তাপ্পি দেওয়া চাকা নিয়ে ছুটছে বাস, দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রতিমুহুর্তে

164

হরষিত সিংহ, মালদা :  ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়া নিয়ে বেসরকারি বাসগুলির ওপর নিয়মিত নজরদারির কোনও ব্যবস্থা নেই জেলা পরিবহণ দপ্তরে। প্রশাসনের নজরদারির ব্যবস্থা না থাকায় মালদা জেলার রুটগুলিতে অধিকাংশ বাসের টায়ারে রয়েছে তাপ্পি লাগানো। এমন অবস্থাতেই যাত্রী নিয়ে ছুটছে বাসগুলি। বাসকর্মীদের অভিযোগ, তাপ্পি লাগানো বাসের টায়ার বদলাতে বললে মালিক পক্ষ কাজ থেকে ছাঁটাই করে দিচ্ছেন। তাই বাধ্য হয়ে তাপ্পি লাগানো বাস চালাতে হচ্ছে চালক ও কর্মীদের। যার ফলে প্রায়শই মাঝ রাস্তায় টায়ার পাংচার হচ্ছে। সমস্যায় পড়ছে সাধারণ মানুষ থেকে নিত্যযাত্রীরা।

যাত্রীদের অভিযোগ, চাকায় তাপ্পি লাগানো টায়ার থাকলে যে কোনও সময় বড়সড়ো দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছি আমরা। বাস দ্রুতগতিতে চলার সময় টায়ার পাংচার হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যাত্রীদের অভিযোগকে সমর্থন করে বাসচালকরা বলেন, অতীতে এমন ঘটনা বেশ কয়েকবার ঘটেছে। ফিটনেস সার্টিফিকেট দিলেও পরবর্তীতে বাসগুলির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ থেকে চাকা ঠিক আছে কিনা তা দেখভালের জন্য প্রশাসনের কোনও নজরদারি নেই। দাবি উঠেছে, বেহাল বাসগুলির ওপর নজরদারি চালাক প্রশাসন। এমনকি বাসকর্মীরাও চাইছেন জেলা পরিবহণ দপ্তরের কর্তা নিয়মিত বাসগুলির যন্ত্রাংশ খতিয়ে দেখতে ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।

- Advertisement -

যদিও বাস মালিকদের দাবি, যাত্রীবাহী বাসগুলিতে টায়ার সবসময় ভালো রাখা হয়। কারণ, কোনও বাস মাঝ রাস্তায় পাংচার হলে মালিকেরই ক্ষতি হয়। বন্ধ হয়ে গেলে কর্মীদের বেতন মালিককে ঘর থেকে দিতে হয়। তাই সবসময় চাকা ঠিক রাখা হয়। যদিও বাস মালিকেরাও স্বীকার করেছেন বাসের পেছন চাকায় তাপ্পি লাগানো টায়ার মাঝে মধ্যে লাগানো হয়। সামনে চাকার টায়ার সব সময় ভালো বা নতুন থাকে। দ্রুতগতিতে বাস চলার সময় সামনে চাকায় পাংচার হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেশি থাকে। এদিকে পেছনে জোড়া চাকা থাকে। তাই একটি চাকা পাংচার হলেও দুর্ঘটনার আশঙ্কা খুব কম থাকে। তাই মাঝেমধ্যে পেছনে তাপ্পি লাগানো বা খারাপ টায়ার লাগানো হয়। মালদা বাস মিনিবাস তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি বিপ্লব বসাক জানান, আমাদের এখানে প্রায় ৯০ শতাংশ বাসে তাপ্পি লাগানো টায়ার ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা বাসকর্মীরা আতঙ্কে থাকি। আমরা মালিক পক্ষকে এই বিষয়ে অভিযোগ করলে কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়া হয়। এই বিষয়ে জেলা পরিবহণ দপ্তরকে দেখা উচিত। নিয়মিত রাস্তা ও বাসগুলির দেখভাল করা উচিত।

মালদা জেলা পরিবহণ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, নিয়মিত বাসগুলির দেখভাল করে ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। আট বছর পর্যন্ত বাসগুলির দুই বছর পর পর সরকারি নিয়ম মেনে চেক করা হয়। ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। আট বছরের বেশি পুরোনো বাসগুলি প্রতিবছর ফিটনেস চেক করা হয়। কিন্তু তার মাঝে বাসের কোনও দেখভাল করা হয় না। যদি কেউ কোনও বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, তবে পরিবহণ দপ্তরের পক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

মালদা জেলা পরিবহণ দপ্তরের আধিকারিক নবীনচন্দ্র অধিকারী জানান, সরকারি নিয়ম মেনে বাসের ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। তারপর বাসের চেক করার কোনও নিয়ম  নেই। তবে যদি কেউ কোনও বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন আমরা সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করি। মালদা বাস, মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি নিমাই বিশ্বাস জানান, বাসের টায়ারে তাপ্পি লাগানো থাকলে আমাদের লোকসান। কারণ বাস মাঝ রাস্তায় খারাপ হলে আমাদের ঘর থেকে কর্মীদের ও তেলের খরচ দিতে হয়। এই ধরনের অভিযোগ যারা করছেন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমরা নিয়মিত বাসের চাকা ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ মেরামতি করে রাখি।