বিশ্বমঞ্চে দ্বিতীয়বার সাফল্য পেলেন রিপন

- Advertisement -

তুষার দেব, দেওয়ানহাট : টানা দুবার ছবিতে বিশ্বজয় করলেন কোচবিহারের রিপন বিশ্বাস। ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম অফ লন্ডনের বিচারে ২০১৯-এর পর ফের তিনি ওয়াইল্ডলাইফ ফোটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ারের সম্মান পেলেন। মঙ্গলবার রাতে লন্ডনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই পুরস্কার ঘোষণা করে। এই পুরস্কার গোটা বিশ্বে অস্কার অফ দ্য ওয়াইল্ডলাইফ ফোটোগ্রাফি নামে পরিচিত। রিপনবাবু যা দুবার পেয়ে ভারতবাসী হিসেবে নজির গড়লেন। স্বভাবতই পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত ও গর্বিত।

কোচবিহার-১ ব্লকের ধলুয়াবাড়ির বাসিন্দা বছর ছত্রিশের রিপনবাবু পেশায় বলরামপুর হাইস্কুলের শিক্ষক। ফোটোগ্রাফি তাঁর নেশা। সুযোগ পেলেই ছবি তোলার টানে বনে-জঙ্গলে ঘুরে বেড়ান তিনি। জীববৈচিত্র‌্যের দিক থেকে দুনিয়ার সবচেয়ে স্বীকৃত জায়গাগুলির মধ্যে অন্যতম বক্সা তাঁকে বারবার টেনেছে। ফি বছর ন্যাশনাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম অফ লন্ডন ১৮টি ক্যাটিগোরিতে ওয়াইল্ডলাইফ ফোটোগ্রাফারদের পুরস্কৃত করে। ২০১৯ সালে অ্যানিমাল পোর্ট্রেট ক্যাটিগোরিতে পিঁপড়ে-মাকড়সার ছবিতে বাজিমাত করেন তিনি। এবার তিনি এই প্রতিযোগিতায় ওয়াইল্ডলাইফ পোর্টফোলিও ক্যাটিগোরিতে লাল পিঁপড়ে (ওয়োর অ্যান্ট)-র জিন চক্রের ছটি ছবি পাঠান। যা ফের তাঁকে সেরার শিরোপা এনে দিল।

২০১৯ সালে রিপনবাবু লন্ডনে গিয়ে জমকালো অনুষ্ঠানে শংসাপত্র, আর্থিক পুরস্কার গ্রহণ করলেও এবার করোনা পরিস্থিতিতে তা সম্ভব হয়নি। ফলে এবার অনলাইনে বাড়িতে বসেই তিনি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকেন। শীঘ্রই উদ্যোক্তারা তাঁর বাড়ির ঠিকানায় পুরস্কার পাঠিয়ে দেবেন। ম্যাক্রো ফোটোগ্রাফিতে আগ্রহী রিপনবাবু অবশ্য এর আগেও বিশ্বমঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। ২০১৬ সালে স্যাংচুয়ারি এশিয়া, ক্যামারেনা অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড, ২০১৭ সালে ইন্টারন্যাশনাল গার্ডেন ফোটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার (ফাইনালিস্ট) সম্মান পান। ওই বছরই তাঁর ছবি আমেরিকা থেকে ওয়াইল্ডলাইফ ফোটো অফ দ্য ইয়ার পুরস্কার পায়। দেশেও বহু পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

তবে টানা দুবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে পুরস্কার পেয়ে রিপনবাবু উচ্ছ্বাস প্রকাশে অত্যন্ত সংযত। এই সাফল্যের পিছনে পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও স্কুলের সহকর্মীদের বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। রিপনবাবু বলেন, ক্ষুদ্র কীটপতঙ্গের বিষয়ে প্রায় সকলেই উদাসীন। অথচ প্রকৃতিতে এদের বড় ভূমিকা রয়েছে। আমি আমার ছবিতে এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে থাকি। একইসঙ্গে উত্তরের বৈচিত্র‌্যময় বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে প্রশাসনের সঠিক পরিকল্পনা ও পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তিনি। রিপনবাবুর স্ত্রী শুক্লা বিশ্বাস, বন্ধু সঞ্জয় দে, সহকর্মী মৃন্ময় দে সকলেই তাঁকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত। ফোটোগ্রাফিতে তিনি আরও এগিয়ে যাবেন বলে আশাবাদী তাঁরা।

- Advertisement -