বেসরকারি জলপ্রকল্পের ওপর নির্ভরশীল রাজাডাঙ্গার বাসিন্দারা

কৌশিক দাস, ক্রান্তি : সরকারি উদ্যোগে কোনও জলপ্রকল্প তৈরি হয়নি। পানীয় জলের জন্য তাই বেসরকারি সংস্থার জলের প্ল্যান্টের ওপর ভরসা করেন মাল ব্লকের বারোঘরিয়া, রাজাডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দারা। ছয়-সাতটি গ্রামের প্রায় দশ হাজার বাসিন্দা একটি মাত্র জলের প্ল্যান্টের ওপর ভরসা করায় প্রতিদিন জল নিতে লাইন পড়ে যায়। অনেকের পক্ষে জল নিতে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় কুয়ো বা নলকূপের অপরিস্রুত জল পান করতে বাধ্য হন। প্রশাসনের কাছে প্রতিটি গ্রামে একটি করে ছোট ওয়াটার প্ল্যান্টের দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা। অন্যদিকে, প্রশাসনের তরফে সাহায্য পেলে আরও কিছু জলপ্রকল্প তৈরি করতে চান বলে জানিয়েছেন ওই বেসরকারি সংস্থার সভাপতি প্রসূন সেনগুপ্ত।

রাজাডাঙ্গার আপালচাঁদ জঙ্গল লাগোয়া বারোঘরিয়া, তিনবাড়ি, শালবাড়ি, মেচপাড়া, ঘুঘুটারি সহ আশপাশের আরও তিন-চারটি গ্রামে পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। অপরিস্রুত জল পান করে সারা বছর গ্রামগুলির বাসিন্দাদের পেটের অসুখ ও চর্মরোগ লেগেই থাকে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, পঞ্চায়েতের কাছে বহুবার এলাকার পানীয় জলের সমস্যা মেটানোর জন্য দাবি জানানো হলেও কোনও লাভ হয়নি। বাধ্য হয়ে গ্রামবাসীরা পদ্মশ্রীপ্রাপক সমাজসেবী করিমুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারপর বছর দুয়েক আগে একটি বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় প্রায় ৯ লক্ষ টাকা খরচ করে উত্তর বারোঘরিয়ায় জলের প্ল্যান্টটি বসানো হয়। প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ হাজার লিটার পরিস্রুত জল সেখান থেকে পাওয়া যায়। প্ল্যান্টটি চালাতে মাসে প্রায় তিন হাজার টাকা বিদ্যুতের বিল দিতে হয়। গ্রামবাসীরাই সেই টাকা দেন। দূরদূরান্ত থেকে টোটো কিংবা ভ্যানরিকশা করে বহু মানুষ জল নিয়ে যান। এলাকার সমাজসেবী আবুল মহম্মদ বলেন, আমাদের এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। দরিদ্র গ্রামবাসীদের পক্ষে জল কিনে খাওয়া সম্ভব নয়। প্রয়োজনের তুলনায় এলাকায় টিউবওয়েলের সংখ্যাও কম। বেশিরভাগ টিউবওয়েল থেকে আয়রনমিশ্রিত জল বের হয়। এলাকার যা লোকসংখ্যা তাতে আরও কয়েকটি প্ল্যান্ট তৈরি করা জরুরি। প্রশাসনের এই ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। স্থানীয় গ্রামবাসী সেলিমা বেগম, শামসুর নেহার জানান, আগে বছরভর আমাদের অপরিষ্কার জল খেতে হত। প্ল্যান্ট হওয়ায় কিছুটা সুবিধা হয়েছে। কিন্তু এত লোকের চাপ থাকায় মাঝে মাঝেই সেটি খারাপ হয়ে যায়।

- Advertisement -

বেসরকারি সংস্থার সভাপতি প্রসূন সেনগুপ্ত বলেন, বিভিন্ন এলাকায় জলে আয়রন, আর্সেনিকের মাত্রা দেখে একটি জলপ্রকল্প তৈরির খরচ নির্ভর করে। আমরা প্রত্যন্ত এলাকায় এই ধরনের জলপ্রকল্প তৈরি করতে আগ্রহী। প্রশাসনের তরফে যদি কিছুটা সাহায্য করা হয়, তাহলে সুবিধা হয়। রাজাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আবদুল মোতালেব হোসেন বলেন, আমরা পানীয় জল সমস্যার সমাধানের ব্যাপারে চেষ্টা করছি। আশা করছি শীঘ্রই আমরা সমস্যার সমাধান করতে পারব। জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি দুলাল দেবনাথ বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে কথা বলা হবে।