খাদ্য দপ্তরকে চাল দেওয়া হয়নি, কাঠগড়ায় মিল মালিকরা

338

জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : প্রায় ৩ কোটি টাকার সরকারি চাল খাদ্য দপ্তরকে জলপাইগুড়ি জেলার তিনটি চালকলের মালিক সরবরাহ করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে খাদ্য দপ্তরের অভ্যন্তরীণ তদন্তের পাশাপাশি পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে একটি চালকল মালিকের প্রতিনিধিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। চুক্তি অনুসারে চালকল মালিকরা কেন খাদ্য দপ্তরকে ওই চাল সরবরাহ করেননি তা নিয়ে পুলিশের তরফে প্রতিনিধিদের জেরা করা হয়েছে।

তিনটি চালকল মালিকের বিরুদ্ধেই জেলা খাদ্য সরবরাহ দপ্তর পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে। সরকারি বিধি অনুসারে জেলার কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করে চালকলগুলিকে তা প্রক্রিয়াকরণ করে র‌্যাশন গ্রহীতাদের মধ্যে বিলি করে খাদ্য দপ্তর। প্রায় দেড় বছর আগে জল্পেশ মিনি রাইস মিল, রানিনগর সংলগ্ন এস কে অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং সরকার মিনি রাইস মিল-কে খাদ্য দপ্তরের তরফে ধান দেওয়া হয়। কিন্তু পুরো চাল খাদ্য দপ্তর পায়নি। চাল না পাওয়ায় জেলা খাদ্য নিয়ামক অমৃত ঘোষ জানিয়েছেন, তিনটি রাইস মিলের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

- Advertisement -

জল্পেশ রাইস মিলকে ৫,৪৭৩ মেট্রিক টন ধান দেওয়া হয়েছিল। এই ধান থেকে ৬৮ শতাংশ চাল হওয়ার কথা। জল্পেশ মিল কর্তৃপক্ষ ২,১৯৭ মেট্রিক টন চাল সরবরাহ করেনি। তারা মাত্র ১,৫২৫ মেট্রিক টন চাল দিয়েছে। এস কে রাইস মিল-কে ৩,২৭১ মেট্রিক টন ধান দেওয়া হয়। ওই মিল কর্তৃপক্ষ ৩২২ মেট্রিক টন চাল সরকারকে দেয়নি। সরকার রাইস মিলকে খাদ্য দপ্তর ৩,০৬৩ মেট্রিক টন ধান দিয়েছিল। ওই মিল ৯৭১ মেট্রিক টন চাল খাদ্য দপ্তরকে দেয়নি। খাদ্য দপ্তরের সেন্ট্রাল স্টোর থেকে এবং অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিগম থেকে তিনটি রাইস মিলকে ধান দেওয়া হয়েছিল। দেড় বছর পার হওয়ার পরেও প্রতিশ্রুতি মতো চাল না পাওয়ায় মিলগুলির উপর ক্ষুব্ধ খাদ্য দপ্তর। এ ব্যাপারে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। খাদ্য দপ্তরের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, গরিব মানুষকে র‌্যাশনে ভালো চাল দেওয়ার জন্য জেলার উৎপাদিত ধান থেকে চাল প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। কিন্তু সঠিক পারিমাণ চাল পাওয়া যায়নি। খাদ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে মিল মালিকদের বিরুদ্ধে।