অনুপ্রেরণা জুগিয়ে রিঙ্কিই বাবার কাছে দশভুজা

416

তমালিকা দে, শিলিগুড়ি : পুজোর প্যান্ডেল তৈরিতে বাবাকে অনুপ্রেরণা জোগায় রিঙ্কি। সমাজের কটূক্তি ও লাঞ্ছনা দুহাতে ঠেলে জীবনে বড়ো হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে বিশেষভাবে সক্ষম রিঙ্কি দাস। কখনও থেমে থাকেনি জীবনযুদ্ধে। পড়াশোনা থেকে শুরু করে বাড়িতে রান্না করা সব কাজেই এগিয়ে রিঙ্কি। ছোটো দুই ভাইকে পড়ায় সে। অভাবের সংসারে বাবাকে এগিয়ে যাওয়ার ভরসা জোগানোর দায়িত্বও তার। আঠারো বছর ধরে বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন  মেয়ে এই ভরসাতেই নিজের কাজে এগিয়ে চলছেন প্রভাস দাস। তিনি প্যান্ডেল তৈরির কর্মী। চার সন্তানের সংসারে আয়ের উত্স তিনিই। জন্ম থেকে মেয়ের শারীরিক গঠনের জন্য অনেকবার প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় তাঁকে। এমনকি কাজের জাঅনুপ্রেরণা জুগিয়ে রিঙ্কিই বাবার কাছে দশভুজা| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal Indiaয়গাতেও রেহাই মেলেনি। তবে ঘরে ফিরে এসে তাঁকে ফের কাজে যাওয়ার শক্তি জুগিয়েছে আঠারো বছরের রিঙ্কি। ইচ্ছে থাকলে কোনো প্রতিবন্ধকতাই কাউকে আটকে রাখতে পারে না, তার বড়ো উদাহরণ রিঙ্কি। প্রভাসবাবু বলেন, আমি প্যান্ডেল তৈরির কাজ করি। মেয়ে এই পরিস্থিতির জন্য অনেকবার অনেকরকম কথা শুনেছি। তবে আগে মানুষের কথা শুনে খারাপ লাগলেও এখন আর লাগে না। কারণ সত্যি বলতে একজন সুস্থ মানুষ যা পারে না আমার মেয়ে সেসব কিছু পারে। বাড়ির অন্য সুস্থ ভাইবোনদের থেকেও তার অংশগ্রহণ সব কাজে অনেক বেশি। আর্থিক পরিস্থিতি খারাপ থাকার জন্য মেয়ে জন্য চিকিত্সা সংক্রান্ত বেশি কিছু করতে পারি না। তবে আমার মেয়ে আমার কাছে দুর্গা। রিঙ্কির বহুমুখী প্রতিভায় মুগ্ধ তার স্কুলের শিক্ষিকারাও। বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে কাজ করা একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার  শিক্ষিকা রিতা চৌধুরি বলেন,রিঙ্কি নয় বছর ধরে আমাদের সেন্টারে পড়াশোনা করছে। পড়াশোনার পাশাপাশি হাতের কাজ, নাচ, গান, ছবি আঁকা, সেলাই সব কিছুতেই এগিয়ে সে। এত প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও ওর মনের ইচ্ছেশক্তি আমাদেরকেও হার মানায়। স্কুলের কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হোক বা পড়াশোনা সব কিছুতেই এগিয়ে আসে সে। ওর প্রতিভার কাছে সত্যি বলতে একজন সুস্থ মানুষও হার মানবে।  নিজের ব্যাপারে রিঙ্কির কথাও মাত্র একটাই, জীবনে এগিয়ে যাওয়াই আমার লক্ষ্য।