মেডিকেলে অন্নপ্রাশন অনাথ দোলার

217

তনয় মিশ্র, মালদা : জন্ম দিয়ে মা পলাতক। সন্ধান নেই পরিবারের কোনো সদস্যের। ফলে একেবারে অনাথ হয়ে মালদা মেডিকেল কলেজে বেড়ে উঠছিল দোলা। আজ তার বয়স ছয় মাস হল। এইদিনে ছোট্ট দোলার মুখে ভাত দিলেন মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নার্স ও চিকিৎসকরা। একেবারেই অনাড়ম্বর অনুষ্ঠান। তবে তাতে আন্তরিকতার অভাব ছিল না। শিশুর মুখে পায়েস তুলে দিযে অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করলেন ডা. প্রিয়ব্রত বিশ্বাস। চিকিৎসক এবং নার্সদের বিরুদ্ধে অমানবিকতার অভিযোগ তুল অনেকেই যখন সরব, তখন তাঁদের এই কাজ যে সাধুবাদের যোগ্য সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

মাস ছয়েক আগে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভরতি হয়েছিলেন এক প্রসূতি। চিকিৎসধীন অবস্থায় তিনি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। তারপরেই সকলের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে যান ওই মহিলা। হয়তো কন্যাসন্তান হওয়ার অপরাধেই তাকে পরিত্যক্ত হতে হয়েছিল। সদ্যোজাতটির কোনো দাবিদারও মেলেনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, ভুয়ো পরিচয়ে হাসপাতালে ভরতি হয়ে ওই মহিলা সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। তবে শিশুটিকে ফেলে দিতে পারেননি মেডিকেল কলেজের এসএনসিইউ-র নার্সরা। এতদিন ধরে পরম মমতায় তাঁরাই তাকে বড়ো করেছেন। সোমবারেই ছয় মাসে পা দিয়েছে ছোট্ট দোলা। মাতৃস্নেহে লালন-পালনকারী নার্সরাই তার অন্নপ্রাশনের আয়োজন করেছিলেন। তবে উৎসবের ঘনঘটা ছিল না। নিজেরাই পায়েস রান্না করে নিয়ে এসে ছোট্টো শিশুটির মুখে তুলে দেন। অন্নপ্রাশন অনুষ্ঠানের পরেই শিশুটিকে কোনো সরকারি হোমে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

নার্সদের বক্তব্য, আমাদের কাজই হল সকলের সেবা করা। জন্মের পরেই শিশুটিকে ফেলে তার মা পালিয়ে গিয়েছেন। অন্য কোনো আত্মীয়ের সন্ধানও পাওয়া যায়নি। তাই আমরাই শিশুটিকে এতদিন ধরে দেখাশোনা করছি। এসএনসিইউ-র পাঁচ থেকে ছযজন নার্স পালা করে শিশুটির যত্ন করেন। আজ সকলে মিলে তার অন্নপ্রাশন করলাম। সারা বছরেই মেডিকেল কলেজের এই বিভাগে দু-একজন পরিত্যক্ত শিশু থাকে। তাদেরকেও আমরাই দেখাশোনা করি। ছয় মাস পার হয়ে গেলে তাদের কোনো হোমে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।