পাকা ঘরের প্রতীক্ষায় নন্দলালের বাসিন্দারা

265

মহম্মদ হাসিম, নকশালবাড়ি : প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় পাকা ঘরের স্বপ্নে দিন কাটছে নকশালবাড়ি ব্লকের হাতিঘিসা গ্রাম পঞ্চায়েতের নন্দলাল সংসদের বাসিন্দাদের। বাগডোগরা দলকা বনাঞ্চলের পাশে অবস্থিত এই গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দাই অন্যের জমিতে কৃষিকাজ, রাজমিস্ত্রির কাজ বা জঙ্গলের উপর নির্ভর করে দিনয়াপন করেন।

কিন্তু লকডাউনের জন্য অনেকে কাজ হারিয়েছেন। কৃষিকাজে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যন্ত্র ব্যবহার করাতে লোকের আর তেমন প্রয়োজন হয় না। পাশাপাশি হাতির হানার ভয়ে অনেকেই চাষাবাদ বন্ধ করে দিয়েছেন। চোলাই মদের রমরমা ব্যবসা চলত এই এলাকায়। কিন্তু পুলিশের ধারাবাহিক অভিয়ানে সেই ব্যবসাও বন্ধ। এই অবস্থায় রুজিরুটিতে টান পড়েছে এলাকার প্রায় ১৬টি পরিবারের। এমন পরিস্থিতিতে সমস্যা বাড়িয়েছে  ধারাবাহিক বৃষ্টি। বর্ষায় কার্যত ঘরবন্দি এলাকার বাসিন্দারা। কিন্তু হাতির হানায় সেই ঘরও ভেঙেছে বছরখানেক আগে। নতুন ঘর তৈরির সামর্থ্য নেই। ভাঙা ঘরেই পরিবার নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন এলাকার বাসিন্দা ঝুকে রাই, বিপ্তি ওরাওঁ, বাতাসু সিংহের মতো অনেকেই। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার তালিকায় নিজের নাম দেখে অনেকে নতুন ঘর পাওয়ার আশায় পুরোনো ঘর ভেঙে দিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

- Advertisement -

বাগডোগরা  দলকা বনাঞ্চল পাশে থাকায় হাতির হানা অব্যাহত। ভাঙা বাড়িতে ত্রিপল টাঙিয়ে কোনওভাবে দিন কাটাছেন তাঁরা। স্থানীয় বাসিন্দা ঝুকে রাই বলেন, দৈনিক ২০০ টাকা হাজিরায় অন্যের জমিতে কাজ করে পাঁচজনের সংসার চালাচ্ছি। তার উপর গত বছর ধানের মরশুমে হাতি এসে ঘর ভেঙে দিয়ে যায়। বন দপ্তর থেকে যে পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিয়েছে তা দিয়ে নতুন টিন লাগিয়েছি। সেই একটিমাত্র ঘরেই তিন মেয়েে নিয়ে আমরা দিন কাটাচ্ছি। নতুন ঘর পাব বলে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার তালিকায় নাম এসেছে কিন্তু কবে পাব কোন খোঁজখবর নেই।

অপর এক বাসিন্দা বিপ্তি ওরাওঁ বলেন, গত বছর হাতির হানায় আমার ঘর হেলে যায়। কোনওমতে বাঁশ দিয়ে আটকে রেখেছি। স্বামী মানসিক অবসাদগ্রস্ত। সারাদিন ঘরেই পড়ে থাকেন। মেয়ে মারা যাওয়ার পর দুই নাতনিকে নিয়ে সেই ঘরেই আমি থাকছি। প্রায় ১৪ মাস হয়ে গেল প্রশাসনের তরফে কোনও সাহায্য এখনও মেলেনি। অন্যের বাড়িতে কাজ করে দিন যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় নতুন ঘর দেওয়া হবে বলে স্থানীয় নেতারা আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। একই অবস্থা বিষ্ণু ওরাওঁ, অনীতা ওরাওঁ, মেনকুমার মাঝির মতো বাসিন্দাদের।

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা মীরা মাঝি বলেন, জঙ্গল লাগোয়া এই সংসদ এলাকার বেশিরভাগ বাসিন্দাই দারিদ্র‌্য সীমারেখার নীচে রয়েছেন। আগে বিপিএল তালিকাভুক্তরাই ইন্দিরা আবাস যোজনায় বাড়ি পেতেন। এর ফলে অনেকেই বাড়ি পাওয়ার স্বপ্ন ছেড়েই দিয়েছিলেন। কিন্তু নতুন এই তালিকায় অনেক গরিব পরিবারের যাঁরা দিনমজুরি করে সংসার চালান তাঁদের নাম রয়েছে। ফলে তাঁদের মধ্যে একটা আশার আলো জেগে উঠেছে। কিন্তু জেলা শাসকের নির্দেশে সেই তালিকাও বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা কিছু করতে পারব না। নকশালবাড়ির বিডিও বাপি ধর বলেন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় পুরোনো তালিকায় এখনও উপভোক্তাদের ঘর দেওয়া হচ্ছে। সেই তালিকায় নাম থাকলে আমরা অবশ্যই দেব। কিন্তু নতুন তালিকা নিয়ে এখনও অবধি জেলা থেকে ঘর দেওয়ার কোনও নির্দেশিকা আসেনি।