করোনার পর এবার বিউবোনিক প্লেগের আশঙ্কা চিনে, জারি সতর্কতা

555

বেজিং: করোনার জেরে প্রায় বেহাল অবস্থা বিশ্বের। তার মধ্যেই এবার এসে হাজির বিউবোনিক প্লেগ। চিনে এই রোগের প্রাদুর্ভাব হয়েছে। সে দেশের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, চিনের উত্তরাংশের একটি শহরে বিউবোনিক প্লেগের ফলে মহামারির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নতুন করে এই রোগ খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে আশঙ্কা করে মঙ্গোলিয়ার মতো জায়গাগুলিতে তৃতীয় স্তরের সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, সময় থাকতে সতর্ক না হলে এ রোগও করোনার মতো মহামারির আকার নিতে পারে। গত বছর ইনার মঙ্গোলিয়ার বায়ান-উলগি প্রদেশে এক দম্পতি বিউবোনিক প্লেগে আক্রান্ত হন। তড়িঘড়ি চিকিৎসা শুরু হলেও তাঁদের বাঁচানো যায়নি। তাই নতুন করে বিউবোনিক প্লেগের খবরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে সেখানে।

শনিবার বায়ানুরের একটি হাসপাতালে প্রথম বিউবোনিক প্লেগে সংক্রামিত এক জনের সন্ধান মেলে, যা নাকি ভয়ঙ্কর সংক্রামকই শুধু নয়, প্রাণঘাতীও বটে। এরপরেই স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তরফে সতর্কতা জারি করে বলা হয়, বর্তমানে এই শহরে এই প্লেগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। জনসাধারণকে তাই স্বাস্থ্যসুরক্ষা সম্পর্কে সচেতন ও সজাগ থাকতে হবে। যাঁদের শরীরে এই রোগের লক্ষণ দেখা যাবে, তাঁরা যেন বিন্দুমাত্র দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। জানা গিয়েছে, আপাতত ২০২০ সালের একেবারে শেষপর্যন্ত এই স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি থাকবে।

- Advertisement -

১ জুলাই চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম শিনহুয়া জানায়, পশ্চিম মঙ্গোলিয়ার খোভড প্রদেশে (ইনার মঙ্গোলিয়া অটোনমাস রিজিয়ন) সম্প্রতি দুই সম্ভাব্য বিউবোনিক প্লেগ সংক্রামিতের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। তাঁদের টেস্ট রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তাঁদের একজনের বয়স ২৭ বছর এবং অন্য জনের বয়স ১৭ বছর। তাঁরা সম্পর্কে দুই ভাই। স্থানীয় এক স্বাস্থ্য আধিকারিক জানিয়েছেন, সংক্রামিত দুজন পাহাড়ি ইঁদুরের মাংস খেয়েছিলেন। দুটি পৃথক হাসপাতালে আইসোলেশনে রেখে ওই দুজনের চিকিৎসা চলছে। তাঁদের সংস্পর্শে আসা আরও ১৪৬ জনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। সেই নিয়ে হইচইয়ে মধ্যেই শনিবার বায়ানুরের একটি হাসপাতালে আরও এক জন সন্দেহভাজন বিউবোনিক প্লেগ সংক্রামিতের হদিশ মেলে।  এরপর পাহাড়ি ইঁদুর বা ওই জাতীয় প্রাণীর মাংস না খাওয়ার জন্য প্রশাসনের তরফে বাসিন্দাদের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, কোথাও এই ধরনের প্রাণীর মৃতদেহ দেখলেও দেরি না করে স্থানীয় প্রশাসনকে জানাতে।

বিউবোনিক প্লেগকে মধ্যযুগে বলা হত ব্ল্যাক ডেথ। অত্যন্ত ছোঁয়াচে এই রোগ মূলত ছড়ায় ইঁদুর, কাঠবেড়ালি জাতীয় প্রাণী থেকে। আক্রান্ত মাছি কামড়ালে এই রোগ হতে পারে। তবে মানুষ থেকে মানুষে এই রোগের সংক্রমণ বিশেষ দেখা যায় না।

প্লেগ এক ধরনের ব্যাকটিরিযা (ব্যাকটিরিয়াম ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস) ঘটিত রোগ, যা তিন ধরনের হয়। বিউবোনিক, সেপটিসেমিক আর নিউমোনিক। প্রাথমিকভাবে বিউবোনিক বা সেপটিসেমিক প্লেগ সংক্রমণের পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে হতে নিউমোনিক দশা তৈরি হয়। অত্যন্ত ছোঁয়াচে এই রোগ মূলত ছড়ায় ইঁদুর, কাঠবেড়ালি জাতীয় প্রাণী থেকে। সংক্রামিত মাছি কামড়ালেও এই রোগ হতে পারে। প্লেগ ব্যাকটিরিয়া কাঠবেড়ালি বা বুনো ইঁদুরের ফুসফুসেও বাসা বাঁধে।

প্লেগের মধ্যে সব থেকে বিপজ্জনক নিউমোনিক প্লেগ। উপসর্গ বলতে জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা এবং কাশি। কাশির মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। বিউবোনিক প্লেগে মৃত্যুর হার ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ। নিউমোনিক প্লেগের এখনও কোনও চিকিত্সা নেই। তবে ঠিক সময়ে ধরা পড়লে বিউবোনিক, সেপটিসেমিক ও নিউমোনিক তিন ধরনের প্লেগ থেকেই সেরে ওঠা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এই অসুখে আক্রান্ত রোগীর সময় মতো চিকিৎসা না হলে ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে মৃত্যু হতে পারে।