার জন্য ঝোরার জলই ভরসা লুকসান চা বাগানের কানি লাইন নামে শ্রমিক মহল্লার বাসিন্দাদের। শুধু গৃহস্থালীর কাজের জন্যই নয়, ওই জল পান করতে হয় তাঁদের। অভিয়োগ, প্রশাসনের কাছে বিষয়টি জানিয়ে আজ পর্যন্ত সেখানকার পানীয় জল সমস্যার কোনও সমাধান হয়নি। এর ফলে পেটের রোগ লেগেই রয়েছে বলে শ্রমিকদের অভিয়োগ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন কানি লাইনে কয়েকটা কুয়ো থাকলেও সেগুলিতে জল থাকে না অথবা থাকলেও তা পানের যোগ্য নয়। এখানে কোনও টিউবওয়েলও নেই। লুকসান চা বাগানেরই একটি অংশে পানীয় জলপ্রকল্পের কাজ চলছে। তবে সেই প্রকল্প আদৌ এই এলাকার বাসিন্দাদের কাজে আসবে কিনা, সেবিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

যে রাস্তা দিয়ে ওই শ্রমিক মহল্লার বাসিন্দারা জল সংগ্রহ করতে যান, সেটি খানাখন্দে ভরা। চড়াই উতরাই পেরিয়ে একটি ঝোরার জল সংগ্রহ করার জন্য সকাল-বিকেল লাইনে দাঁড়ান মহিলারা। পানীয় জল সংগ্রহের পাশাপাশি সেখানে জামাকাপড় কাচা, বাসন মাজা, স্নান করা চলে। মনচলি মাহালি বলেন, আমরা এই জল খাই, তা দিয়ে রান্না করি। আবার এখানেই স্নান করি। সমস্যার সমাধানের জন্য কতজনকে যে অনুরোধ করা হয়েছে তার কোনও ঠিক নেই। সবাই শুধু এসে দেখে যায়। বাবলি মাহালি বলেন, বর্ষাকালে ঝোরার জল আর বৃষ্টির জল মিশে যায়। তখন জল সংগ্রহে আরও বেশি সমস্যা হয়। স্থানীয় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের শিশুদের রান্নার জলেরও একমাত্র ভরসা এই ঝোরা। রাতে জলের প্রয়োজন হলে বাড়ি থেকে এই অবধি আসতে ভয় করে। এলাকায় হাতি বেরোয়। সীতামুনি মাহালির অভিযোগ, তাঁর বাড়িতে কাঁচা কুয়ো থাকলেও তার জল পান করা যায় না। সুরজ তিরকি নামে এক যুবক বলেন, এই ঝোরার জল দূষিত, কারণ এখানেই স্নান, কাপড় কাচা চলে। বাগানে যে জলপ্রকল্পটি হচ্ছে, সেটা কানি লাইনে করা উচিত ছিল। য়ে জায়গাটিকে নির্বাচন করা হয়েছে, সেখান থেকে ভৌগোলিক কারণে জল এ পর্যন্ত পৌঁছাবে না বলে আমাদের ধারণা।

- Advertisement -

আদিবাসী বিকাশ পরিষদের জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির আহ্বায়ক রাজেশ লাকড়া বলেন, প্রশাসনের উচিত দ্রুত সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ করা। নাগরাকাটার বিডিও স্মৃতা সুব্বা বলেন, ওই জায়গায় এর আগে রিগবোর টিউবওয়েল তৈরির পরিকল্পনা নেওযা হয়েছিল। তবে গাড়ি ঢোকার জায়গা না থাকায় কাজটি করা সম্ভব হয়নি। লুকসান চা বাগানেরই একটি অংশে পানীয় জলপ্রকল্পের একটি কাজ চলছে। সেখান থেকে পাইপ দিয়ে কানি লাইনে জল সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করা যায় কিনা, তা দেখা হচ্ছে। নয়তো অন্য কোনও পদক্ষেপ করা হবে।