ডলোমাইট দূষণের আশঙ্কা, চরতোর্ষায় মাছের মড়ক

158

ফালাকাটা: চরতোর্ষা নদীর ঘোলা জলে মাছ ধরার হিড়িক পড়ে ফালাকাটায়। রবিবার রাতে ভুটান পাহাড়ে ভারী বৃষ্টি হওয়ায় ডলোমাইট মেশা ঘোলা জল নেমেছে চরতোর্ষা নদীতে। সেই জলে নানা প্রজাতির নদীয়ালি মাছ ভেসে উঠছে। সোমবার সকাল থেকেই ফালাকাটার ওই নদীতে মাছ ধরার হিড়িক পড়ে যায়। করোনা বিধি শিকেয় তুলে এদিন সকাল থেকে নদীতে মাছ ধরতে নেমে পড়েন বহু মানুষ। বংশীধরপুর, বালুরঘাট, শিশাগোড়, কালীপুর, আসাম মোড় এলাকার মানুষ নদীতে জাল ফেলে ও হাত দিয়ে মাছ ধরেন। প্রত্যেকেই গড়ে ২-৩ কেজি করে মাছ পান। শোল, বোরোলি, পুঁটি, ট্যাংড়া, রুই সহ আরও নানা প্রজাতির মাছ ধরতে পেরে খুশি এলাকার মানুষ। স্থানীয়রা জানান, ডলোমাইট মিশে জল ঘোলা হওয়ার জন্যই এদিন প্রচুর মাছ ভেসে ওঠে। এক্ষেত্রে নদীর বাস্তুতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদরা।

জানা গিয়েছে, ভুটান থেকে বয়ে আসা তোর্ষা নদীর সঙ্গে যোগ রয়েছে চরতোর্ষা। এই নদীর উত্তর দিকে উজানে জলদাপাড়া বনাঞ্চল। পাহাড়ে বেশি বৃষ্টি হলেই নদীর জল ঘোলা হয়। গতবারও নদীর ঘোলা জলে এভাবে মাছ ভেসে ওঠে। তবে এবার নদীতে ঘোলা জলের মাত্রা আরও বেশি। বিশেষজ্ঞদের দাবি, ডলোমাইট মিশ্রিত জলে অক্সিজেনের অভাবের কারণেই ভেসে ওঠে নদীয়ালি মাছ। ফালাকাটা ব্লক মৎস দপ্তরের আধিকারিক মানিক্য সরকার বলেন, ‘বিষয়টি ব্লক প্রশাসন ও মৎস দপ্তরের শীর্ষ মহলে জানাব।’ ফালাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির মৎস কর্মাধ্যক্ষ রামসিং কার্জি বলেন, ‘বিষয়টি উদ্বেগজনক। নদীর মাছ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসনিক স্তরে জানাব।’

- Advertisement -

শিশাগোড়ের বাসিন্দা নরেশ বালো বলেন, ‘এত ঘোলা জল আগে কখনও দেখিনি। ঘোলা জলের জন্যই নদীর মাছ ভেসে ওঠে। নদীর ধারে হাত দিয়েও অনেক মাছ ধরেছি।’ আসাম মোড়ের আরেক বাসিন্দা রঞ্জিত দাস বলেন, ‘এভাবে আগে কখনও নদীর মাছ ভেসে ওঠেনি। আজকে সবাই অবাক হয়ে গিয়েছি। তাই মাছ ধরার সুযোগ কেউ হাতছাড়া করেনি। আমিও ৩ কেজি মাছ ধরেছি।’  ফালাকাটার বাসিন্দা পরিবেশপ্রেমী প্রাণীবিদ্যার শিক্ষক ড. প্রবীর রায়চৌধুরি বলেন, ‘গতবারের থেকেও এবারের অবস্থা ভয়ানক। এভাবে ডলোমাইট নদীর জলে মিশলে মাছের পাশাপাশি অন্যান্য জলজ প্রাণীরও মারাত্মক ক্ষতি করে। নদীর বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়বে। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা।’