ব্যাট হাতে মাঠে ফেরাই একমাত্র লক্ষ্য রিচার

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি : দীর্ঘপ্রতিক্ষার অবসানে আইপিএল খেলতে নেমে পড়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি, রোহিত শর্মারা। অপেক্ষায় রয়েছেন ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটাররাও। নভেম্বর মাসে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মাটিতেই মহিলাদের আইপিএল আয়োজন করতে পারে বিসিসিআই। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাট হাতে মাঠে ফেরা রিচা ঘোষের এখন একমাত্র লক্ষ্য।

আইপিএল না ঘরোয়া প্রতিযোগিতা সুযোগ কোথায় মিলবে, সেসব নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে আগামীর লক্ষ্যে নিজেকে তৈরি করতে শুরু করে দিয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ায় টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলে আসার পর থেকে শিলিগুড়ির বাড়িতেই রিচা রয়ে গিয়েছেন। গৃহবন্দি জীবনের যন্ত্রণা নিয়ে তিনি বলেছেন, প্রথম কয়েকটা মাস বাড়িতে বসে থাকার পর হঠাৎ আমার কাছে অনুশীলন শুরুর সুযোগ এসে যায়। লকডাউনের বিধি শিথিল হতেই দেবীডাঙ্গায় ভারত ক্রিকেট অ্যাকাডেমির ইন্ডোরে বাবাকে (মানবেন্দ্র ঘোষ) নিয়ে অনুশীলন শুরু করে দিই। ওরাই আমাদের কাছে প্রস্তাব নিয়ে আসে। অ্যাকাডেমির তরফেই এজন্য প্রযোজনীয় স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বোলিং মেশিন ও বাবার থ্রো ডাউনে ব্যাটিং প্র‌্যাকটিস চালিয়ে যাচ্ছি আমি। একই সঙ্গে ফিল্ডিং অনুশীলন করছি।

- Advertisement -

ক্রিকেটীয় স্কিলের সঙ্গে ফিটনেসের উন্নতিতেও মন দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, প্রতিদিনই জিম করতে যাচ্ছি। বিসিসিআইয়ে ফিজিক্যাল ট্রেনারের বেঁধে দেওয়া শিডিউল অনুসরণ করছি আমি। মাঝে সিএবি-র অনলাইন ক্লাসেও যোগ দিয়েছিলাম। ইন্ডোরে অনুশীলন করলেও মাঠে নেমে খেলার সুযোগ পাচ্ছি না। গতমাসে শিলিগুড়ির মহকুমা শাসকের কাছে কাঞ্চনজঙ্ঘা ক্রীড়াঙ্গনের একটা অংশ আমাকে অনুশীলনের জন্য খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলাম। বিষয়টি দেখবেন বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকতে নিয়ম করে সতীর্থদের সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে আড্ডাও দিয়ে চলেছেন রিচা। বলেছেন, কয়েকদিন আগে শেফালি ভার্মার সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় কথা হল। একদিন ঝুলদি (ঝুলন গোস্বামী) ফোন করেছিল। বাংলা হোক বা ভারত সব সতীর্থের সঙ্গেই যোগাযোগ আছে আমার।

তাঁর কথায়, সকলেই চিন্তিত, করোনার দাপটের মধ্যে কবে মাঠে নেমে ক্রিকেটে খেলার সুযোগ মিলবে, তা নিয়ে এর মাঝেই আমি চেষ্টা করেছিলাম টি২০ বিশ্বকাপের জন্য মিস করা মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে নেওয়ার। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের কাছে আবেদনও জানিয়েছিলাম। কিন্তু করোনার জন্য সেটা হল না। বাধ্য হয়ে ক্রিকেট আঁকড়ে ধরে আগামীর স্বপ্ন দেখছি।