রিভার্স সুইং শিল্প শেষ হওয়ার আশঙ্কা সামির

203

অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : মন ভালো নেই। দীর্ঘসময় নিজের মেয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ বা কথা হয়নি। স্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনে সমস্যা তৈরি হওয়ার পর থেকেই কন্যা আইরার সঙ্গে দূরত্ব বেড়ে গিয়েছে তাঁর। অথচ টিম ইন্ডিয়ার পেসার মহম্মদ সামি প্রবলভাবে চান, তাঁর ছোট্ট মেয়েকে কোলে নিয়ে আদর করতে, খেলতে। কিন্তু সুযোগ কই!

ফোনেও কন্যার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়নি লকডাউনে গৃহবন্দি জীবন কাটানোর মাঝে। অথচ, বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছেন বিরাট কোহলির সংসারের অন্যতম সেরা পেসার। আর ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। কন্যা আইরার সঙ্গে কথা বলতে না পারার যন্ত্রণা নিযে এখন সামি ডুবে রয়েছেন অনুশীলনে। উত্তরপ্রদেশের আমরোহা জেলার সহসপুর গ্রামে নিজের গ্রামের বাড়ির সামনেই রয়েছে একটি মাঠ। সেখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় পিচ বানিয়ে ফেলেছেন টিম ইন্ডিয়ার পেসার। আয়োজন করেছেন নেটেরও। আর সেই পিচে নিয়ম করে বিকেল চারটে থেকে রাত আটটা পর্যন্ত বল হাতে ঘাম ঝরাচ্ছেন তিনি। সকালে সময় কাটাচ্ছেন জিমে। জীবনের বদলে যাওয়া রুটিনের মাঝে আজ দুপুরের দিকে নিজের বাড়িতে বসে মোবাইলে দেশের বাছাই করা কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিলেন মহম্মদ সামি। করোনা পরবর্তী ক্রিকেটে বল পালিশের জন্য থুতুর ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়ার ফলে রিভার্স সুইংয়ের শিল্পই শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সামি।

- Advertisement -

বদলে যাওয়া জীবন

সময় সত্যিই বড্ড নিষ্ঠুর। বছরের শুরুতে যখন আমরা নিউজিল্যান্ডে ছিলাম, তখন ভাবতেই পারিনি পরের কয়েক মাসে এমন ভয়াবহ অবস্থা হয়ে যাবে দুনিয়ার। ক্রিকেট তো বন্ধ হবেই, সঙ্গে দুনিয়া থমকে যাবে। বলুন তো আপনারাও কি ভেবেছিলেন?

নয়া রুটিন

এখন সবই আবার নতুনভাবে শুরু করছি বলে মনে হচ্ছে। নিজের বাড়ির সামনে একটা মাঠ রযেছে। সেখানে পিচ বানিয়েছি। নেটেরও ব্যবস্থা করেছি। সেখানেই এখন ভারতীয় দলের ফিজিও, ট্রেনারদের দেওয়া পরামর্শ মতো অনুশীলন করছি যতটা সম্ভব হচ্ছে। সকালের দিকে জিম করছি। লকডাউনের শুরুর দিকে কয়েকটা দিন এমন বিশ্রাম ভালো লাগছিল। তবে দিনসাতেকের মধ্যে বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু কিছু করারও ছিল না। এখন অবশ্য নয়া রুটিনের সঙ্গে অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছি। আগামীদিনে এমন নিয়ম মেনেই তো চলতে হবে আমাদের।

থুতু নিষেধাজ্ঞা ক্রিকেটীয় বদল

কারোর কিছু করার নেই। আগে তো সুস্থ থাকতে হবে আমাদের সবাইকে। আর সুস্থ থাকার জন্য য়দি এটাই পথ হয়, তাহলে আমাদের সবাইকে সেই পথেই পা ফেলতে হবে। কখনও ভাবিনি বলে থুতু ব্যবহার না করে বল করব। এটা তো ছোট থেকেই অভ্যাস হযে গিয়েছে। এখন নিজের বাড়ির সামনের মাঠে থুতুর ব্যবহার ছাড়া নেটে বোলিংয়ের অভ্যাস শুরু করেছি। দেখা যাক কী হয়। আর ক্রিকেটের এমন বদলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিযে সমস্যা হবে ঠিকই, কিন্তু সমস্যাটা আমার একার হবে না। সবারই হবে। আমার শুধু একটাই ভয় লাগছে। থুতু ছাড়া কীভাবে রিভার্স সুইং করাব, সেটাই বুঝতে পারছি না। মনে হচ্ছে, রিভার্স সুইং শিল্পটাই না শেষ হযে যায়।

লকডাউনে সমাজসেবা

আমার পক্ষে যতটা সম্ভব, ততটাই করছি মানুষের জন্য। আমরা কেউ এমন অবস্থা দেখিনি যেখানে সব বন্ধ হযে গিয়েছে। মানুষ ভাত পাচ্ছে না। পরিযায়ী শ্রমিকরা মাইলের পর মাইল হাঁটছেন। নিজের উদ্যোগে যতটা পেরেছি করেছি। প্রয়োজনে আরও করব।

টিম ইন্ডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ

হ্যাঁ, ভারতীয় দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে আমাদের প্রত্যেকের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। তাছাড়া জাতীয় দলের ট্রেনার ও ফিজিও নিয়মিত আমাদের সঙ্গে ফিটনেসের ব্যাপারে যোগাযোগ করে পরামর্শ দিযে চলেছেন। ঠিক কবে ক্রিকেট মাঠে ফিরতে পারব, জানি না। কিন্তু যখনই ফিরি, একশো শতাংশ ফিট হয়ে ফিরতে চাই।

স্বপ্নের পেস আক্রমণ

আমাদের পেস আক্রমণ সত্যিই অসাধারণ। দুনিয়ার সব প্রান্তে নিয়মিত ১৪০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিতে বল করে বিপক্ষকে দুমড়ে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে আমাদের। আমি নিশ্চিত, লকডাউনে ইশান্ত শর্মা-জসপ্রীত বুমরাহ-ভুবনেশ্বর কুমার-উমেশ যাদবরা নিজেদের তৈরি রাখছে।

বছর শেষের অস্ট্রেলিয়া সফর

শেষবার অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ জিতেছিলাম আমরা। এবারও সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখাটা শুরু হযে গিয়েছে। ওদের মাঠে স্টিভেন স্মিথ-ডেভিড ওয়ার্নার-মার্নাস লাবুশেনদের বিরুদ্ধে বল করার জন্য মুখিযে রয়েছি আমি। আমাদের পেস ব্রিগেডের বাকিরাও একই কথা ভাবছে বলেই আমার বিশ্বাস। ঠিক কবে আমরা মাঠে নামতে পারব, এখনও জানা না থাকলেও দায়িত্ব নিযে বলছি, বছর শেষের অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে ভারতীয় সমর্থকদের হতাশ করব না। লকডাউনের বিশ্রামে আমাদের সবার ব্যাটারি নতুনভাবে চার্জ হচ্ছে এখন।