ফের শুরু পুকুর ভরাট, নির্বাক প্রশাসন

118

রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ শহরে ফের শুরু হল জলাশয় ভরাটের কাজ। শহরের অশোকপল্লী, শিল্পী নগর, নেতাজি পল্লী, এফসিআই মোড়, পূর্ব উকিলপাড়া এলাকায় রবিবার কাজ শুরু হল। রায়গঞ্জের একটি বেসরকারি হোটেলের পাশে ১০০ দীঘার একটি নয়ানজুলি জেসিবি দিয়ে জলা ভরাটের কাজ চলছে। সেই কারণে রীতিমতো ক্ষুব্ধ রায়গঞ্জ শহরের বাসিন্দা সহ পরিবেশবিদ ও নাগরিক কমিটি।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চুপিসারে জলাভূমি ভরাট চলছে রায়গঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকায়। রায়গঞ্জ পুরো এলাকার উকিলপাড়ার পীরপুকুরের বিশাল জলাশয় টিনের বেড়া লাগিয়ে গোপনে ট্রাকবোঝাই মাটি ফেলা হচ্ছে। পুরসভার তিন মৌজার মধ্যে মোহনবাটি মৌজায় পুকুরের সংখ্যা ছিল ১৮৪টি, ডোবার সংখ্যা ৫৪টি। বরুয়া মৌজায় পুকুর ছিল ১১২টি এবং ডোবা ৪৭টি। এছাড়া রায়গঞ্জ মৌজায় পুকুর এবং ডোবা মিলিয়ে অন্তত ৯৬টি জলাশয় ছিল। রায়গঞ্জে ৩০.৮০ একর নালা, ডোবা ৩৭৭.৭৭ একর, ৫৫১ একর বিল, পুকুর রয়েছে ১৫৩৩.১৫ একর এলাকাজুড়ে। সব মিলিয়ে ২৬২৭.২১ একর জলাভূমি নথিতে থাকলেও তা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে বেআইনি ভরাটের জেরে। বেআইনি জলভরাটের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

- Advertisement -

রায়গঞ্জ ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর  সূত্রে জানা গিয়েছে,  কোনরকম জলাভূমি ভরাট করা পুরো বেআইনি। পরিবেশ বাঁচাতে বেআইনি ভরাট রুখতে হবে। মারনাই হাইস্কুলের সহকারি শিক্ষক তথা পরিবেশবিদ সঞ্জিত গোস্বামী বলেন, ‘একের পর এক জলা ভরাটের ফলে বাস্তু তন্ত্রের বিঘ্ন ঘটবে পরিবেশে তার প্রভাব পড়বে।‘

উত্তর দিনাজপুর জেলার নাগরিক কমিটির সম্পাদক তপন চৌধুরী জানান, শিলিগুড়ি মোড় থেকে কসবা মোড় পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার জাতীয় সড়কের রাস্তার দুই পাশ জলাশয় ভরাট চলছে। আগে এই সমস্ত জলাশয়ে পানিফল চাষ করত কৃষকরা। প্রভাবশালীদের বন্দুকের সামনে মুখ খুলতে চান না স্থানীয় বাসিন্দারা।‘ রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলের অধ্যাপক ডঃ তাপস পাল বলেন, ‘শহরের একাংশ ওয়ার্ডের জল এই সমস্ত জলাশয়ে এসে পড়ত। একের পর এক জলাশয়, পুকুর খাল বিল বুজিয়ে ফেলার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই রায়গঞ্জ শহর জলমগ্ন হয়ে পড়বে।‘রায়গঞ্জ পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান অরিন্দম সরকার বলেন, ’বেআইনি ভারাটের ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করবে রায়গঞ্জ পুরসভা।‘