বালি পাচার রুখল পূর্ব বর্ধমানের নাখড়া গ্রামের বাসিন্দারা

264

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দামোদর থেকে অবৈধ ভাবে বালি চলছিল পাচার। বৃহস্পতিবার দুপুরে সেই অবৈধ বালির কারবার রুখেদিল গ্রামবাসীরা। ঘটনাটি পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার বেরুগ্রাম পঞ্চায়েতের নাখড়া এলাকার। বৈধ চালান না থাকা বালি বোঝাই একাধিক ট্র্যাক্টর আটকে রেখে গ্রামবাসীরা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবিতে স্বোচ্চার হন। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় জামালপুর থানার পুলিশ নাখড়া গ্রামে পৌঁছে বালি বোঝাই ৫টি ট্র্যাক্টর ও তাঁর চালকদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। অবৈধ বালির কারবার বন্ধে নাখড়া গ্রামের বাসিন্দারা আন্দোলনে নামায় শঙ্কিত বালি কারবারীরা।

নাখড়া গ্রামের বাসিন্দা উদয় ঘোষ, সঞ্জয় ধারা বলেন, বেরুগ্রাম পঞ্চায়েতের শম্ভুপুর ঘাট থেকে প্রতিদিন অবৈধ ভাবে বালি তোলা হয়। সেই বালি শতাধিক ট্র্যাক্টরে ভরে সারাদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় পাচার করা হয়। সব জেনেও চুপ প্রশাসন। সঞ্জয় ধারা আরও বলেন, আনলক ১ পর্ব চালু হওয়ার পর থেকে বেপরোয়া ভাবে বালি পাচার শুরু হয়েছে। বালি বোঝাই ট্র্যাক্টরের দাপটে নাখড়া সহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দারের রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা দুরহ হয়ে উঠেছে। প্রতি মূহুর্তে বেপরোয়া ভাবে বালি বোঝাই ট্র্যাক্টর চলাচলের কারণে এলাকার মানুষ রাস্তায় বের হতে ভয় পাচ্ছেন।

- Advertisement -

অবৈধ বালির কারবার বন্ধে নাখড়া গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে এদিন যোগ দেন জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ সুনীল ধারা। তিনি জানান, তাঁর বাড়ি নাখড়া গ্রামেই। তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন দামোদরে শম্ভুপুর ঘাট থেকে অবৈধ ভাবে বালি তুলে ট্র্যাক্টরে ভরে পাচার করা হয়। প্রতিদিন ৪০০-৫০০ ট্র্যক্টরে ওই বালি ভরে পাচার করা হচ্ছে। বেপরোয়া ভাবে ট্র্যাক্টর চলাচলের কারণে এলাকার রাস্তাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

সুনীল ধারা জানান, এদিন তিনি ও গ্রামবাসীরা মিলে যতগুলি বালি বোঝাই ট্র্যাক্টর আটকেছেন, সেই সব ট্রাক্টরের কোনও চালকই বালির বৈধ চালান দেখাতে পারেননি। তা সত্ত্বেও ট্র্যাক্টর চালানোর জন্য বালিকারবারীরা নাখড়া গ্রামে এসে অশান্তি শুরু করে। তিনি দাবি করেন, বেরুগ্রাম অঞ্চলে বালি লুঠ হচ্ছে। কিন্তু সরকারের ঘরে কানাকড়িও জমা পড়ছে না। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার যে বালি পাচার হয়ে যাচ্ছে তার রাজস্ব সরকারের ঘরে জমা পড়লে সরকার আরও উন্নয়ন কাজ করতে পারতো। সুনীল ধারা আরও জানিয়েছেন, তাঁদের আটকানো ৫টি ট্র্যাক্টর ও তার চালকদের আটক করে পুলিশ থানায় নিয়ে গেছে। জামালপুর থানার এক অফিসার বলেই এই বিষয়ে স্পেশিফিক মামলা দায়ের করা হবে।