স্ট্রিট-ফুটবল থেকে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে স্যাঞ্চো

লন্ডন : এই তো সেদিনের ঘটনা। ২০১৭ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ খেলতে ইংল্যান্ডের যুব টিম ভারতে। টুর্নামেন্টে বল পায়ে নামার আগে তাঁকে ঘিরে শোরগোল। চুক্তিবদ্ধ ফুটবলার বলে বছর সতেরোর উঠতি মুখকে মাঠে নামতে দিতে নারাজ বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। তখন থেকেই প্রচারের আলোয় ভাসছে নামটা জ্যাডন স্যাঞ্চো।

কেন তাঁকে ঘিরে টানাপোড়েন, সেটা মাঠে নেমেই প্রমাণ করে দিয়েছিলেন ইংরেজ তরুণ। অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে চিলির বিরুদ্ধে জোড়া গোল। তবু ক্লাব-দেশ টানাপোড়েনে শেষপর্যন্ত টুর্নামেন্টের মাঝপথেই ফিরে যেতে হয়েছিল বুন্দেশলিগায়। স্যাঞ্চো-ম্যাজিক দেখা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল ফুটবলের মক্কা কলকাতা। স্যাঞ্চো অবশ্য থামেননি। সময়ে সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে পরিণত করেছেন। ওয়াটফোর্ড, ম্যান সিটির অ্যাকাডেমি ঘুরে বুন্দেশলিগায় ডর্টমুন্ডের জার্সিতে মাতিয়ে দিয়েছেন। গত মরশুম থেকে তাঁর জন্য হাপিত্যেশ করে বসে থাকা ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের জালে ধরা দিয়েছেন মাত্র ৭৩ মিলিয়ন ইউরোয়! মাত্র ২১ বছর বয়সে।

- Advertisement -

চলতি ইউরো কাপে ইংল্যান্ডের স্কোয়াডে রয়েছেন, তবু কেন স্যাঞ্চোকে খেলানো হচ্ছে না, প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রশ্নবাণে নাজেহাল গ্যারেথ সাউথগেট। স্বযং ওয়েন রুনি তাঁকে প্লেযিং টাইম দেওয়ার জন্য সওয়াল করেছেন। স্যাঞ্চো মানেই যেন এমনটা। মঠে নামার আগেই স্টার।

অবিশ্বাস্য এই উত্থানের সলতে পাকানোর কাজটা শুরু হয়েছিল অবশ্য অনেক আগে। ত্রিনিদাদিয়ান বাবা-মার সন্তান স্যাঞ্চোর বেড়ে ওঠা সাউথ লন্ডনের কেনিংটনের ঘিঞ্জি পরিবশে। সেখানকার রাস্তার অলিতে গলিতে ফুটবল-প্রেমের হাতেখড়ি রোনাল্ডিনহো, ফ্র‌্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড-ভক্ত জ্যাডনের। নিজেকে স্ট্রিট-ফুটবলার আখ্যা দেওয়া স্যাঞ্চোর কথায় ভিড় করেছে ছোটবেলার স্মৃতি। বলেছেন, বাড়ির কাছে একটা পার্ক ছিল, আমরা বলতাম ব্লু পার্ক। সেখানে প্রতিদিন ঘণ্টা দুই চলত আমাদের ফুটবল খেলা। আমি বাকিদের নাটমেগ করতাম, বল পায়ে নানা কৌশল দেখাতাম। এইভাবে বড়দের দলে মিশে গিয়েছিলাম। এই সব কৌশলই রাস্তায় খেলে শিখেছি। তাই নিজেকে স্ট্রিট ফুটবলার বলতে স্বচ্ছন্দবোধ করি।