ঘরের ছেলের ওমপ্রকাশের জয় দেখতে মুখিয়ে মালবাজার

187

বিদেশ বসু, মালবাজার : মাল শহরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের পানোয়ারবস্তি এলাকায় কাঠের বাড়িটি আজও আছে। তাতে কেউ থাকেন না অবশ্য। ফলকে লেখা শহিদ ঘনশ্যাম মিশ্র স্মৃতি ভবন। ঘনশ্যামবাবু এক সময় সোশ্যালিস্ট পার্টির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। তাঁর ছেলে ওমপ্রকাশ মিশ্র এবার শিলিগুড়ি কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী। ঘাসফুল শিবিরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নেতা মাল শহরের বিএল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রাক্তনী। এই সুবাদেই ওমপ্রকাশ মালবাজারের ঘরের ছেলে। শিলিগুড়িতে ভোটের লড়াইয়ে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীদের কতটা বেগ দেন সেদিকে মালবাজার সাগ্রহে নজর রাখছে।

ডুয়ার্সের আন্দোলনের অন্যতম পীঠস্থান মাল শহর। স্বাধীনতার পর ডুয়ার্সের চা বাগান এবং বিভিন্ন এলাকায় সমাজবাদী আন্দোলন গড়ে তুলতে ঘনশ্যাম মিশ্র গুরুত্বপূর্ণ ভমিকা নিয়েছিলেন। তাঁর আন্দোলনের কথা এখনও মাল শহরের প্রবীণদের মুখে মুখে ফেরে। সেই ঘনশ্যামবাবুর ছেলেই এবারে ভোটে দাঁড়িয়েছেন। এই সূত্রেই মালবাজার নস্টালজিয়ায় ভুগছে। শহরের প্রবীণ বাসিন্দা বিদ্যুৎ সরকার বলছেন, ঘনশ্যামদা সমাজবাদী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পরিবার নিয়ে পানোয়ারবস্তিতে অনাড়ম্বর জীবন কাটাতেন। সেখানেই দলের কার্যালয় ছিল। ১৯৬৬ সালে তিনি খুন হন। তিনি মারা যাওয়ার পর ছেলেমেয়েরা অনেক কষ্টের মধ্যে বড় হন। ওমপ্রকাশ মিশ্র এবার শিলিগুড়িতে তণমূলের প্রার্থী হয়েছেন। ওঁকে খুব ছোট অবস্থায় মাল শহরে দেখেছি। পরে তিনি বাইরে চলে যান। ভোটে উনি কী ফল করেন সেদিকে সাগ্রহে তাকিয়ে রয়েছি। বিএল উচ্চবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষক দিলীপ গঙ্গোপাধ্যায় বলছেন, ওমপ্রকাশ ও তাঁর দাদা আমাদের স্কুলে পড়াশোনা করতেন। ওঁরা পড়াশোনায় খুবই ভালো ছিলেন। ওঁদের সঙ্গে এখনও আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। শিলিগুড়িতে ভোটের লড়াইয়ে ওমপ্রকাশের জন্য আমার প্রচুর শুভকামনা রইল। মাল শহরের সিজার স্কুলের কর্মী তথা ওমপ্রকাশবাবুর ভ্রাতুষ্পুত্র ব্রজকান্ত মিশ্র বলেন, মালবাজার ও ডুয়ার্সে আমরা একসঙ্গে বড় হয়েছি। পুরোনা দিনের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে।

- Advertisement -

ওমপ্রকাশবাবু সম্প্রতি মাল শহরের বাসস্ট্যান্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের সভায় উপস্থিত ছিলেন। শহরের অনেকেই সেই সময় তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। ওমপ্রকাশ বলছেন, এই শহর জানে আমার প্রথম অনেক কিছুই। মালবাজারের সঙ্গে আমার নাড়ির টান। সময় পেলেই এখানে আসব।