জলপাইগুড়ি : তিন দশক ধরে জলপাইগুড়ি সমবায় দপ্তরের নির্মিত ধান সংরক্ষণ কেন্দ্রের বিশাল ভবন পরিত্যক্ত পড়ে আছে। ভবনটি এখন সমাজবিরোধীদের আস্তানা। সন্ধ্যা হলেই সেখানে মদের এবং জুযার বসে। সদর ব্লকের রংধামালি সংলগ্ন চারেরবাড়িতে রাস্তার পাশেই এই ভবন। ভবনটিতে আগে ধান সংরক্ষণ করা হত। কিন্তু তিন দশক ধরে ভবনটি ফাঁকা পড়ে আছে। কর্তপক্ষের কোনো হেলদোল নেই। স্থানীয মানুষ এখানে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ে ক্ষিপ্ত। তাঁরা চান ভবনটিকে আবার ধান সংরক্ষণ কেন্দ্র হিসাবে চালু তোলা হোক।

চারেরবাড়ির কৃষক মমিজউদ্দিন বলেন, ‘খাদ্য দপ্তর প্রতি বছর বিভিন্ন হাট থেকে ধান কেনে চাষিদের কাছ থেকে। পাতকাটা, বারোপাটিযা-নতুনবস গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ৯৮ শতাংশ মানুষ কৃষিজীবী।এখানকার কৃষকদের ধান বিক্রির কেন্দ্র হিসাবে ভবনটিকে সহজেই ব্যবহার করা যেতে পারে।’ দীপংকর দাস আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘এলাকার বহু মানুষ এই ভবনে ধান সংরক্ষণ করতে দেখেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি অবহেলায় পড়ে রয়েছে। এতে ভবনটিরও ক্ষতি হচ্ছে। ভবনটি ব্যবহার করার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে।’

জলপাইগুড়ি জেলা কংগ্রেসের সভাপতি নির্মল ঘোষ দস্তিদার বলেন, ‘বাম আমলের মতো এই সরকারের আমলেও সরকারের তৈরি ভবন অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। মদ এবং জুযার আসর বসছে ধান সংরক্ষণ কেন্দ্রে।’

জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি দুলাল দেবনাথ বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।’

সমবায দপ্তরের এক আধিকারিক জানান চারেরবাড়ির সমবায বিভাগের পক্ষ থেকে ধান সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে কেন কেন্দ্রটির এমন অবস্থা সে ব্যপারে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ছবি- চারেরবাড়ির ধান সংরক্ষণ কেন্দ্র

তথ্য ও ছবি- জ্যোতি সরকার