Villagers of Belatikri under Lalgargh PS queue at a ration shop for rice @ rupees 2 per kg on Sunday. Express photo by Partha Paul.Jhargram.27.03.16

চাঁদকুমার বড়াল : র‌্যাশন কার্ডের আবেদনকারীদের তালিকা থেকে এবার কয়েক লক্ষ মানুষকে ছেঁটে ফেলার ব্যবস্থা করছে রাজ্য সরকার। খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর থেকে একগুচ্ছ মানদণ্ড ঠিক করে দেওয়া হয়েছে আগামীদিনের র‌্যাশন প্রাপকদের জন্য। নতুন করে গণবণ্টন ব্যবস্থায় উপভোক্তা হিসাবে নাম তুলতে গেলে আবেদনকারী যাতে কোনোভাবেই স্বচ্ছল না হন, সেদিকে এবার কড়া নজর রাখা হচ্ছে। খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেছেন, এখন থেকে যাঁরা র‌্যাশন পাওয়ার যোগ্য তাঁরাই শুধু র‌্যাশন পাবেন।

সম্প্রতি কলকাতায় জেলা খাদ্য দপ্তরের কর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন খাদ্যমন্ত্রী ও দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা। সেখানেই জানিয়ে দেওয়া হয়, গ্রাম ও শহরে এবার থেকে ডিজিটাল র‌্যাশন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য কিছু শর্ত আরোপ করা হচ্ছে। ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, গ্রামে যাঁরা নতুন ডিজিটাল কার্ডের জন্য আবেদন করবেন তাঁদের দুই, তিন বা চারচাকার গাড়ি বা যন্ত্রচালিত মাছ ধরার নৌকা থাকলে তাঁরা ভরতুকিতে খাদ্যপণ্য পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। আবেদনকারীর পরিবারের কেউ রাজ্য, কেন্দ্র, রাষ্ট্রায়ত্ত, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত, স্বশাসিত, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার গেজেটেড বা নন- গেজেটেড কর্মী থাকতে পারবেন না।  পরিবারের কারও আয় ১৫ হাজার টাকার বেশি বা আয়কর দেন এমন কেউ পরিবারে থাকলে ডিজিটাল র‌্যাশন কার্ডের আবেদন গ্রাহ্য হবে না। এমনকি বাড়িতে তিনটি পাকা ঘর, ফ্রিজ, ল্যান্ডলাইন ফোন, ৫ একরের বেশি ফসলি জমি, ২.৫ একরের বেশি সেচের আওতায় থাকা জমির কোনো কিছু থাকলেই নতুন আবেদনকারীর নাম বাদ যাবে র‌্যাশনপ্রাপকদের তালিকা থেকে।

শহরের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল র‌্যাশন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য মানদণ্ড ঠিক করে দিয়েছে রাজ্য সরকার। সেখানে বলা হয়েছে, চার চাকার গাড়ি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ইনটারনেট সুবিধাযুক্ত কম্পিউটার বা বাড়িতে ফ্রিজ, ল্যান্ডলাইন টেলিফোন, ওয়াশিং মেশিন ও দু-চাকার মোটরগাড়ির কোনো কিছু থাকলে তিনি নতুন করে র‌্যাশনের সুবিধা পাবেন না। খাদ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এসব মানদণ্ড আগেও ছিল। কিন্তু তা মানার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি ছিল না। এবার রাজ্য সরকার তা কঠোরভাবে মানার উপর জোর দিচ্ছে। খাদ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগে যাঁরা আবেদন করে র‌্যাশন কার্ড পেয়ে গিয়েছেন, তাঁদের নাম অবশ্য উপভোক্তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে না। এমনকি তাঁদের পরিবারের কেউ নাম তুলতে গেলে তাঁর ক্ষেত্রেও এসব কড়াকড়ি থাকবে না। কিন্তু কেউ নতুন করে ডিজিটাল কার্ডের আবেদন করলে সেক্ষেত্রে এইসব নিয়ম কঠোরভাবে মানা হবে।

জ্যোতিপ্রিয়বাবু বলেন, রাজ্য সরকার ওই স্বচ্ছলদের জন্য একটি স্মার্ট কার্ড আনার কথা ভাবছে। ওই কার্ড এ রাজ্যের মানুষ ব্যাংক, পাসপোর্ট অফিস সহ বিভিন্ন স্থানে কাজে লাগাতে পারবেন। কিন্তু র‌্যাশনের কোনো সামগ্রী তাঁরা পাবেন না। খাদ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ২০১১-র সেনসাস হিসেবে যাঁরা কার্ড পেয়ে গিয়েছেন তাঁদের বাদ দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু নতুন করে আর স্বচ্ছলদের র‌্যাশন কার্ড হবে না। প্রকৃত যাঁদের র‌্যাশন প্রয়োজন তাঁরাই তা পাবেন। খাদ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিডিও অফিস ও পুরসভাগুলিতে শিবির করে ডিজিটাল র‌্যাশন কার্ডের জন্য নাম নথিভুক্ত করা হবে। আবেদনের ভিত্তিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই করবেন সরকারি কর্মীরা। খাদ্য দপ্তর এই কাজ করবার জন্য অন্য দপ্তর থেকেও লোকজন  নেবে। ২০ নম্ভেবর পর্যন্ত এই কাজ চলবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ৩০ নভেম্বর থেকেই যাঁরা কার্ড পাবেন তাঁদের হাতে কার্ড পৌঁছাতে শুরু করবে। এবারই প্রথম ডাকযোগে সরাসরি উপভোক্তাদের হাতে কার্ড যাবে।

স্বাভাবিকভাবেই নতুন নাম তোলার ক্ষেত্রে এই কড়াকড়িতে রাজ্যজুড়ে বড়ো ধরনের বিতর্ক হবে বলে মনে করছে সব মহল। তৃণমূল কংগ্রেসের  কোচবিহার জেলা সভাপতি মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন বলেন, প্রকৃত গরিব মানুষ র‌্যাশন কার্ড ও র‌্যাশনের সামগ্রী পান, সরকার এটাই চাইছে। যাঁরা সরকারি চাকরি করেন বা অবস্থাসম্পন্ন তাঁরা কেন র‌্যাশন নেবেন? এতে গরিব মানুষ বঞ্চিত হন। উত্তর দিনাজপুরে দলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, র‌্যাশন কার্ড চালু করার আগে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা হয়েছিল। তা বন্ধ করার আগেও সমীক্ষা হবে। এরপর নির্দেশিকা বাস্তবায়িত হবে। কার্ড হয়তো সকলের থাকবে। কিন্তু র‌্যাশন সকলে পাবেন না।