সামগ্রী কম দেওয়ায় রেশন ডিলারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ গ্রাহকদের

153

কুমারগঞ্জ: ভয়াবহ করোনা সংকটের মাঝে মাল কম দেওয়ার অভিযোগ তুলে রেশন ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভে ফেটে পড়লো গ্রাহকেরা। বিক্ষোভ এতটাই জোরালো ও সর্বতো ছিল যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কালঘাম ছুটে যায় পুলিশের। তীব্র চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ ব্লকের দিওর গ্রামে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত ও ব্যাপক হয়ে ওঠে যে অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেগ পেতে হয় ও প্রায় দু’ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রেশন ডিলার ভুলবশত কিছু মাল কম দেওয়া হয়ে থাকতে পারে জানিয়ে সেই মাল গ্রাহকদের পূরণ করে দেওয়া হবে আশ্বাস দিলেও গ্রাহকরা তা মানতে নারাজ। তারা জোরালো দাবি তুলেছেন, দীর্ঘকাল ধরে মালপত্র কম দিয়ে আসা দুর্নীতিগ্রস্ত এই ডিলারের অবিলম্বে লাইসেন্স বাতিল করে নতুন ডিলারের মাধ্যমে দিওড়ে রেশনের মালপত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। কুমারগঞ্জ ব্লক প্রশাসনের তরফে গ্রাহকদের অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

কুমারগঞ্জ ব্লকের দিওড়ে দীর্ঘ সময় ধরে রেশন ডিলারের কাজ করে আসছেন প্রদীপ কুমার গুহ। এই ডিলারের বিরুদ্ধে এলাকার গ্রাহকদের অভিযোগ, ‘করোনা সংক্রমণের আবহ ও লকডাউনের ভয়াবহ সংকটের সময়ে চাল, আটা, কেরোসিন তেল ইত্যাদি প্রতিটি জিনিসই গ্রাহকদের সরকারি বরাদ্দের চেয়ে অনেক কম দিচ্ছেন।’ এছাড়া কেরোসিন তেলের ক্ষেত্রে সকালে এক রকম ও বিকালে আরেক রকম দাম নিচ্ছেন বলে গ্রাহকদের অভিযোগ। সর্বোপরি বছরের পর বছর এই ডিলার রেশনে গ্রাহকদের মাল কম দেন বলে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। গ্রাহকদের এই সমস্ত অভিযোগ কে কেন্দ্র করে বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে দিওর রেশন ডিলারের দোকান। ব্যাপক বিক্ষোভের খবর পেয়ে কুমারগঞ্জ থানা থেকে ছুটে যায় পুলিশ ও সিভিক বাহিনী। প্রায় দুই ঘন্টার চেষ্টায় ডিলারের সঙ্গে কথা বলার পর বিক্ষোভ এদিনের মতো প্রশমিত হলেও গ্রাহকদের ক্ষোভ যে কমেনি তা তাদের কথায় পরিষ্কার। গ্রাহক কায়সার মন্ডল প্রচন্ড ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘দীর্ঘকাল ধরে এই রেশন ডিলার আমাদের মতো গরিব মানুষদের বঞ্চিত করে আসছেন। তার ব্যবহার ও গ্রাহকদের প্রতি কথা বার্তাও খুব খারাপ। তাই এই ডিলারের বিরুদ্ধে বিডিওর কাছে গণ দরখাস্ত জমা দিয়ে আমরা এই ডিলারের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানাব। আমরা নতুন যেকোন ডিলারের কাছে মালপত্র নিতে চাই। এই কাছে আমরা মাল নিতে ইচ্ছুক নই।’

- Advertisement -

প্রায় একই রকম অভিযোগ তুলে এই ডিলারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন বিনোদ হেমরম, অমল কর্মকার, দিলরুবা বিবি, পীযুষ কুমার গুহ , সাইদুর রহমান , নজরুল ইসলাম মন্ডলের মতো প্রায় তিন চার শো গ্রাহক। তারা খুব শীঘ্রই ব্লক প্রশাসনের কাছে লিখিত গণ অভিযোগ জমা দেবেন বলে জানান। এবিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে দিওড়ের রেশন ডিলার প্রদীপ কুমার গুহ বলেন , গ্রাহকদের অভিযোগ ঠিক নয়। এটা আমার বিরুদ্ধে একটা চক্রান্ত। তবে তিনি এটাও বলেন, ‘হয়তো ভিড়ে মালপত্র দেওয়ার সময় কারো ক্ষেত্রে ভুল বশত কিছুটা কম হয়ে থাকতে পারে। এমন যাদের ক্ষেত্রে ঘটেছে তারা আসলে তাদের মাল পূরণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন ডিলার।’ কিন্তু বিক্ষুব্ধ গ্রাহকের ডিলারের এই কথা কানেই তোলেন নি। এই বিক্ষোভ ও রেশন ডিলারের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে কুমারগঞ্জের বিডিও দেবদত্ত চক্রবর্তী বলেন, ‘দিওড়ে বিক্ষোভের খবর পেয়েছি। গ্রাহকেরা অভিযোগ জানালে তা তদন্ত করে অবশ্যই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’