উৎপল সেন , হেলাপাকড়ি, ১৫ মার্চঃ নদীর বুকে অবৈধ ধান চাষের জেরে হেলাপাকড়ি বাজারের পাশ দিযে বয়ে যাওযা সানিয়াজান নদীর অস্তিত্ব বিপন্ন হযে পড়েছে। নদীর খাতজুড়ে এখন বোরো ধানের চাষ হচ্ছে। চাষের জেরে মত্স্যজীবীদের রুজিরোজগারেও ভাটা পড়েছে। নদীর যেটুকু অস্তিত্ব এখনও রয়েছে তাতে কোনোরকমে মাছ ধরে জীবিকানির্বাহ করছেন কিছু মৎস্যজীবী। ধানখেতে ব্যবহৃত কীটনাশকও মিশছে নদীর জলে। নদীর স্বাভাবিক গতিপথ দখল করে এভাবে ধান চাষ করায় শুখা মরশুমে জল সংকট আরও তীব্র হবে বলেই মনে করছেন সকলে। শুধু ধান চাষই নয়, নদীর ধারে গড়ে উঠেছে একাধিক চা বাগান। আর সেই চা বাগানে ব্যবহৃত রাসাযনিকও মিশছে নদীর জলে। হেলাপাকড়ি পিইউআর হাইস্কুলের ভূগোলের শিক্ষক বাবুলাল রায় বলেন, নদীতে বোরো চাষ করে কিছু মানুষ উপকৃত হচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু সামগ্রিকভাবে ক্ষতি হচ্ছে। এভাবে নদীর স্বাভাবিক গতি রুদ্ধ করে বোরো চাষ করা মোটেই উচিত নয়। কারণ এতে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে, তেমনই আবার জলজ প্রাণীরও অস্তিত্ব বিপন্ন হচ্ছে।

পদমতি-২ গ্রাম পঞ্চায়েছের প্রধান লিপিকা রায় বলেন, যদিও এটি গ্রাম পঞ্চায়েতের দেখার বিষয় নয়, তবু এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলব। মযনাগুড়ি ব্লক ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তরের আধিকারিক সুমিত ভট্টাচার্য বলেন, সানিয়াজন নদীর বিষযটি আমাদের নজরে আছে। ইতিমধ্যেই ডিস্ট্রিক্ট হেড কোয়ার্টারে এ নিয়ে মিটিং করা হয়েছে। সেখানে ডিমার্কেশনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এনআরইজিএস-এর মাধ্যমে দ্রুত সেই কাজ শুরু করা হবে। বিনা অনুমতিতে অনেকেই অবৈধভাবে নদীতে বোরো চাষ করছেন। ডিমার্কেশনের সময ধরা পড়লে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।