রাস্তা সংস্কারের আশায় দিন গুনছেন মদনজোতের বাসিন্দারা

204

মহম্মদ হাসিম, খড়িবাড়ি  : কয়েক মাস ধরে রাস্তা সংস্কার সংক্রান্ত ফাইল পড়ে রয়েছে এসজেডিএর সিইওর ঘরে। অন্যদিকে, রাস্তা মেরামতের অপেক্ষায় দিন গুনছেন খড়িবাড়ি ব্লকের রানিগঞ্জ পানিশালী গ্রাম পঞ্চায়েতের মদনজোত সংসদ এলাকার প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা। ভারত-নেপাল সীমান্তের মেচি নদীর ধারে অবস্থিত মদনজোত থেকে এশিয়ান হাইওয়ে-২ কোয়ার্টার মোড় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তায় একাধিক জায়গায় বড় গর্ত হয়েছে। গত ১২ বছর ধরে রাস্তাটির এই অবস্থার জেরে উত্তর রামধন, মদনজোত, গৌরসিংজোত, ওয়ারিশজোত ও প্রসাদুজোত এলাকার বাসিন্দা, কৃষক, ব্যবসায়ী, পড়ুয়া, এসএসবি জওয়ানরা সমস্যায় পড়েছেন। অভিযোগ, রাস্তাটি সংস্কারের জন্য শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদে বারবার আবেদন করা হলেও কাজ কিছুই হয়নি।

২০০৮ সালে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের তরফে রাস্তাটি পাকা করা হয়েছিল। কিন্তু তিন বছরের মাথায় ধীরে ধীরে পিচ উঠতে থাকে। এখন রাস্তাটি খানাখন্দে ভরে গিয়েছে। এশিয়ান হাইওয়ে২-তে ওঠার জন্য চারটি সংসদের বাসিন্দারা এই রাস্তাটি ব্যবহার করেন। এলাকাবাসী দ্রুত রাস্তাটি মেরামতের দাবি তুলেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা জয়ন্ত বর্মন জানান, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে রাস্তার গর্তগুলিতে জল জমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এখন রাস্তা যেন ডোবা। মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটছে। যেখানে-সেখানে পড়ে থাকা পাথরের টুকরো গাড়ির চাকায় লেগে আশপাশে ছিটকে যায়। বেহাল রাস্তায় রোজ সমস্যায় পড়ছেন কৃষক, অন্তঃসত্ত্বা ও রোগীরা। রাস্তাটি মেরামতের দাবি তুলেছেন এসএসবি জওয়ানরাও। মদনজোত আউটপোস্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ডান্ট নিখিল বিশ্বাস জানান, তাঁদের অন্য পোস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হলে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। রাস্তার বেহাল দশায় আপত্কালীন পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর গাড়িগুলিও আটকে পড়ে।

- Advertisement -

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা রত্না মিশ্র জানান, আট মাস আগে খড়িবাড়ি বিডিও অফিসে আয়োজিত প্রশাসনিক বৈঠকে জেলা শাসকের নির্দেশে রাস্তাটি মেরামতের দায়িত্ব নেয় শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও কাজ কিছুই হয়নি। এসজেডিএর অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বরুণ দাস জানান, মদনজোতের তিন কিলোমিটার রাস্তাটি মেরামত করতে এক কোটি টাকার উপরে টেন্ডার করা হয়েছে। কিন্তু ফাইলটি এখনও এসজেডিএর সিইওর ঘরে পড়ে আছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে অফিসে ফাইলটি আটকে আছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এসজেডিএর চেয়ারম্যান বিজয়চন্দ্র বর্মন জানান, কেউ তাঁকে এ বিষয়ে অভিযোগ জানাননি। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।