ধূপগুড়ি : সরকারিভাবে সহায়ক মূল্যে ধান কেনা এখনও শুরু হয়নি। তাই কৃষকরা বাধ্য হয়ে ধূপগুড়ির বিভিন্ন জায়াগায় সহায়ক মূল্যের থেকে কম দামে ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন। এই সুযোগে পাইকাররা তারা কৃষকদের কাছ থেকে অনেকটাই কম দামে ধান কিনছেন। বিভিন্ন মাইক্রোফিনান্স কোম্পানির সাপ্তাহিক কিস্তির তাড়া এবং আলু লাগানোর জন্য জমির সার থেকে চাষের খরচ জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা। তাই বাধ্য হয়েই ধুপগুড়ি ব্লকের বিভিন্ন জায়গায় কৃষকদের অভাবি ধান বিক্রি চলছে। ধূপগুড়ির ডাউকিমারি, খট্টিমারি, নাথুয়া প্রভৃতি বাজারে এমনই চিত্র লক্ষ্য করা গেল। ধান বিক্রির জন্য কৃষকরা এই সব বাজারেই ভিড় জমাচ্ছেন।

ধান কেনার প্রক্রিয়া গত মাসে শুরু হলেও প্রশাসন থেকে ধান কেনার দিন এখনও ঘোষণা করা হয়নি। আর তাতে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এই নিয়ে প্রশাসনের তরফেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। কৃষকদের অভিযোগ, ডিসেম্বর মাস চলে এলেও ধান কেনা নিয়ে হোলদোল নেই প্রশাসনের। যাঁরা ধান বিক্রি করে আলু লাগানোর কথা ভাবছেন তাঁরাও এতে সমস্যায় পড়েছেন।

গত বছর সরকারের তরফে কুইন্টাল প্রতি ১৭৭০ টাকা করে ধান কেনা হয়। এবছর কুইন্টাল প্রতি ৫০ টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়। এবছর কুইন্টাল প্রতি ধানের মূল্য ১৮১৫ টাকা এবং কিষানমান্ডিতে ধান দিয়ে এলে ভাড়া বাবদ কুইন্টাল প্রতি ২০ টাকা করে অতিরিক্ত দেওয়া হবে। কিন্তু সরকারিভাবে ধান কেনা শুরু না হওয়ায় অভাবে পড়ে কৃষকরা সেই ধান কুইন্টাল প্রতি ১১৫০ টাকা থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি করছেন।

মাগুরমারীর কৃষক উপেন্দ্রনাথ রায় বলেন,’জয়া ধানের মূল্য কুইন্টাল প্রতি ১১৫০ টাকা এবং বাকি ধান গুলোর দাম কুইন্টাল প্রতি ১২০০ টাকা দিচ্ছে পাইকাররা।’ কৃষকরা কেন এত কম মূল্যে ধান বিক্রি করছেন?  এই প্রশ্নের উত্তরে ধান বিক্রি করতে আসা গোপাল পাল নামে এক কৃষক বলেন, ‘সরকার থেকে কবে সহায়ক মূল্যে ধান কেনা হবে তা জানি না। ধান বিক্রি না করলে সংসার চলবে কী করে । সরকার থেকে ধান কিনলে তাড়াতাড়ি কিনুক। দেরি করায় লোকসানের মুখে পড়ছেন কৃষকরা।’ একই দাবি করেন বাজারে আসা আর এক কৃষক কিশোর রায়।

সিপিএমের কৃষক নেতা প্রাণগোপাল ভাওয়াল বলেন, ‘এবছর কৃষকবন্ধু যোজনার মাধ্যমে ধান কেনা হবে। এছাড়াও খতিয়ান ছাড়া কেউ ধান বিক্রি করতে পারবেন না। কিন্তু অনেক কৃষক আছেন যাঁদের দলিল আছে, খতিয়ান নেই। তাঁরা ধান বিক্রি করতে সমস্যায় পড়বেন। ধূপগুড়িতে ৩৬০০ হাজার কৃষক থাকলেও ধান বিক্রির জন্য ১১ হাজার কৃষকের রেজিস্ট্রেশন আছে । বাকি বাইশ হাজার কৃষক ধান বিক্রি করতে সমস্যায় পড়বেন।’ বিজেপির নেতা মাধবচন্দ্র রায় বলেন,  ‘আলুচাষ শুরু হলেও এখন পর্যন্ত সরকারের তরফে ধান কেনার হেলদোল নেই। এতে মুখে পড়ছেন গ্রামের প্রান্তিক কৃষকরা।’

ধূপগুড়ির পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দীনেশ মজুমদার বলেন, ‘ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ধান কেনার কথা ছিল।’ অন্যদিকে           ধূপগুড়ির বিধায়ক শঙ্খদ্বীপ দাস বলেন, ‘ধান কেনা শুরু না হলেও ধান কেনার প্রক্রিয়া চলছে। খুব তাড়াতাড়ি ধান কেনা হবে।’

ছবি – ধূপগুড়ি ডাউকিমারি বাজারে ধানের অভাবি বিক্রি চলছে।

তথ্য ও ছবি- উজ্জ্বল রায়