জনপ্রতিনিধির ওপর ভরসা নেই, কৃষকের হলফনামায় সই করবেন আমলা

300

কোচবিহার : সরকারের কাছে সহাযকমূল্যে ধান বিক্রির জন্য রেজিস্ট্রেশন করার সময ভাগচাষিদের দেওযা হলফনামায় সরকারি আধিকারিকদের সই বাধ্যতামূলক করেছে রাজ্য সরকার। খাদ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এক্ষেত্রে আগে জনপ্রতিনিধিদের দিযে সই করিযে হলফনামা জমা দেওয়া গেলেও আর তা চলবে না। বিষয়টি নিযে তণমূলের অন্দরেও প্রশ্ন উঠছে। কারণ, পঞ্চাযে থেকে জেলাপরিষদ- সবস্তরে সিংহভাগ জনপ্রতিনিধি শাসকদলের। তাহলে সেই জনপ্রতিনিধিদের উপর কেন বিশ্বাস রাখা যাচ্ছে না, এমন প্রশ্নও শাসক-বিরোধী সব মহল থেকেই উঠছে। রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয মল্লিক মঙ্গলবার বলেছেন, ‘স্বচ্ছতা আনতেই এই সিদ্ধান্ত নেওযা হয়েছে।’ এদিকে, সহাযকমূল্যে ধান বিক্রি ও র‌্যাশন ব্যবস্থা দেখতে ২৪ জানুযারি উত্তরবঙ্গে আসছেন খাদ্যমন্ত্রী। কোচবিহার, আলিপুরদুযার ও শিলিগুড়িতে বৈঠক করবেন তিনি।

এদিন খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২৪ তারিখ কোচবিহার ও আলিপুরদুযারে ধান কেনা ও র‌্যাশন ব্যবস্থা নিযে বৈঠক হবে। ২৫ তারিখ জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলা নিযে উত্তরকন্যায় বৈঠক রয়েছে। সমস্ত ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হবে। নতুন কিছু নির্দেশও দেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘ধান বিক্রির জন্য রেজিস্ট্রেশনের সময় অন্যের জমিতে চাষ করা প্রান্তিক কৃষকদের যে হলফনামা দিতে হয় তাতে বিডিও, বিএলএলআরও, গ্রাম পঞ্চায়েতের সচিব- এই ধরনের আধিকারিককে দিয়ে সই করাতে হবে। সেখানে লেখা থাকবে, তিনিই প্রকৃত চাষি এবং তিনি তাঁর উৎপাদিত ধান বিক্রি করবেন। তারপর তাঁর রেজিস্ট্রশন করা হবে। ফড়েদের আটকাতে এবং স্বচ্ছতা আনতে এটা করা হচ্ছে।  কোনো জনপ্রতিনিধির স্বীকৃতি চলবে না। পঞ্চায়েত বা জেলাপরিষদের সদস্যের স্বাক্ষর গৃহীত হবে না। কারণ কোনো কোনো জনপ্রতিনিধির গাফিলতি আছে মনে হচ্ছে।’ খাদ্যমন্ত্রী জানান, গোটা রাজ্যের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম করা হয়েছে। তবে অন্যের জমিতে ধান চাষ করছেম এমন কৃষকের সংখ্যা খুবই কম। জনপ্রতিনিধিদের লেখা বা সই কেন নেওয়া হচ্ছে না? এ প্রশ্নের উত্তরে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতির বিষয় নেই। কাজটি ঠিকভাবে করতে ও স্বচ্ছতা বজায রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।’

- Advertisement -

খাদ্য দপ্তরের নয়া নিয়মে জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। তাঁদের অবিশ্বাস করে অসম্মান করা হচ্ছে বলেও কেউ কেউ মনে করছেন। দলের জনপ্রতিনিধিদের প্রতি অবিশ্বাস নিয়ে বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিরাও খোঁচা দিতে ছাড়ছেন না। কোচবিহার-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি গোপাল সরকার বলেন, ‘সরকারি সিদ্ধান্ত যেটা নেওয়া হয়েছে সেটা নিশ্চয়ই চিন্তাভাবনা করে নেওয়া হয়েছে। সরকারি কাজে যাতে কোনো রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপ না হয় তাই সরকারি আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। কোচবিহার জেলাপরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ গোপালচন্দ্র রায় বলেন, ‘সরকারি আধিকারিক বা কর্মীদের দাযিত্ব দেওয়া হয়েছে কারণ তাঁরা নির্দিষ্ট একটি স্থানে থাকেন। তাঁদের কৃষকরা সবসময় পাবেন। জনপ্রতিনিধিরা ব্যস্ত থাকেন অনেক সময়। সবসময় তাঁরা হয়তো এলাকায় থাকেন না। তাই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে হচ্ছে।’

আলিপুরদুযার জেলাপরিষদের সভাধিপতি শীলা দাসসরকার বলেন, ‘খাদ্য দপ্তর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা চিন্তাভাবনা করেই নিয়েছে বলে মনে করছি। তবে জনপ্রতিনিধিদের রাখা উচিত বলে মনে করছি। কারণ তাঁরা তো এলাকার লোকজনকে চেনেন। প্রকৃত কৃষক কারা তাঁরাই তা ভালো বলতে পারবেন। তাই জনপ্রতিনিধিদের রাখা উচিত ছিল।’ ফালাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুরেশ লালা বলেন, ‘বিষয়টি  জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি কী নিয়মের কথা বলা হয়েছে।’

জলপাইগুড়ি জেলাপরিষদের সভাধিপতি উত্তরা বর্মন বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিরাও প্রকৃত কৃষকের হলফনামা সার্টিফাই করতে পারেন বলে জানি। বিষয়টি নিয়ে জলপাইগুড়ি জেলাশাসকের দপ্তরে বৈঠকে তো তাই বলা হয়েছিল। এখন শুনছি জনপ্রতিনিধিরা তা পারবেন না। বিষয়টি জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’ শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি তাপস সরকার বলেন, ‘খাদ্যমন্ত্রী নিজেই বুঝতে পারছেন তাঁর দলের জনপ্রতিনিধিরা কোথায় চলে গিয়েছেন। দুর্নীতি হচ্ছে, তাই সরকারি লোকেদের হাতে দায়িত্ব দিচ্ছেন। আর সরকারি আধিকারিকদের দিয়ে লিখিয়ে নেওয়ার বিষয়টি জটিল। তাতেও সমস্যায়  পড়বেন চাষিরা।’

তথ্য- চাঁদকুমার বড়াল