জঙ্গল ছেড়ে আবাদি জমিতে গন্ডার

ময়নাগুড়ি : গরুমারা জঙ্গল ঘেরা ময়নাগুড়ি ব্লকের রামশাই সহ বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বন্যপ্রাণীর আগমন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গরুমারার জঙ্গল ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে ছোট বনাঞ্চল ও ঘাসবনকেই আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নিয়েছে বেশ কিছু বন্যপ্রাণী। মূর্তি, জলঢাকা, ডায়না নদী ঘেরা ময়নাগুড়ি ব্লকের শেষ সীমানায় রয়েছে রামশাই। জঙ্গল সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকার চরে প্রায়ই বেরিয়ে আসছে গন্ডার, হরিণ, বাইসন, হাতি, বুনো শুযোর সহ অন্য বন্যপ্রাণীরা। মাঝেমধ্যেই আবাদ জমিতে চলে আসার দরুন মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত দেখা দিচ্ছে।

রামশাই গ্রাম পঞ্চায়েতের বারোহাতি, কামারঘাট, কালীবাড়ি, নৌকাবিহার সহ আমগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের নাকটানিবাড়ি, দাসপাড়া সহ বেতগাড়া জলঢাকা রেলসেতু পর্যন্ত বন্যপ্রাণীদের আনাগোনা বেড়েছে। ময়নাগুড়ি ব্লকের একটি বিরাট অংশের কৃষিপ্রধান এলাকা জলঢাকার চর ও পার্শ্ববর্তী এলাকা। এখানকার বিস্তীর্ণ জায়গাজুড়ে নানা ফসল সহ ভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করেন এলাকার কয়েকশো কৃষক। ফলে চর সংলগ্ন এলাকায় মানুষের আনাগোনা বেশি। তবে প্রায়ই গন্ডার, বাইসনের সঙ্গে সংঘাতের ঘটনা ঘটে চলছে এলাকাজুড়ে। জলঢাকার এক কৃষক সুকুমার দাস জানান, তাঁরা জমিতে চাষের সময়ে অধিকাংশ সময়ে আতঙ্কে থাকেন। বিকেলের মধ্যেই এলাকা ছেড়ে চলে আসছেন। বিগত দিনের তুলনায় ধীরে ধীরে এই জলঢাকার চরে বেড়েছে বন্যপ্রাণীর আগমন। বিশেষ করে গন্ডারের আগমনকে ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রতিদিনই গরুমারা ছেড়ে বেশ কিছুটা দূরে লোকালয়ে চলে আসছে গন্ডার। যা নিয়ে স্থানীয়রাও আতঙ্কিত।

- Advertisement -

পানবাড়ি এলাকার এক কৃষক মদন রায় বলেন, দিনে দিনে এই এলাকায় বন্যপ্রাণীর আনাগোনা ক্রমশই বেড়ে চলেছে। আগের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যায় দেখা মিলছে বন্যপ্রাণীদের। জমিতে প্রায়ই আমরা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি। শুধুমাত্র হাতি নয়, গন্ডারের আগমনও চিন্তায় ফেলেছে আমাদের। তবে ফসল রক্ষার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীদের যাতে কোনও ক্ষতি যাতে না হয় সেদিকে আমরা নজর রাখছি। জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কিষান খেতমজদুর ইউনিয়নের সম্পাদক প্রদীপ রায় জানান, এলাকায় হাতির আগমন ধানের মরশুমে থাকলেও গন্ডারের আনাগোনা সারাবছর লেগেই আছে। নিরাপত্তা আরও বারাবার দাবি জানান তিনি। প্রদীপবাবু বলেন, এর আগে চোরাশিকারিদের নিশানায় এসে একাধিক গন্ডারের প্রাণ গিয়েছে গরুমারায়। তাই সেদিকে মাথায় রেখে আমরাও গ্রামবাসীদের সতর্ক করেছি। গরুমারার বুধুরাম বিটের অন্তর্ভুক্ত বনাঞ্চল বেশ কিছুটা দূরে। সেই এলাকা ছেড়ে যেভাবে চর এলাকায় বন্যপ্রাণীর আনাগোনা বাড়ছে তাতে এই এলাকাতেও টহলদারি করা প্রয়োজন। কারণ মানুষ-বন্যপ্রাণ সংঘাত এই ক্ষেত্রে আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের ডিএফও নিশা গোস্বামী জানান, কুনকি হাতি দিয়ে এলাকায় নজরদারি করার পাশাপাশি মোবাইল স্কোয়াডের বনকর্মীরাও এলাকায় টহলদারি চালাচ্ছেন। বন্যপ্রাণী বিশেষ করে গন্ডারের নিরাপত্তার জন্য আরও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।