সাঁকো ভেসে গিয়েছে, দেওগাঁওয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে

310

রাঙ্গালিবাজনা : জলের তোড়ে ফালাকাটা ব্লকের দেওগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মুজনাই নদীর সাঁকোগুলি ভেসে গিয়েছে। ফলে সপ্তাহ খানেক ধরে নদী পারাপারে হাজার হাজার মানুষের ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে নৌকা। বিকল্প কোনও ব্যবস্থা না থাকায় বিপজ্জনকভাবে ছোট ছোট নৌকায় চেপেই খরস্রোতা মুজনাই নদী পার হতে বাধ্য হচ্ছেন মাদারিহাট ও ফালাকাটা ব্লকের মানুষ। ছোট নৌকায় যেভাবে মানুষ, মালপত্র, সাইকেল, মোটরবাইক পার করানো হচ্ছে তাতে যে কোনও মুহূর্তেই দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকছে বলে আশঙ্কা অনেকেরই।

মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লক ও ফালাকাটা ব্লকের সীমানা বরাবর বয়ে গিয়ে এক সময় ফালাকাটা ব্লকের মধ্য দিয়ে গিয়েছে মুজনাই নদী। ওই নদী ফালাকাটা ব্লকের দেওগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সঙ্গে জটেশ্বর ও রাঙ্গালিবাজনা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাগুলিকে পৃথক করেছে। নবনগরে গঙ্গামঙ্গল ঘাট, পশ্চিম দেওগাঁওয়ের সাধনের ঘাট ও উত্তর দেওগাঁওয়ের লকিয়তউল্লাহ ঘাটে সাঁকো তৈরি করা হয় প্রতি বছর। গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে ঘাটগুলি ইজারা দেওযা হয়। সাঁকো পার হতে টাকা দিতে হয়। প্রতি বছর বর্ষায় সাঁকোগুলি ভেসে গেলে ইজারাদার নৌকা নামান নদীতে।

- Advertisement -

উত্তর দেওগাঁওয়ের লকিয়তউল্লাহ ঘাটের কাছে মুজনাই নদীতে মিশেছে ইকতি নদী। ফলে, ওই এলাকায় মুজনাই নদীতে স্রোতের তীব্রতা ও জলের পরিমাণও বেশি। ওই জায়গায় একসময় পাকা সেতু ছিল। ১৯৯৩ সালের বন্যায় পাকা সেতু ভেসে যায়। আজও তা তৈরি হয়নি। উত্তর দেওগাঁওয়ে বাসিন্দা সফিকুল হক বলেন, আদৌ সেতু আর তৈরি হবে কি না জানি না। তবে সেতু তৈরি না হওয়ায় পুরো এলাকাটি যোগাযোগের দিক থেকে বহু পেছনে পড়ে রয়েছে। দেওগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েতের কৃষকরা কৃষিপণ্য বিপণনের জন্য জটেশ্বর হাট ও মাদারিহাট ব্লকের শিশুবাড়ি হাটের ওপর নির্ভর করেন। অথচ নদীতে সেতু না থাকায় তাঁদের ঘুরপথে যাতায়াত করতে হয়। উত্তর দেওগাঁওয়ের বাসিন্দারা চিকিৎসার জন্য শিশুবাড়িতে অবস্থিত মধ্য রাঙ্গালিবাজনা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর ভরসা করেন। কিন্তু, বর্ষাকালে নদী ফুলে ফেঁপে উঠলে অনেক সময় নৌকা চেপে নদী পার হওয়াও অসম্ভব হয়ে পড়ে।

দেওগাঁও নাগরিক মঞ্চের সম্পাদক আবিদ হোসেন বলেন, যতদিন পর্যন্ত মুজনাই নদীর তিনটি ঘাটে সেতু তৈরি হবে না, ততদিন দেওগাঁও গ্রাম পঞ্চায়ে সহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলির যোগাযোগ ব্যবস্থা পিছিয়ে থাকবে। ফালাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুরেশ লালা বলেন, গঙ্গামঙ্গল ঘাটে সাঁকোর জায়গায় সেতু তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরে জমা দেওয়ার পর লকডাউন শুরু হওয়ায় প্রক্রিয়াটি আটকে রয়েছে। তবে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। মাদারিহাট বীরপাড়া পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ রশিদুল আলম বলেন, উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু লকডাউনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করা সম্ভব হয়নি। তবে, লকিয়তউল্লাহ ঘাটে পাকা সেতু তৈরি হবেই।