রেকর্ড বৃষ্টি, আমন ধান চাষে ক্ষতির আশঙ্কা

145
বৃষ্টির জলে ডুবে রয়েছে আমন ধানের জমি।

জাকির হোসেন, ফেশ্যাবাড়ি: চলতি মরশুমে কোচবিহার জেলাজুড়ে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতে এলাকায় আমন ধান রোপণে সমস্যা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ লকডাউনে ভুট্টা, কাচা সবজি ও বোরো ধানে লোকসানের পর চাষীরা আমন চাষে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল। কৃষকদের সেই আশা কতটা বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে সংশয়ে আছেন তারা। কারণ, বিগত বছর গুলির বার্ষিক বৃষ্টিপাতের তুলনায় চলতি বছরে মরশুম শেষ হওয়ার আগেই কয়েকগুণ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এরফলে জেলার একাধিক ধানের জমি জলের তলায়। স্বাভাবিক ভাবেই দিশেহারা জেলার ধান চাষীরা।

কোচবিহার জেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে খবর, চলতি মরশুমে গোটা জেলায় আড়াই লক্ষ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ জমিতে ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। যার বেশির ভাগ ধানের জমি এখন জলের তলায়।

- Advertisement -

জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, কোচবিহারে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ গড়ে ৩৪৫০.২৩ মিলি মিটার। কিন্তু চলতি মরশুমে ৩১ জুলাই পর্যন্ত জেলায় ৮৬৩৩.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তার মধ্যে তুফানগঞ্জ মহকুমায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। যা বিগত বছরের পরিসংখ্যানকে ছাপিয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। আর এই অধিক বৃষ্টিতে আমন ধানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত চাষীরা।

মাথাভাঙ্গা ২ ব্লকের আঠারোকোঠা কালপানি এলাকার কৃষক সফিউদ্দিন মিয়াঁ জানান, চাষের জমি তৈরি থাকলেও টানা বৃষ্টিতে চারাগাছ রোপণ করা যাচ্ছে না। ধানের চারা রোপণে দেরি হলে ফলন ভালো হবে না। এদিকে এদিকে দিনে দিনে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ছে। কী হবে, কিছুই বুঝতে পারছি না।

কোচবিহার ২ ব্লকের কালপানি গ্রামের কৃষক সজল বসুনিয়া বলেন, প্রবল বৃষ্টিতে ধান খেত ডুবে রয়েছে। নতুন করে চারাগাছ রোপণ করতে পারছি না। এদিকে ধানের চারা রোপণ করা জমির জলস্তর না নামলে চারাগাছ মারা যাবে। টানা লকডাউনে একাধিক ফসল নষ্ট হয়েছে। ধান না হলে কীভাবে আগামী দিনে বেঁচে থাকবো জানি না।

একই সুর শোনা গিয়েছে প্রেমেরডাঙ্গার চাষী খাইরুল হক, কোচবিহার ১ ব্লকের মোয়ামারির চাষী কুন্তেশ্বর বর্মন ও ওয়াশিম আক্রামের গলায়। টানা বর্ষণে সবজি চাষে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে বলে জেলা উদ্যান পালন দপ্তরের আধিকারিক বিপ্লব সরকারও জানিয়েছেন।

তবে, ধান চাষের ভবিষ্যৎ নিয়ে চাষীদের আশঙ্কার কথা মানতে চাননি জেলা কৃষি দপ্তরের আধিকারিকরা। কোচবিহার জেলা সহকৃষি অধিকর্তা রজত চট্টোপাধ্যায় (প্রশিক্ষণ) বলেন, সাধারণত অগাস্ট মাসের অর্ধেক দিন পর্যন্ত আমন ধান রোপণ করতে পারবেন চাষিরা। ইতিমধ্যে জেলায় প্রায় ৮০ শতাংশ জমিতে চারাগাছ রোপণ করা হয়ে গিয়েছে। জলস্তর নামতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে চাষীদের। এক্ষেত্রে নীচু জমিতে বলান রোয়া রোপণ করলে ক্ষতির আশঙ্কা কম থাকে।